ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

নাঈমুল ইসলাম খান সম্পর্কে অনেক কথা শোনা যায়। অনেকে বলেন, ওনার পিতা রাজাকার ছিলেন। অনেকে বলেন, উনি রাজাকার পুত্র হিসেবে সবচে বেশি সুবিধা পেয়েছেন। বিএনপি-জামাতের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোশকতায় উনি জেগে উঠেছেন। অনেকে বলেন, উনি এখন ভোল পাল্টে আওয়ামীলীগের পক্ষে কথা বলে, তবে সবসময় একটা বাঁক থাকে তাতে, এবং ঐ বাঁকটাই হচ্ছে শিকড়।

যাই হোক, আমি ওসব দিকে যাব না। জানিও না সবকিছু পরিস্কারভাবে। তবে বিভিন্ন টকশোতে দেখিছি, উনি পরিস্কার করে কিছু বলেন না, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যা বলেন তাতে কোন অর্থ দাঁড়ায় না। বোঝা যায় যে, কোথাও ঘাপলা আছে, অর্থাৎ উনি মুক্তমনে কথা বলতে পারেন না। হয়ত কোথাও বাধা পড়ে আছেন, সবসময় ‘কুল রাখি না শ্যাম রাখি’ ভাব। যে লেখাটির কথা বলছি, এটিতে উনি খুব নগ্নভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। “এটা কি জার্নালিস্টিক স্ট্যাটাস” শিরোণামের লেখাটিতে তিন প্রবীর শিকদার ভুল, এবং তাকে গ্রেফতার করা কেন সঠিক ছিল, সেটি প্রমাণ করতে চেয়েছেন। তা হতে পারে, সেটি প্রমাণ করার অভিপ্রায় তার থাকতে পারে। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে তিনি আমাদের ভুল তথ্য দিয়েছেন।

লেখাটির শুরুতে তিনি বলেছেন, “প্রবীর সিকদার সাংবাদিক না অ্যাক্টিভিস্ট? আমরা যদ্দুর জানি, তিনি সাংবাদিকও, অ্যাক্টিভিস্টও। একই মানুষ যখন একাধিক কাজ করে, তখন আমরা কনফিউজড হই। এই কারণে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম যে, সাংবাদিক কখনও অ্যাক্টিভিস্ট হবে না।”

এটি একটি ভুল তথ্য। সাংবাদিকতার একজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে এবং পরবর্তীতে কিছু রেফারেন্স ঘেটে নিশ্চিত হয়েছি যে, সাংবাদিকের এক্টিভিস্ট হতে কোনো বাধা নেই। বরং পৃথিবীতে এরকম অনেক বিখ্যাত সাংবাদিক রয়েছেন, যারা একিভিস্টও। শুধু তাই নয়, বিষয়টা এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে, এক্টিভিস্ট-জার্নালিস্ট নামে একটি টার্ম অ্যাকাডেমিক্যালি রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে- দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত থাকা নাঈমুল ইসলাম খান কি এটা জানেন না, নাকি তিনি আমাদের জেনে বুঝে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন?

এরপর উনি বলেছেন, “…কারণ জার্নালিজমের একটা শর্ত হলো- আপনি কোনো অভিযোগ করতে পারবেন না উইথআউট অ্যানি সাবস্ট্যানশিয়ালিটি।” এটিও বিভ্রান্তিকর। অভিযোগের সাথে প্রমাণের কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগ একটি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। আমার জীবন নিয়ে শঙ্কা থাকলে আমি কেন তা আমার পরিচিতজনদের জানাতে পারব না? একজন জার্নালিস্ট তো একজন ব্যক্তি মানুষও। প্রবীর শিকদার ঐ স্ট্যাটাসটি নিশ্চয়ই একজন সাংবাদিক হিসেবে দেননি, দিয়েছেন একজন ব্যক্তি হিসেবে। তাই মি. খান বিষয়টি নিয়ে কূটতর্কের অবতারণা করেছেন বলে মনে হয়েছে। এবং সবশেষে তিনি যেভাবে ঘুরিয়ে মন্ত্রীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এবং প্রবীর শিকদারকে ক্রিমিনাল বানিয়েছেন, তা সত্যিই উদ্বেগজনক।

তিনি লিখেছেন, “একজন হয় তো সঠিকভাবে জমিটা কিনেছেন কিন্তু আমি যদি তাকে পছন্দ না করি সে তখন তার বিরুদ্ধে লেগে গেলাম। বলে যে হিন্দুর জমি জোর করে নিয়েছে। খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে, ওই লোকটাও ওই জমিটা কিনতে চেয়েছিলেন। না পেরে মিথ্যে অভিযোগ ছড়িয়ে বিষয়টাকে ভিন্নরূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। প্রবীর যে বললো সে খুন হলে তিনজন দায়ী হবেন। এটা সিভিল অফেন্স নয়, একেবারে ক্রিমিনাল অফেন্স। এটার জন্য যদি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, এটা অপরাধমূলক মত প্রকাশের জন্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য নয়। প্রবীর যেটা করেছে সেটা ডেঞ্জারাস কমেন্ট। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এটা করা অন্যায়। আবার গ্রেপ্তার করার পর প্রবীরকে নির্যাতন করা হয়েছে-এমনটা বলা হচ্ছে। যদি সত্যিই এমন কিছু হয়ে থাকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি তার প্রতিবাদ করছি।”

মি. খানের সর্বশেষ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিত্রে একটি কথা বলতে চাই। আমি যদি আমার মৃত্যুশঙ্কার কথা চিন্তা করে মি. নাঈমুল ইসলাম খানকে দায়ি করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি, তাহলে কি সেটা ক্রিমিনাল অফেন্স হবে? প্রবীর শিকদার স্ট্যাটাসটি দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, এটি তিনি কিসের ভিত্তিতে বললেন? তাই প্রবীর শিকদারের ঐ স্ট্যাটাসটি যেমন এক্টিভিজম, একইভাবে মি. খানের এই লেখাটিও এক্টিভিজমই হয়েছে। লেখাটি কোন সুনিদিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি, এখানে সুস্পষ্টভাবে কারো বিপক্ষে বলা হয়েছে, যেটি একজন সাংবাদিক করতে পারেন না বলে মত দিয়েছেন লেখক নিজেই। ৫৭ ধারাটি এমনই ধোঁয়াশাপূর্ণ যে, মি. প্রবীর এই লেখার প্রেক্ষিত্রে মি. খানের বিরুদ্ধে উক্ত আইনে মামরা করলে তাকেও নিশ্চয়ই গ্রেফতার করার সুযোগ রয়েছে।