ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

এদেশে বাম বিপ্লবের কোনো বাস্তবতা না থাকলেও এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে বামভীতি আছে। সম্ভবত প্রচলিত বামপন্থা এখন আর কার্যকর নয়, এবং সে ধরনের কোনো ক্ষমতায়ন কোনো দেশে আর হবেও না হয়ত। তারপরেও লুটের মাল যারা ভোগ করছে এবং লাগাতার লুটপাট করছে, তাদের মধ্যে বামভীতি রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটা সমীকরণও নিশ্চিয়ই রয়েছে। বর্তমান সরকার যে এখন রাশিয়া এবং ভারত বলয়ে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং পালে হাওয়া পাচ্ছে সে কথা বলাই বাহুল্য, তবে এ কথা নিশ্চয়ই সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চাইবে না, কারণ, যেহেতু তারা এখনো বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের উপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে বিভিন্ন ধরনের নাটক করতে হচ্ছে, গণতন্ত্রের ভণিতা তো আছেই, সাথে বিভিন্ন ধরনের বাক চাতুর্যও দেখা যায়।

এখন সরকারের মধ্য থেকে তাদের শরিক হওয়া স্বত্তেও বাম বিরোধী যে কথাবার্তা হচ্ছে, এমনকি বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনাটির জন্যও জাসদ এবং তৎকালীন বামদলগুলো দায়ী করা হচ্ছে, এর মধ্যে সত্য অনুধাবনের চেয়ে নাটকীয়তা বা কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। নাটকীয়তা বলতে- এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে সরকার সমাজে এক ধরনের ‘বুঝ’ তৈরি করতে চাইতে পারে, যাতে ব্যবসায়ী, লুটপাটকারী এবং উগ্র ডানপন্থীরা ঠাণ্ডা থাকে, এবং তারা ভেবে নেয় যে, সরকারের ‘ঐ’ ধরনের কোনো চিন্তা মাথায় নেই।

শেখ সেলিম এবং মাবুবুল আলম হানিফের বক্তব্য ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করতে চাইলে এমনটিই মনে হয়। উল্লেখ্য, বিএনপির বর্তমান মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপনের সাথে সুর মিলিয়ে শেখ সেলিম এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, “বাম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল”

প্রশ্ন হচ্ছে- এই বক্তব্য কি তারা প্রয়োজনে করেছে, নাকি বাধ্য হয়ে করেছে? ‘প্রয়োজন’ বলতে- জনগণকে কৌশলে ঠাণ্ডা রেখে কার্যসিদ্ধি করা, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে ধাবিত হওয়া। তবে এটি ভাবা কঠিন যে, বর্তমান সরকারের এ ধরনের কোনো মহৎ অভিপ্রায় আছে, যদি না প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কার্যালয় এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইতিমধ্যে অর্জন করে থাকে।

আসাদুজ্জামন রিপন, শেখ সেলিম এবং মাহবুবুল আলম হানিফের এ ধরনের বক্তব্যের মধ্যে রাজনীতির কোনো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত থাকতে পারে। সম্ভাব্য যেটি হতে পারে- বিএনপি’র কিছু নেতাকে সরকারের সাথে নিয়ে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠনের চেষ্টা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাসিত করা এবং জামাতকে আগে অফ সাইডে নিয়ে, তারপর বিচার করা। এটি করার জন্য উপরের বক্তব্যটির প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চয়ই রয়েছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকার তথা আওয়ামীলীগকে অবশ্যেই বিএনপিকে কথা দিতে হবে যে, তারা বামপন্থার দিকে ঝুঁকে গিয়ে সরকার পরিচালনা করবে না, কথা শুধু বিএনপিকে দিতে হবে তা অবশ্যই নয়, হয়ত আন্তর্জাতিক শক্তিমত্তাকেও কথা দেওয়ার প্রশ্ন রয়েছে।