ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ধর্মের কারণে শুধু মুসলামনরা হত্যা করে, এটি একেবারেই সত্য ভাষণ নয়। ধর্মের অজুহাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সব ধর্মেই ঘটে, কিন্তু মুসলামান কেউ হত্যা করলে ঘটনাটা যেভাবে প্রচার করা হয়, অন্য ধর্মের লোকেরা হত্যা করলে ততটা প্রচার পায় না। এর কারণ কী ঠিক জানি না। নরওয়েতে, সম্ভবত ২০১১ সালে, আন্দ্রে ব্রেইভিক নামে এক জঙ্গী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে এবং উটোয়া দ্বীপে হামলা চালিয়ে ৭৭ জনকে হত্যা করে। ধমীয় কারণেই সে ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। তার ক্ষোভের বিষয় ছিল- নরওয়েতে মুসলাম অভিবাসন ক্রমাগতভাবে বেড়ে যাওয়া। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখেছি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে নানান ঢং এ ব্যা্খ্যা করা হয়েছে, ব্রেইভিক মানসিক রোগী ছিল বলেও সংবাদ প্রচার হয়েছিল, কিন্তু ঘটনাটিকে কখনই সন্ত্রসবাদ বলা হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে ২৯ আগস্ট, শনিবার ভারতের কর্নাটকে সুপরিচিত যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ এবং হাম্পি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমএম কালবুর্গিকে হত্যা করে বজরঙ্গী নামে একটি হিন্দু জঙ্গী গোষ্টী, কিন্তু এ নিয়ে তেমন কোনো সমালোচনা চোখে পড়ছে না। উল্লেখ্য, ৭৭ বছর বয়স্ক ড. কালবুর্গিকে তার নিজ বাড়িতে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ ধারণা করছে সম্প্রতি মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে এই শিক্ষকের কিছু মন্তব্যের সাথে এ ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে। কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের কাছে কালবুর্গি একজন হিন্দুবিরোধী লেখক এবং বক্তা হিসেবে পরিচিত। অনেকদিন ধরেই হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন কালবুর্গি। হুমকির কারণে তাকে পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছিল। তবে ১৫ দিন আগে তিনি নিরাপত্তা তুলে নিতে বলেছিলেন বলে জানায় একটি সংবাদমাধ্যম।

বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবনার সুযোগ রয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে থাকি বলে অন্য ধর্মের বিষয়গুলো আমরা খুব একটা অনুধাবন করি না। তবে কট্টরপন্থা কিন্তু উপমহাদেশে তথা সারা বিশ্বেই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সেটিকে যতই কাউন্টার টেরোরিজম হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, আখের তা টেরোরিজমই, কালবুর্গির মত মুক্তচিন্তকের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা আরো বেশি স্পষ্ট হল।
একটা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে- অমুসলিম কেউ ধর্মের কারণে খুন করলে সেটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অন্যকিছু, কিন্তু মুসলিম কেউ ধর্মের কারণে খুন করলে সেটিকে অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ বলা হয়। এটি একেবারেই অযৌক্তিক। এভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা করা যাবে না, বরং সন্ত্রাসবাদ বেড়ে যাবে, যাচ্ছে। জঙ্গীবাদকে শুধু নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের সাথে সম্পর্কিত ভাবার চেয়ে সামগ্রিক অর্থেই ধর্মীয় জঙ্গীবাদ বলা উচিৎ। মুসলিম জঙ্গীবাদ নয়, বলতে হবে ধর্মীয় জঙ্গীবাদ।