ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে একটুও গর্ববোধ করি না। এবং গর্ববোধ করার কোনো কারণও দেখি না। আমার এমন কোনো সুকর্ম বা ত্যাগ নেই যার জন্য আমি গর্ববোধ করতে পারি। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি বলে ‘গর্ববোধ’ !! এটা কোন ধরনের গর্ব?

শুধু গর্ববোধ করেই আমরা ক্ষান্ত হচ্ছি না, বিভিন্নভাবে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে চলা। ষণ্ড-গুন্ডা-ধুর্ত-বৈশ্য-বেশ্যারাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙায় সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এটাও এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা।

সংখ্যা বিচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি সংখ্যক ভালো শিক্ষার্থী রয়েছে। অনুপাতে হয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি। তাছাড়া ভাল ছাত্রের সজ্ঞাটাই বা কী। একটা নির্দিষ্ট সিলেবাস পড়ে কোথাও চান্স পাওয়ার মধ্যে ভালত্বের কি আছে? এইসব অংক-ইংরেজি-বাংলা-সাধারণ জ্ঞান পারতে খুব বেশি মেধা কি লাগে? একটু চালাকি বুদ্ধি থাকলেই তো এসব পারা যায়, যায় না?

মেধা লাগে সৃষ্টি করতে। পিথাগোরাসের মেধা ছিল, কারণ, সে উপপাদ্যটা সৃষ্টি করেছে; কিন্তু ওটা বুঝতে কতটুকু মেধা লাগে? সে মেধার মূল্যই বা আসলে কতটুকু? তবে ওটা কাজে লাগাতে হয়ত কিছু মেধা লাগে, এবং সে মেধার মূল্য আছে। কাজে লাগাতে পারলে নতুন প্রযুক্তি আসে, জীবন সহজ হয় তাতে। আর একটা কথা- ভাল রেজাল্ট আর ভাল ছাত্র নিশ্চয়ই এক কথা নয়, এক কথা কী? পাশাপাশি ভাল ছাত্র আর ভাল মানুষও নিশ্চয়ই এক কথা নয়।
কথা হচ্ছে- বুয়েট, মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় -এইসব সাম্প্রদায়িকতা থেকে বেরোনো দরকার। বিচার করা উচিৎ কাজ দিয়ে। ট্যাগ নিয়ে ধান্দা করার কোনো সুযোগ আর থাকা উচিৎ নয়।