ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

কে সাম্প্রদায়িক? সাম্প্রদায়িক মানেই কি সে খারাপ? সাম্প্রদায়িক মানেই সে খারাপ না, তবে সাম্প্রদায়িকতা অবশ্যই খারাপ। সাম্প্রদায়িকতা এক ধরনের ট্রেন্ড, একজন ভালো মানুষও সাম্প্রদায়িক আচরণ করতে পারে।

ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন ‘সাম্প্রদায়িকতা কেন ট্রেন্ড’। ‘ট্রেন্ড’ শব্দটির সহজ অর্থ হচ্ছে- সমাজের গড়পড়তা টেনডেনসির (ঝোঁক) দিকে ধাবিত হওয়া।

এখনো বিশ্ববাস্তবতা হচ্ছে- ধর্মকেন্দ্রিক জাতিসত্তা বা সম্প্রদায়। এবং একটি ধর্মকেন্দ্রিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত থেকে অন্যকোনো ধর্মকেন্দ্রিক সম্প্রদায়ের লোকেদের খারাপ/ফালতু ভাবাটা হচ্ছে ট্রেন্ড।

এটিকে একটু সহজ করে ব্যাখ্যা করা যায়, যেমন আমরা সচারচর বলে থাকি কুমিল্লা-নোয়াখালি-চাঁদপুর-বরিশাল অঞ্চলের লোক খারাপ। অর্থাৎ এরকম বলাটা হচ্ছে একটা ট্রেন্ড। এই অভিধায় বিশ্বাস করে না, এরকম অনেক লোকও কিন্তু ঢালাওভাবে কখনো কখনো মন্তব্য করে ফেলে। অর্থাৎ সমাজের অভ্যাস ব্যক্তির অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় ব্যক্তির অজান্তে।

শিশু কি কিছু বোঝে এসব? তারপরেও দেখা যায় একজন শিশু সাম্প্রদায়িক আচরণ করে। এর কারণ হচ্ছে ঐ ট্রেন্ড। সমাজের এই ট্রেন্ড বা ঝোঁক কিন্তু ব্যক্তিমানুষ পরিবর্তন করতে পারেব না। গুটিকতক মানুষও পারবে না, চাইলেও পারবে না।

এর দায় নিতে হয় রাষ্ট্রের। বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে সমাজের এই বিধ্বংসী ঝোঁক থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হয়। ’৭২ এর সংবিধানে সে চেষ্টা ছিলও।

কিন্তু এরপর সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম যোগ করে জনগণের সাম্প্রদায়ীক ঝোঁক উস্কে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ উচ্চ আদালতের ভাষ্য (রাষ্ট্রধর্ম থাকবে) এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিঃসন্দেহে বিষয়টি সমাজকে আরো বেশি সাম্প্রদায়িক আচরণ করতে আশকারা দেবে।