ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

১.

হেফাজত ইসলামের আমীর বলেছেন, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে কেউ কোন নেতিবাচক কথা বললে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তো নিশ্চয় সবার জানা থাকা দরকার ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ কি, নাহলে নিজের অজান্তেই কোন মন্তব্য করে ফেঁসে যেতে পারেন। সরকার আপনারে বাঁচাতে পারবে না, কারণ, সরকার হেফাজতের চেয়ে শক্তিশালী নয়। সরকার হেফাজত না হলেও হেফাজতই সরকার।

জেনে নিন তাহলে সেই পাঁচটি স্তম্ভ সম্পর্কে-
* শাহাদাহ্
* নামাজ
* যাকাত
* রোজা
* হজ্জ্ব

তবে এখানে একটি সমস্যা আছে। প্রথম স্তম্ভের কারণে হিন্দু এবং নাস্তিকেরা রেহাই পাচ্ছে না। প্রথম স্তম্ভের অর্থ হচ্ছে- আল্লাহর একত্ব এবং এবং মুহাম্মদ (সাঃ) যে তার শেষ নবী সে শপথ নেওয়া। এখন যেহেতু হিন্দুরা বহুত্ববাদের পূজা এবং প্রচার করে, অতএব, প্রথম স্তম্ভ অস্বীকার করায় তারা এমনিতেই টার্গেট। আর ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করায় নাস্তিকেরা টার্গেট। অতএব, এ নিয়ে কোন কথা না বললেও খুব বেশি লাভ আসলে আখেরে হবে না। অজ্ঞেয়বাদ টা খারাপ না, অজ্ঞেয়বাদ মানে নিজেরে —- হিসেবে ঘোষণা করা। এইটা বাঁচার একটা পথ হইতে পারে।

 

.

তুমি যদি ধার্মিক হয়ে থাক, তাহলে তোমাকে এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতেই হবে। যারা সমর্থন করছেন না তাদের বিদ্যমান ধর্মশিক্ষায় গলদ আছে। যদি বলেন কোথায় হত্যা করার কথা লেখা আছে, আপনার জানার কথা। সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে। শাস্ত্রমতে এই হত্যাকাণ্ড শতভাগ সঠিক। সরকারও কি ভুল কিছু করেছে, নির্বাচনী কেন্দ্রে হত্যা, বাঁশখালিতে হত্যা সবই তারা নিয়মমাফিক করেছে। রাষ্ট্রীয় আইন মোতাবেকই হয়েছে। অভিজিৎ রায়, নাজিমুদ্দীন সামাদ, নীলয় নীল, ওয়াশিকুর বাবুদের হত্যা করা হয়েছে “মর্তের আইন” দ্বারা, যে আইন পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ মানুষ মানে। বাঁশখালিতে হত্যা এবং নির্বাচনী কেন্দ্রে সুজন মৃধাদের হত্যা করা হয়েছে সংবিধান মতে, যে সংবিধান দেশের নাগরিক থাকতে গেলে মানতে হয়। অর্থাৎ সবই ঠিক আছে। রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে সংবিধানের যেমন সশস্ত্র পাহারাদার আছে, তেমিন মর্তের আইনেরও সশস্ত্র পাহারাদার আছে এবং তারা রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী।

 

৩.

যখন কেউ বলে ধর্ম ঠিক আছে, মানুষ বিপথগামী হয়েছে, তখন আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কৌতুকটা করা হয়ে যায়। যারা ধর্মটা পয়েন্ট টু পয়েন্ট মানছে তাদের বলছ- বিপথগামী, আর তুমি জাগাখিচুড়ি পাকিয়ে বলছ- পথে আছ! এখানে মডারেশনের কোন জায়গা নেই, একস্ট্রিম অর নট। যেমন- সংবিধান মানা বা না মানা, এর মাঝামাঝি কি থাকতে পারে? তুমি যদি ধর্মটা মেনে থাক তাহলে তুমি পত্রিকায় রাশিফল প্রকাশ করতে পার না। আনন্দ পাতায় ক্যাটারিনার নগ্ন কোমরের ছবি প্রকাশ করে পাঠক বাড়াতে পারো না। মানলে তোমাকে সবটুকুই মানতে হবে। সুবিধামত মান, আবার সুবিধামত মান না, তাতো হয় না। এইজন্য আমি জিহাদীদের সম্মান করি। তারা প্রতারণা করছে না। শাস্ত্রমতে চলছে।