ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাজারে আপনি কত রকমের চিপস্ দেখেন? কমছে কম একশো রকম চিপস আছে বাজারে। চকলেট আছে কত রকমের, তা দু’শো পদের কম না। পানীয় আছে তাও একশো রকমের কম না। এটা উদাহরণ মাত্র, এরমক অনেক কিছুর কথা বলা যায়। এইগুলো না থাকলে আপনার আনন্দ বিনোদনে কোন ঘাটতি হত বলে কি আপনি মনে করেন? হত না। এগুলো মূলত বিজ্ঞাপন নির্ভর পণ্য। মূল খরচটা হয় এখানে বিজ্ঞাপনে এবং প্যাকিংএ। শিশু হোক আর আমরা হই, কিনছিও ঐ বিজ্ঞাপন দেখে দেখে। এতে অর্থনীতির কোন উপকার হয় না নিশ্চয়ই, ক্ষতি হয় নিশ্চিত, তবে ক্ষতিটা ঠিক কিভাবে হয় তা বোঝার জন্য আরেকটু চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

অবশ্য, একটা উপকারী দিক খুঁজে পাওয়া যায়। এত এত মিডিয়ার উত্থানের পিছনে এইসব পণ্যের ভূমিকা আছে। মিডিয়া বাড়লে দিনশেষে সমাজের কিছু লাভ হয়। তবে ক্ষতির পরিমাণটা খুব বেশি বলেই মনে হয়। প্রচুর আবর্জনা তৈরি হচ্ছে, অহেতুক লেনদেনে ট্রানজেকশন জ্যাম তৈরি হচ্ছে, আয়-ব্যয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া এসব পণ্যে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির বিষয় তো আছেই।

বিষয়টা এভাবে আরেকটু ব্যাখ্যা করা যায়-
ধরা যাক কারো মাসিক উপার্জন ১০,০০০ টাকা। এখন মাসে পাঁচশো টাকা যদি বিজ্ঞাপনের ধাক্কায় এসব পণ্য কিনে খরচ হয়, তাহলে এখানে তার তিন ধরনের ক্ষতি হয়।
১। টাকা নষ্ট হল, যে টাকাটা তাকে আয় করেই প্রয়োজনীয় জায়গায় খরচ করতে হবে, ফলে তার ঝুঁকি বাড়ল। অথবা প্রয়োজনীয় জায়গায় তার ঘটতি তৈরি হবে। এটা তার অজান্তেও হতে পারে।
২। পণ্যটা কিনতে তার কিছু সময় নষ্ট হল।
৩। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ল এবং এখানে অহেতুক কিছু মানুসিক চাপ তৈরি হল।
অথচ এসব জিনিস না থাকলেও তার আনন্দ বিনোদনে ঘাটতি হত না, বরং চমৎকার উপায় খুঁজে বের করত, আর বিকল্প তো আছেই ।

বলতে চাচ্ছি- সরকারের উচিৎ এক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা। কেউ একটা চিপসের বা সুগন্ধীর ফ্যাক্টরি খোলার জন্য লাইসেন্স চাইল সঙ্গে সঙ্গে সরকার দিয়ে দিল। তাতো হয় না। যেহেতু বাংলাদেশও laissez fair অর্থনীতিক নীতিতে চলছে, তাই চাইলেও সরকার এক্ষেত্রে খুব বেশি কড়াকড়ি করতে পারবে না, তবে ট্যাক্স বাড়িয়ে নিরুৎসাহিত করতে পারে নিশ্চয়ই । এক প্যাকেট চিপসের দাম যদি ৩০ টাকা হয়, তখন অনেকেই কিনবে না। যারা অঢেল টাকা আছে বলে কিনবে, তার পকেট থেকে অন্তত ২০টাকা জমা হবে সরকারের কোষাগারে, যে টাকাটা কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যায়। তাতে একটা ব্যালেন্স হয়।