ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
১২

ছোটবেলায় একটা প্রবাদ শুনতাম বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। সেই থেকেই আমার সদরঘাট দেখার ইচ্ছা। ঢাকায় এসেই তা দেখেছিও। কিন্তু ভেতরকে কেন সরদঘাট বলা হয়, তা বুঝি না। এতটুকু বুঝি যে, ভেতরটা অন্তঃসারশূন্য।

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন ফুটওভার ব্রিজের উপর ফুলের গাছ লাগানো হচ্ছে। টবে ফুলের গাছ লাগানো এবং তা বাঁচিয়ে রেখে বিনোদিত হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।

আচ্ছা, এটা কি আমাদের সরকারের জানা আছে যে, অনেক ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে দিনে যত মানুষ হাঁটে রাতে তার চেয়ে বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নেয়? তাদের মুত (শুদ্ধ শব্দ এখনে বেমানান) চাপলে রাত্রে ঐ টবের মধ্যেই করবে, তাতে অন্তত নিচে মধ্যরাতের কোনো বেসামালের মাথায় পড়বে না। মুতে গাছের উপকার হয় কিনা তা অবশ্য আমার জানা নেই। ঐ ফুল গাছ ক্ষুধার্ত ঐসব মানুষের কাছে বাল গাছের সমান, তাই মাঝে মাঝে ডাল ভেঙ্গে দাঁত ঘষলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেউ হয়ত গাছের পাতায় পেয়ে যাবে কোনো তরিকা।

পরিচ্ছন্ন ঢাকা সিটি গড়ার জন্য নানান উদ্যোগ চোখে পড়ছে। বসানো হয়েছে ঝুলন্ত ডাস্টবিন। প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে শক্ত ম্যানহোলই থাকে না, সেখানে এই ঝুলন্ত ডাস্টবিন কতক্ষণ বহাল থাকবে?

না, অবশ্যই পরিচ্ছন্নতার পক্ষে আমি, ফুলও আমার খুব ভালো লাগে। কথা হচ্ছে- কোটি কোটি মানুষকে অভুক্ত-অশিক্ষিত রেখে আপনাদের এই সব অভিযান ঠাট্টা-মশকারা ছাড়া অন্য কোনো অভিধা পায় না।

এই পরিচ্ছন্ন অভিযানটা আমরাই শুরু করেছিলাম। এখন বিষয়টা অনেক বড় হয়েছে বলে কথাটা বিশ্বাসযোগ্য হয় না নিশ্চয়ই। কিন্তু কথা সত্য। ২০০৯ সালে আমরা শুরু করেছিলাম “পরিচ্ছন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসূচী” [প্রমাণ নিচের লিংকে দিয়েছি]

এক সময় আর কনটিনিউ করতে পারলাম না। ছাত্রলীগ আমাদের কার্যক্রমের মধ্যে কী জানো খুঁজে পেল। ওরাই বাদ সাধলো। পরবর্তীতে দেখলাম, “ক্লিন-ক্যাম্পাস, সেইফ ক্যাম্পাস” নামে কর্মসূচীটি ওরা পরিচালনা করছে।

এর আগে আমাদের কর্মসূচী দেখেই জাপান থেকে একশোজন শিক্ষার্থী এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসরে সাথে সমজোতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচ-কানাচ পরিষ্কার করল। অর্থাৎ, বিষয়টা এনজিও হয়ে গেল, ফান্ডের প্রয়োজন হল। কাজও এগোলো।

আমরা খুশি হলাম। আরো খুশি হলাম, কারণ, কর্মসূচীটি বিস্তার লাভ করে পুরো ঢাকা শহরে ছড়াল। মেয়র মহোদয়ও যুক্ত হলেন।

কিন্তু পদ্ধতিগত ভুল থেকেই যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচী পরিচালনা করা আর পুরো ঢাকা শহরে বা বাংলাদেশে এই অভিযান পরিচালনা করা এক কথা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের মেসেজটা ছিল, তোমরা শিক্ষিত-সচেতন, তোমরা কেন নোংড়া করো?

পুরো দেশের বেলায় এই স্লোগান খাটে না। ছিন্নমূল, ‘অশিক্ষিত-অসভ্য’ মানুষকে পরিচ্চন্ন থাকার সামর্থ অর্জন করার সুযোগ না দিয়ে, তাদেরকে পরিচ্ছন্নতা না শিখিয়ে এই কর্মসূচী সফল করা যাবে না।

আগে কাজ করতে হবে মানুষ নিয়ে। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। ঢাকা শহরের ছিন্নমূল মানুষদের পরিচ্ছন্ন করতে হবে আগে। ভাবতে হবে প্রতিদিন তারা কোথায় টয়লেট করে, তা নিয়ে।

এসব ভাবতে না পারলে দেখা যাবে ঝুলন্ত ঐ ডাস্টবিনে শুধু তাদের মল-মুত্রই থাকবে, পথচারীদের ফেলে যাওয়া বাদামের খোশা মিলবে না। অচিরেই ঐ ডাস্টবিনগুলোই থাকবে না।

http://blog.bdnews24.com/tuntimunti/180259

১২

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।