ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

মৃত্যু ব্যতীত জীবনের আর কোনো লক্ষ্য থাকতে পারে না। পারে কি? জন্ম থেকে মৃত্যু একটি নিরবিচ্ছিন্ন পথমাত্র। জন্ম যদি সে পথের শুরু হয়, মৃত্যুতে শেষ। মাঝখানে কোলাহল, দুঃখ, বিষাদ, সুখ সবই অনুষঙ্গ । আবশ্যিকতা বলে মানুষের জীবনে কিছু কি থাকতে পারে? ক্ষুধা-তৃষ্ণা ব্যতীত আর কিছুই কি অনিবার্য?

প্রিয়তমা, একটি ভালো চাকরি, গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদির চেয়ে শুধু পথটাই কি মুখ্য নয়? প্রত্যেকের জীবনপথের নকশাই তো আলাদা, মিলবে কেন? মেলাতে হবে কেন? তুমি আমি জোর করে একই পথে! কেন? কতক্ষণ? দুজন পথিক পথমধ্যে প্রয়োজনে মিলেছি মাত্র, প্রেমের অজুহাতে স্থুল জৈবিকতা ঢেকে রেখে। প্রেম ফুরালেও পথ তো ফুরায় না। আবার হাঁটতে হয়।

দীর্ঘ অজানা একটি পথ আমাদের পাড়ি দিতে হয়, এটাই মূলত জীবনের চ্যালেঞ্জ। অজানা একটা পথ, অথচ পথটি প্রতি মুহূর্তে তৈরি করে চলেছি আমি নিজেই। আসলে কি নিজে তৈরি করতে পারছি? সেই জীবনই সেরা যে নিজের জীবনপথের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখতে পেরেছে।

মুশকিল হচ্ছে পথটি কত দীর্ঘ এবং কতটা সরল অথবা বক্র তা আমরা জানি না, তবে দীর্ঘতা অন্তত অনুমান করা যায়। জীবনটাকে স্বাভাবিকভাবে যদি সত্তর বছরের ধরি, তাহলে পথটাকে খণ্ড খণ্ড করে নিলে মন্দ হয় না।

এবং সামনে দৃশ্যমান পথের প্রতিটি অংশ ধীরস্থিরভাবে পার করাটাই হতে পারে জীবনের সার্থকতা। তাড়াহুড়া করে সফলতাকামী হওয়ার চেয়ে, কল্যাণকর হওয়াতেই বরং পথটা সরল থাকে।

আমি যদি কোথাও ব্যর্থ হই, তাহলে ব্যর্থতার রাস্তা ধরে আমাকে এগোতে হবে, আমি যদি দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যাই, তাহলে পঙ্গুত্বের রাস্তা ধরে আমাকে এগোতে হবে, কারণ, লক্ষ্যটা আমি জানি, ঠিক ঐ পর্যন্তই আমাকে পৌঁছতে হবে।

নিশ্চয়ই আমি চেষ্টা করব সুস্থতায়, সবলতায়, স্বচ্ছলতায় এবং আনন্দে থেকে জীবনের এই ভ্রমণপথটুকু অতিবাহিত করতে। এরপর কী আছে আমি জানি না, জানার প্রয়োজনও বোধ করি না।