ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

ধর্মের যেমন স্বর্গ আছে সংস্কৃতিরও তেমনি স্বর্গ আছে। সিলেটের শাহজালালের মাজার যেমন একটা মাজার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রও একটা মাজার এবং কোনোটিই খারাপ নয়। খুব বেশি পার্থক্যও নেই। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ব্যক্তি মানুষের খোরাক, সমষ্টির নয়। সমষ্টির কাছে বিনোদনের দিকটা গুরুত্বপূর্ণ মাত্র।

বই পড়াতে চাওয়া প্রয়োজনীয়, তবে সবার জন্য সেটি সাহিত্য-সংস্কৃতির বই হওয়ার কথা নয়, ওটা কেউ পড়লে নিজে থেকেই পড়বে। সামনে হাজির করার কাজটির অবশ্যই গুরুত্ব রয়েছে। সেদিক থেকে কেন্দ্রগুলোর অবদান স্বীকার করতেই হবে।

মূলত পড়ানো প্রয়োজন তাদের, যাদের শিক্ষা নেই, জানার সুযোগ নেই, এবং সেটি অবশ্যই প্রথমত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বই নয়, তাদের পড়াতে হবে স্বাস্থ্য সচেতনতার বই, তাদের পড়াতে হবে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার বই, তাদের পড়াতে হবে প্রাথমিক আইনের বই, যাতে তারা আগে বাঁচতে পারে। যতটুকু সাহিত্য প্রয়োজন তা পাঠ্য বইয়ে থাকে, সেটুকু ঠিকঠাক মত বিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে কিনা -সেটি দেখা বরং বেশি গুরুত্বপূর্ণ।পাঁচটা বই পড়ে যদি কারো বোধ তৈরি না হয় তাহলে পাঁচশো বই পড়ে হবে ভাবার কোনো কারণ নেই, তাতে বরং শুধু কচকচানিই বাড়ে।

শিল্প-সাহিত্যের বই দরকারী, সে দরকার যে মিটাচ্ছে তাকে সম্মান না করার কোনো কারণ নেই, তাই বলে এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে ওটা সমাজকে এগিয়ে দিচ্ছে মোটেও।

মাজারে যেমন লোকসমাগম হয়, তেমন সাহিত্য আড্ডায়ও হয়, রবীন্দ্র সঙ্গীতের আয়োজনেও হয়; এবং মাজারে বা লালনের আখড়ায় যেমন আধ্যাত্মিকতা এবং দর্শনের চর্চা হয় না, এসব সাহিত্য আড্ডাগুলোও তেমন শুধু ভাবালুতার মধ্যেই আটকে থাকে, ভবিষ্যতের কোনো দিক নির্দেশনা ওখান থেকে আসে না, গণ মানুষকে এক ইঞ্চিও এগিয়ে দেয় না।

তাছাড়া এটাও তো সত্য বৈষিয়ক কষ্ট সব দূরে হলে উপচে পড়া সম্পদের অংশবিশেষ নিয়ে যেমন মানুষ ধর্মগৃহে যায়, এক্ষেত্রেও সেরকমটি হয়, মানুষকে মাড়িয়ে কেউ মন্দির-গীর্জায় যায়, কেউবা সাহিত্য আড্ডায় সামীল হয়। পার্থক্য কিছু থাকলেও ফলাফল প্রায় একই হয়।

কষ্টে যে ধার্মীক সে নিজ গৃহে/নিভৃতে ধর্মচর্চা করে, কষ্টে যে সাহিত্যিক বা পাঠক সে নিজে নির্জনে সাহিত্য চর্চা করে বা পড়ে। আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে সেটিকে বিনোদনের চেয়ে বেশি কিছু বললে সেখানেই আপত্তি।