ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be

আন্তর্জাতিক এক বুলেটিন থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে এখন প্রায় ১৬ হাজার পারমাণবিক বোমা মজুদ আছে। মোট নয়টি দেশের কাছে এ পরিমাণ বোমা মজুদ রয়েছে। বেশিরভাগ বোমা রয়েছে নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এরমধ্যে অনেক বোমা নিক্ষেপযোগ্য অবস্থায় রাখা আছে, অর্থাৎ চাইলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তা শত্রুপক্ষের উপর নিক্ষেপ করা সম্ভব। বেশিরভাগ বোমা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে ৭১০০ টি বোমা, এবং রাশিয়ার কাছে রয়েছে ৭৩০০টি। এছাড়া ফ্রান্সের কাছে ৩০০টি, যুক্তরাজ্যের কাছে ২১৫টি, চীনের কাছে ২৬০টি, পাকিস্তানের কাছে আছে ১২০টি, ভারতের ১১০টি, ইসরাইল ৮০টি এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে রয়েছে ৮টি পারমাণবিক অস্ত্র।  তবে ইসরাইল কখনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে না।

%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র এমন এক ধরনের যন্ত্র যা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট প্রাপ্ত প্রচণ্ড শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মুহূর্তে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। পারমাণবিক বোমা এতটাই শক্তিশালী যে একটা সাধারণ বোমা আকৃতির পারমাণবিক বোমা পুরো একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। এক হাজার কেজি ওজনের একটি পারমাণবিক বোমা যা করতে পারে তা করতে সাধারণ বোমা লাগবে এক বিলিয়ন কেজি।

জার্মান বিজ্ঞানী অটোহ্যান ১৯৩৮ সালে ফিশান বিক্রিয়ায় সন্ধান পান। নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া মূলত অনেক বিজ্ঞানীর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের ফলাফল। প্রথম ফ্রেডরিক হান্ড এবং রবার্ট এটকিনসন আইনস্টাইনের নোবেল বিজয়ী সূত্র E = mc 2 থেকে ধারণা নিয়ে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেন।

নিউক্লীয় সংযোজন একধরনের কেন্দ্রীয় বিক্রয়া যাতে দুটি হাল্কা পারমাণবিক নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ও বিপুল পরিমাণ শক্তি তৈরি করে। ফিউশন বিক্রিয়ায় নিউক্লীয় সংযোজনের মাধ্যমে দুটি কম ভরের পরমাণু একত্রিত হয়ে একটি বেশি ভরের পরমাণু ও বিপুল পরিমাণ শক্তি তৈরি করে। ফিশান ও ফিউশন উভয় ধরনের পারমাণবিক বোমা রয়েছে।

যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। এ সময় জাপানের দুটি শহরে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। লিটল বয় নামের প্রথম বোমাটি ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা শহরে এবং ফ্যাট ম্যান নামক দ্বিতীয় বোমাটি তিনদিন পর জাপানের নাগাসাকি শহরে নিক্ষেপ করা হয়। এর ফলাফল ছিল ভয়াবহ, ধারণাতীত। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও ক্ষতিকর আলোক-কণা বিকিরণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিল প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার লোক। তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে ধীরে ধীরে আরো অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছিল।

পারমাণবিক হামলা পৃথিবীতে এরপর আর না ঘটলেও অনেক দেশ তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং এখনো বাড়াচ্ছে। ফলে পৃথিবী মোটেই ঝুঁকি মুক্ত নয়। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধংদেহী অবস্থায় বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সত্যিই বেধে গেলে তা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া মোটেই অসম্ভব নয়, এবং ব্যবহার শুরু হবে সম্ভবত পাকিস্তানের দিক থেকে, যেহেতু তারা অন্যান্য সামরিক শক্তির দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

ইতিমধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সে ধরনের হুমকিও এসেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ গতকাল এই হুমকি দেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র শো-পিস হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্য আমরা বানাইনি। পাকিস্তানের সামা টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন পাকিস্তানের পরমাণু বোমাগুলোর নিয়ন্ত্রণ আসলে পাকিস্তানের কাছে নেই।

পারমাণবিক যুদ্ধ যদি একবার বেধেই যায় সেটি বিশ্বযুদ্ধেও রূপ নিতে পারে। এবং সে যুদ্ধে শেষ হয়ে যেতে পারে পুরো পৃথিবী। মাত্র দুটি বোমায় জাপানে যে অবস্থা হয়েছিল তার চেয়ে শক্তিশালী ষোলো হাজার বোমায় তাহলে কী হতে পারে! অনেক বিজ্ঞানী, সমাজ বিজ্ঞানী মনে করেন, পারমাণবিক বোমাগুলো অবশ্যই ধ্বংস করে ফেলা উচিৎ। এবং একইসাথে পারমাণবিক পরীক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা আরো জোরদার করতে হবে।