ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আমরা যা পড়ি এগুলো মূলত তৈরি জিনিস। অর্থাৎ, আমরা কিছু বানাই না, ব্যবহার করি। জিনিস কিনে এনে সেটির ব্যবহারবিধি জানতে হয়, আমাদের পড়াশুনাটাও তেমনই। এখানে ভালো পারা মানে কে কত তাড়াতাড়িতে ব্যবহারটা ধরতে পারে। ঠিক ব্যবহারের বিষয়ও নয়, কারণ, ব্যবহারীক পড়াশুনার ক্ষেত্র ক্রমম্প্রসারিত হলেও যাচাইমূলক পড়াশুনাই এখনো বেশি। অর্থাৎ আমাকে কোনো দায়িত্ব দিলে তা পালন করতে পারব কিনা, অর্থাৎ, আমার বুদ্ধিসুদ্ধি, ভাষাগত এবং সংখ্যাবাচক জ্ঞান আছে কিনা তা যাচাই করতেই এত আয়োজন, সার্টিফিকেট বিতরণ।

বিষয়টা প্রধানত বুদ্ধির-চালাকির। এর সাথে মেধার খুব বেশি সম্পর্ক নেই। যে বেশি চালাক সে তাড়াতাড়ি পারবে, যে কম চালাক তার একটু সময় বেশি লাগবে। যে বেশি সময় দেবে (বেশি পড়বে) সে বেশি পারবে যদি একইসাথে চালাকও বেশি হয়। বিষয়টি এমনই।

পরীক্ষায় অংকে আশি পাওয়া লোকের গুরুত্ব অংকে ত্রিশ পাওয়া লোকের চেয়ে সমাজে বেশি হলেও আদতে বেশি নাও হতে পারে। সমাজে অবদান ঐ ত্রিশ পাওয়া লোকটিরই বেশি থাকতে পারে।

এই পড়াশুনা নিয়ে ঢোল পিটানোর কিছু নেই। যেহেতু পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ আজাইরা, প্রজাতির ধারাবাহিকতা মাত্র, খেয়ে পরে মরে যাওয়ার জন্য, তাই ব্যবহারবিধি নিয়েই আমাদের কাণ্ডকারখানা বেশি। বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনি পিস্তলের ব্যবহার শিখেছেন (পড়াশুনায সফল হয়েছেন) ভালো কথা, কিন্তু পিস্তল হাতে এখন ডাকাতি করবেন, নাকি পাহারা দিবেন সেটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরি পাওয়া তো অারেক এলাহী কাণ্ড। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরই মূলত চাকরি দিয়ে দেওয়া উচিৎ। তারপর চার/পাঁচ বছর আরো পড়াশুনা চলতে পারে তবে সেটি হওয়া উচিৎ একেবারে ঐ চাকরি রিলেটেড পড়াশুনা। অনার্স এবং মাস্টার্স করার যোগ্য হলে মাস্টার্স হবে চাকরি পাওয়ার পর। ধরুণ, ইন্টার পাস করার পরই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে ঠিক কে কী করতে চায়, ডাক্তার এবং নার্সদের ক্ষেত্রে যেমন হয়। অনেকটা ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রেও। যে ব্যাংকে চাকরি করতে চায় সে ব্যাংকে চাকরির পরীক্ষা দেবে। ব্যাংকে চাকরি পেলে সে ব্যাংকিং বা রিলেটেড বিষয়ে পড়বে। বা খুব সুনির্দিষ্ট হয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।

মোদ্দা কথা হচ্ছে, সকল চাকরির পরীক্ষা হয়ে যাওয়া উচিৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা চলাকালীন। কিছু বিশেষ ক্ষেত্র বাদে যে কোনো চাকরিতে আবেদন করার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ইন্টারমিডিয়েট পাশই যথেষ্ট। হতে পারে সে তখনই পারফর্ম করবে না। রাষ্ট্র একটা ভাতা দিয়ে তাকে পড়িয়ে নেবে। এরপর সে পুরোদস্তুর চাকরিটা করবে। বা নিজেকে সেখানে আনফিট মনে হলে সুইস করার সুযোগ খুঁজবে বা অন্যকিছু করবে।

কারণ, চার বছর অনার্স পড়ার পর আবার স্কুল সিলেবাসে ফিরে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। বিষয়টি রীতিমত পশ্চাদগামীতা! ও যাচাই তো আগেই হয়ে গিয়েছে। বর্গমূল না পারলে তো আর সে এতদূর আসতে পারেনি, নাকি? তাহলে আবার তাকে মৌলিক সংখ্যা চেনার পরীক্ষা দিতে হবে কেন? অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আবার বাংলা ব্যাকরণ/ইংলিশ গ্রামার পড়তে হবে? যদি বিশেষ কোনো ব্যবহারীক গুরুত্ব না থাকে তাহলে তা পড়তে হবে কেন? ব্যাংকের ক্যাশ পরিচালনা করবে যে বা একজন ট্যাক্স কর্মকর্তার নিঁখুতভাবে ইংরেজি গ্রামার জানার প্রযোজন কী? তার চেয়ে বেশি জরুরী তাঁর ঐ পেশার এবং তাঁর নিজের যদি কোনো শখের জায়গা থেকে থাকে সেখানে বেশি করে সময় দেওয়া। তাতে সার্বিক উৎপাদন অনেক বেশি হবে নিশ্চয়ই।

এসব জীবনের নির্মম অপচয় ছাড়া কিছু নয়। সংস্কার দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরি বণ্টনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন দরকার।