ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

অসংগঠিত, অনির্ধারিত, বেনামী পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে দেশের অনেক মানুষ। অর্থনীতির মূল হিসেব-নিকেষে তারা নেই। তবু তারা আছে, কোনমতে, জনসংখ্যা হয়ে, গণতন্ত্রের ভোট হয়ে শুধু।

সংগ্রাম

যান্ত্রিক এত যানবাহনের মধ্যে তাল রেখে ঠেলাগাড়ি ঠেলা সহজ কথা নয়। সে কাজটিও করে চলেছেন অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিদে, বা শুধু জীবনটাে এভাবে কেটে যাচ্ছে বলে বেহিসেবী অভ্যস্থতায়।

কুলি-মজুর

লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটে এভাবে ব্যাগ টেনে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেক মানুষ, যাদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। আসলে পিতা-মাতার পাপ এবং অজ্ঞতার বোঝা বইছে তারা।

ব্যতিক্রম রিক্সাওয়ালা

এই রিক্সাওয়ালা আবার একটু ব্যতিক্রম। বর্ষায় রিক্সা চালাচ্ছেন নিজেকে বিশেষ কায়দায় মুড়ে।

চাওয়ালা

চায়ের দোকান। চীরচেনা দৃশ্য। তবু কি চেনা আসলে?

16

ক্ষুধারও যে সৌন্দর্য থাকে সেটি এই ছবিটিতে ফুটে উঠেছে চমৎকার।

কৌশলী জীবিকা

চুল বাঁধার কৌশল বিক্রী করেন এই বিক্রেতা।

দুধ যোগান

বাসায় বাসায় দুধের যোগান দিয়ে যান তিনি। মাঝে মাঝে ক্লান্ত দেহের ভার গিয়ে ভর করে দুধের পাত্রে।

ঝাড়ু বিক্রী

হাক ডেকে ঝাড়ু বিক্রী করে সে। কোনো কোনোদিন কিছুই হয় না, খুবই অনিশ্চিত পেশা, তবু এ ছাড়া কিছু করার নেই তার। শুধু সময় পিছনে পড়েছে, শরীরটাও ক্ষয়ে ক্ষয়ে কিছু বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক কিছুই বাড়েনি এদের। তাই একটা কিছু ঠেলার কথা ঠেলছে। কয়েকদিন এটা ঠেলে, আবার কয়েকদিন ওটা, এভাবে মরে-বেঁচে জীবন কাটে।

মুরগীওয়ালা

কায়দা মত দুইজন খরিদ্দার পেলেই সারাদিনের লাভ হয়ে যায় তাদের। অনেক সময় খুব কঠিনও হয়। তবে পেশাটায় হেনস্থা অনেক। স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে।

তরকারীওয়ালা

তরকারী ফেরি করে বেড়ান তিনি। তবে কাজটা খুব কঠিন এভাবে দুই ঘাড়ে বিশাল বোঝা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। মুরগীর মত খুব সহজে বেশি লাভ করা সম্ভব হয় না তরকারী বেঁচে।

ফুচকাওয়ালা

স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে এভাবে ফুচকা বিক্রী করে অনেকের জীবিকা নির্বাহ হয়, বিশেষ করে ঢাকা শহরে।

পুরনো টায়ার

টায়ার কেটে জমিয়ে রাখা হচ্ছে। এগুলো কিনে নিয়ে যাবে ছোট শিল্প মালিকরা, যেখানে এ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি হয়।

ওয়েলডিং মিস্ত্রি

ওয়েলডিং করছেন এমনকি চোখে চশমা পর্যন্ত না দিয়ে। ঢাকার ধোলাইখালে এটা নৈমিত্তিক দৃশ্য।

টক ফল বিক্রী

ঢাকা শহরের সচরাচর দৃশ্য। কিন্তু এভাবে পত্রিকা পড়তে খুব একটা কাউকে দেখা যায় না।

ডাবওয়ালা

ঢাকা শহরে ইদানিং ডাব বিক্রী হয় প্রচুর, বিশেষ করে গরমের সময়। তবে এই বিক্রেতা নতুন, তাই কাটতে গিয়ে জড়তার ছাপ পড়েছে মুখে।

টোকাই

আাঁস্তাকুড়ে থেকে ভাঙ্গাড়ি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে অনেকে। টোকাইদের অর্থনীতি নিয়ে জরিপ চালালে সেটি বেশ অর্থবহ হবে বলেই মনে হয়।

গ্যারেজ

ফুটপথের পাশ ঘেষে রিক্সা-ভ্যান সারাইয়ের গ্যারেজ তার।

ঝুঁকিপূর্ণ পেশা

ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হলেও অতিরিক্ত কিছু বরাদ্দ থাকে না, এমনকি নিচে থাকে না কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনীও।

বাদামওয়ালা

বাদাম বিক্রী অনেক পুরনো পেশা। নতুনত্ব কিছু থাকে শুধু বিক্রেতায়।

পঁচা রস

রস গাজিয়ে বিক্রী করাটাও একটা পেশা। ঢাকা শহরেও এই জিনিস আছে। তবে তার ক্রেতা মিলছে না, আরেকটু বেলা না গড়ালে মিলবেও না। কথা বলে বুঝলাম, এই বিক্রেতা নতুন, এখানে এই জিনিস চলে শুনে চলে এসেছে সবার আগে। এখন মন খারাপ করে বসে আছে। ছবিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে তুলেছিলাম।

পুতুলওয়ালা

হেঁটে হেঁটে প্লাস্টিকের পুতুল বিক্রী করে সে। অবশ্য ক্রেতার ভীড়ে বিক্রেতাকে চেনাই দায় হচ্ছে এখন।

বড়িওয়ালা

বাসের মধ্যে নানান ধরনের আচার এবং হজমি জাতীয় বড়ি বিক্রী করে এই বিক্রেতা। বড়িগুলোর কোনো কোনোটা মনে হল খুব ভয়ঙ্কর।

পেয়ারাওয়ালা

মাওয়া ঘাটে গামলায় করে পেয়ারা নিয়ে এসেছে। ধাড়ী কাস্টমারের নানাবিধ প্রশ্নে এবং দরদামে সে দিশেহারা।

ডিমওয়ালা

আরিচা ঘাটে ছেলেকে সাথে নিয়ে গভীর রাতে ডিম বিক্রী করে সে। দুই ডিব্বায় দুইজন। লাভ নাকি ভালই হয়। কোনো কোনো দিন দৌঁড়িয়ে ঝাঁপিয়ে খেলার ছলে ছেলেই বেশি বিক্রী করে। তাতে বাপ মাঝে মাঝে বসে বিড়ি টানার অবসর পায়।

ঝালমুড়ি

ঝালমুড়ি রীতিমত আইকনিক খাবার হয়ে উঠেছে এদেশে। গভীর রাতে ফেরি ঘাটে এ জিনিসের কদর কোনো অংশে কম নয়। যদিও কিসের সাথে কী মেশে তার কোনো ঠিক থাকে না।

ভাজাভুজি

ভাজাভুজির কদর আছে বাঙ্গালীর কাছে। ইনি ডাল বড়া, ডিম বড়া ও চিংড়ী বড়া বিক্রী করেন। বেশ সৌখিন মনে হল তাকে, সুন্দর সুন্দর পুরনো দিনের বাংলা গান শুনছে ভাজার সাথে সাথে।

হট পেটিস

বাসায় বাসায় পেটিস বিক্রী করে তার জীবন চলে তার। কথা বলে বুঝলাম, জীবন আর চলছে না মোটেও।

দেশি সবজি

সন্ধ্যা গড়ালেই মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে সবজির হাট বসে। অাগান বাগান থেকে কুড়িয়ে আনা দেশি সবজি এগুলো। একটু বেশি দামেই এগুলো কিনবে সচেতন ক্রেতারা, এরকম বিশ্বাস থাকলেও সন্ধ্যা ঘুরলে সে হিসেবে আর মেলে না তাদের স্থান অভিজাত হলেও।

#ছবিগুলো ২০১৩ থেকে ২০১৬ এর মধ্যবর্তী সময়ে বিশেষত ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তোলা। কয়েকটি ছবি মাওয়া এবং আরিচাঘাট থেকে তোলা।