ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

হামলাকারী, চোর, ডাকাত, খুনী, সন্ত্রাসী ঠেকাবে পুলিশ। ঠেকাবে মানে ঘটনা ঘটছে জানলে ঠেকানোর চেষ্টা করবে, ঘটেছে জানলে মামলা নেবে, আসামী ধরার চেষ্টা করবে। তদন্ত রিপোর্ট দেবে, সেই মোতাবেক মামলা এগোবে। মোটা দাগে এই হচ্ছে পুলিশের দায়িত্ব।

পুলিশ সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না, সে অভিযোগ বহু পুরনো। নতুন অভিযোগ এবং প্রমাণও কম নয়। পুলিশকে ছিনতাইকারীর ভূমিকায় দেখো গেছে, পুলিশ ধর্ষক হয়েছে, পুলিশ অপহরণকারী হয়েছে, এসব নজির সৃষ্টি হয়েছে, হচ্ছে।

আবার পুলিশের ভালো কাজের নজিরও আছে, কিন্তু পুলিশ তো ভালো কাজের জন্যই, তাই খুব ব্যতিক্রম কিছু না হলে পুলিশের ভালো কাজের গল্প পত্রিকায় আসে না। খারাপ কাজও যে খুব জানা যায় তা নয়, তবে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমগুলো শক্তিশালী হওয়ায় কিছু খবর চাউর হয়ে যায় দ্রুত। গোবিন্দগঞ্জে পুলিশকে সরাসরি সাঁওতালদের উপর গুলি করতে দেখা গেছে, সেখানে তিনজন মারা গেছে, অনেকে আহত হয়েছে, চোখ হারিয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত-বিচার পুলিশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হতে শোনা যায়নি। একটি ঘটনা যেন আরেকটি ঘটনার ইন্ধন হয়ে যাচ্ছে, তারা ভেবে নিতে পারছে যে পুলিশ বিচারের উর্ধে।

ময়মনসিংহে ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজ সরকারিকরণের বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ যেভাবে শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়েছে তা কোনোভাবেই একটি সভ্য দেশে হতে পারে না। এমন কোনো ঘটনার খবর জানা যায়নি যাতে করে পুলিশ এরকম কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে, হিংস্রভাবে লাঠিপেটা করবে শিক্ষকদের। শুধু বেধড়ক লাঠিপেটাই করেনি, উপুর্যপুরী পেটে লাথি মারার খবরও পত্রিকায় এসেছে। একজন শিক্ষক মারা গেছেন। এটা সভ্যতা-ভব্যতার সকল মানদণ্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ধিক্কার জানানোর কিছু নেই, কারণ, ধিক্কার জানানোতে, ঘৃণা জানানোতে কিছু আর কারো এখন হয় না। আত্মসম্মানবোধ আমাদের আর অবশিষ্ট নেই। বিচার দরকার, দায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির বিধান না করলে এরকম ঘটনা চলতেই থাকবে। জনগণের মধ্য থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পুলিশের বিচার আসলে নিরপেক্ষভাবে করবে কে, পুলিশ সামলাবে কে?