ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

ওয়াশা

কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসচেতনতা ছাড়াই ওয়াশার পয়ঃপ্রণালী নিস্কাশন কাজে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এই শিশুটিকে।

 

IMG_6032

ম্যান হোলের পাশে বসে থাকা এই শিশুটিও একই কাজে নিয়োজিত।

 

IMG_6035

একটু দূরেই আরেকটি ম্যানহোলের পাশে মনে হল এরা একটি পরিবার। ছবি তুলতে গেলে মুহূর্তে যে যার পজিশন নিতে শুরু করল। বোঝা গেল- জীবন ক্ষুধা কতটা জমা রয়েছে তাদের!

 

জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো কাজ না পেলে আপনি কি এই কাজটি করতে প্রস্তুত আছেন? ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজি নই। ওরা কি কাজটি আসলে বাঁচার জন্য করছে? আসলে কি ওরা বেঁচে আছে? ওদের দেখে এবং ওদের সাথে কথা বলে আমার মনে হল, ওদের অনেকে শুধু নেশার টাকাটা জোগাড় করার জন্য কাজটি করে।

বর্ধিত জনসংখ্যার কারণে এবং ক্রমাগতভাবে শিক্ষার হার বাড়ছে বলে বাংলাদেশে কোনো সেক্টরে শ্রমিকের সংকট নেই, কিন্তু সংগত কারণেই এক্ষেত্রে আছে। সেই সুযোগে ওরা নেশার টাকাটি জোগাড় করে নিতে চায়। তবে কারো কারো হয়ত পারিবারীক দায়ও আছে সত্য।

পাশাপাশি ওরা বলল প্রতারণার কথা। ওয়াশা শ্রমিকের প্রতিদিনের কাজে প্রতিজনের জন্য বরাদ্দ করেছে ৬০০ টাকা, কিন্তু ওদের দেওয়া হয় ৪০০ বা ৫০০ টাকা, বয়স কম হলে তাকে নাকি ২০০ টাকা দেওয়া হয়। অথচ বরাদ্দ থাকে সবার জন্য সমান।

টাকা পয়শার দিকটি তো আছেই, কিন্তু আরো বড় প্রশ্নটি হচ্ছে- যে সভ্যতার দাবী করছি আমরা সেটির বাস্তব ভিত্তি আসলে কী? এরকমভাবে কিছু মানুষকে আমাদের পয়প্রণালীতে ডুবিয়ে রাখতে হলে সে সভ্যতা সত্যি ভূলুণ্ঠিত হয় মুহূর্তে, হয় না?

এর আগে ২১অক্টোবর২০১৬ তারিখে বিডিনিউজ ব্লগে একটি ছবি পাঠিয়েছিলাম পরিচ্ছন্নতা কারীদের নিয়ে। তখন মূলত ছবি ও ভিডিওগুলো ডিলিট হয়ে গিয়েছিল ক্যামেরা থেকে ছবি বাছাই করতে গিয়ে। পরে ফিরে গিয়ে এক জনের কাজ শেষে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি তুলেছিলাম। আসলে এই ছবিগুলো তোলা খুবই বিব্রতকর। বিব্রতকর এজন্য যে যদি তাদের জীবনমান উন্নত করা না যায় তাহলে এই ছবি তোলার জবাবদিহিতা তাদের কাছে কী হবে? ব্লগ ডট বিডিনিউজে দেওয়া পূর্বের ছবিটির শিরোনাম ছিল- “আমরা পরিষ্কার তারা ‘অপরিষ্কার’ বলে!”

কিছুটা হলেও জবাবদিহিতা তখনই তৈরি হবে যদি এই প্লাটফর্ম থেকে আমি এবং আমার মত অনেকের আর্তি শুনতে পেয়ে এদের নিয়ে কাজ করার জন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসে।