ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 
১

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ বছরের মে দিবসের র‌্যালি। ছবিটি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া।

প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হওয়ার জন্য একটি র‌্যালি বাংলাবাজার থেকেও গিয়েছে। তারাই নিচের শিশুটিকে “মহান মে দিবস” খচিত তাজটি পরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু শিশুটি এই দিবস সম্পর্কে এক বিন্দুও জানে না, অধিকার তো অনেক পরের কথা।

২
৩

উনি কারো বেতনভুক্ত নয়, তাই কাজ না করলে তার চলবে না। মে দিবস তখনই সফল হবে যদি সরকার বা কোনো শ্রমিক সংগঠন তাদের আজকের উপার্জনের ব্যবস্থাটা করতে পারে। সেটি না করলেও সমস্যা ছিল না যদি মুক্তির বার্তাটাও তার কাছে পৌঁছাত। উনি তো জানেন না আসলে কিছুই।

দ্বীপ

দীপ্রা এবং আমি আলোচনা করছিলাম বিষয়টি নিয়ে। ঠিক মে দিবস বলে কথা নয়, কেমন ব্যবস্থা হলে দিনমজুর বা এরকম যারা নিজস্ব ছোট ছোট পেশায় নিয়োজিত তারা ছুটি কাটাতে পারবে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, এসব কাজে উন্নত বিশ্বের দেশে অনেক উপার্জন, তাই তারা স্বেচ্ছায় ছুটি কাটাতে পারে। আবার ছুটি কাটানোর বাধ্যবাধকতাও সেসব দেশে আছে। আমরা কিছুক্ষণ দাঁড়ায়ে থাকলাম এটা দেখার জন্য যে শ্রমিক দিবসে কোনো সেবা গ্রহণকারী তাকে কিছু বেশি টাকা দেয় কিনা, কিন্তু সেরকম কিছু ঘটল না। আমরাও তার জন্য কিছু করতে পারলাম না।

নিচের ছবিতে প্যারিদাস রোডে ‘বিক্রীত’ হওয়ার জন্য টুকরি নিয়ে বসে আছে কয়েকজন শ্রমিক।

মে দিবসের দিন সকালে ‘বিক্রি’ হবার প্রত্যাশায় প্যারিদাস রোডে টুকরি রেখে বসে আছে কয়েকজন শ্রমিক।

৬

বাংলাবাজারের একটি প্রকাশনীতে পরিচারকের কাজ করে রুবেল। কোনো ছুটি নেই তার, আজকেও (মে দিবস) না।

বারাকা

প্রতিষ্ঠানটি মহান মে দিবসেও খোলা রয়ছে, যেমন খোলা থাকে অন্য সকল সরকারি ছুটির দিনেও।

শুধু এই প্রতিষ্ঠানটিই নয়, খোলা রয়েছে বাংলাবাজারের বেশিরভাগ প্রাকশনী অফিশ। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, ২০১৩ সালে মানব বন্ধন করেছিল বাপুস, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে বাংলাবাজারের প্রকাশক সমিতি (বাপুসের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশেষ করে, যেহেতু বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি উপস্থিত থাকেন তাই ধরে নিতে হবে এটা বাপুসের সবার দাবী) গাইড বই প্রকাশ করার স্বাধীনতা চান।

“এসব বেশিরভাগ প্রকাশনী চলছে লেখক ও সম্পাদক ছাড়া, বই যে মানহীন সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। সবচে বড় কথা গাইড বই যে সর্বাংশে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর সেটি তো উন্নত বিশ্বে গবেষণায় প্রমাণিত।”

বলছিলেন ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এডমিন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া ফিনল্যান্ড থেকে পড়ে আ আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্লাবন ইমদাদ। প্লাবন এখন দেশে এসে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

বাপুস

ছবিতে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা সবাই ‘বিখ্যাত’ প্রকাশক। শোনা যায় ওনারা প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক। ওনারা আইনের সংশোধন চাচ্ছেন, তার মানে আইন প্রচলিত থাকলে তারা সেটি মানেন ধরে নিতে হবে। [ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া]

 

আল বারাকা

বাইরে বিশ্বপরিচয় লেখা থাকলেও এটি মূলত আল-বারাকা প্রকাশনীর অফিশ।মে দিবসেও ভেতরে কাজ চলছে পুরোদমে। কাজের চাপে স্বাধীনতা দিবস, শোক দিবস বা বিজয় দিবস, এরকম কোনো দিবসের হিসেব থাকে না এখানে।

পুঁথিনিলয়

এটি পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর অফিশ। মে দিবসে অফিশটি খোলা রয়েছে এবং ভেতরে কাজ চলছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিককে দেখা যাচ্ছে উপরের ছবিটিতে আইন সংশোধনের দাবীতে আন্দোলনরত। তিনি বাপুসের সহসভাপতিও ছিলেন। গাইড বইয়ের পাশাপাশি প্রকাশনীটি বইমেলায়ও গত দুই বছর ধরে স্টল নিচ্ছে।

মাদার্স-প্রকাশনী

মাদার্স পাবলিকেশন্স-এর অফিসটিও একই ভবনে (গ্রেট ওয়াল শপিং সেন্টার) অবস্থিত। সেটিও যথারীতি খোলা রয়েছে। এটির মালিকও আইনের উপধারা সংশোধনের দাবিতে আন্দোলন করেছেন, যা উপরের ছবিতে দেখা গিয়েছে। এবং বাপুসের একজন পরিচালকও তিনি।

বাধাঁই কারখানা

কাজ চলছে পুরোন ঢাকার অলিগলিতে অবস্থিত সকল বাঁধাই কারখানায়।

বই বাধাই

লাগাতার কর্মর্ঘণ্টা, ছুটিগুলো না দেওয়া, নিয়োগপত্র না দেওয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাবাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ছাত্র।

“ব্যবসার নামে এসব কী চলছে? শুধু মে দিবস বলে কথা না, শুধু প্রকাশনী জগতের কথাই যদি বলি তাহলে বলতে হবে সেক্টরটি চলছে অব্যবস্থাপনা, চৌর্যবৃত্তি এবং মারাত্মক শ্রম শোষণ এবং ন্যায়হীনতার মধ্য দিয়ে” বলছিলেন বাংলাবাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীতে কর্মরত কয়েকজন।

এর আগে একদিন (৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ইন্টারভিউটি নিয়েছিলাম) সম্পদশালী একটি প্রকাশনীতে টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত একজন নারীর বক্তব্য নিয়েছিলাম প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু কাজের সূত্র গিয়ে, কর্মরত অবস্থায় সব কথা তিনি বলতে না পারলেও সামগ্রিক একটি চিত্র উঠে এসেছে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে কথা বলতে হয়েছে।

বাঁধাই কারখানার অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, ভয়ংকর শিশুশ্রম, এবং শ্রম শোষণের একটি চিত্র রয়েছে নিচের এই ভিডিওটিতে, তবে কারখানার ভেতরে গিয়ে এভাবে ভিডিও করা খুব সহজ ছিল না।