ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু সরকার তা করছে না। যে হেফাজত বা মৌলবাদীরা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে যাচ্ছে তারাও কোনোদিন পীড়িত মানুষের জন্য কোনো কথা বলেনি, বলবেও না কারণ তারা বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হাজির হয়েছিল। তারা বিশ্বাস করে দুঃস্থদের ঈশ্বরই দুঃস্থ করে রেখেছে কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করে না যে হয়ত ঈশ্বর চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের সামনে একটি ভাস্কর্য হোক!

আমি অনেক মাদ্রাসার শিক্ষাথীদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছে দুনিয়ার সুখ নিয়ে চিন্তা করে না, বেশিরভাগ করেও না, কিন্তু তাদেরকে নিয়ে রাজনীতি ব্যবসা সবকিছুই হয়। কারা করে?

যতদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ না হবে, দেশের সকলের মানুষের অধিকার নিশ্চিত না হবে, ’৭২-এর সংবিধান ফেরৎ না আসবে ততদিন এরকম একটি ভাস্কর্য হওয়ার না হওয়াই আসলে কিছু যায় আসে না, কিন্তু কোনো নির্মিত ভাস্কর্য মৌলবাদীদের দাবি মত রাতের অন্ধকারে সরিয়ে ফেললে তাতে অনেক কিছু ক্ষতি হয়। ক্ষতিটা অর্থনীতিক নয়, এ ক্ষতি অনেক বেশি রাজনৈতিক।


যাদের ভাস্কর্য দেখে বিশ্বাস নষ্ট হয় পথে পথে এরকম সর্বহারা মায়েদের দেখে ঈমান থাকে কীভাবে?

রাস্তাঘাট এত এত শিশু, বৃদ্ধ, অর্ধনগ্ন, নগ্ন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ ধুকে ধুকে মরছে তাদের দেখে আপনাদের হৃদয় বিদির্ণ হয় না, ঈমান নষ্ট হয় না, বিশ্বাস ভঙ্গ হয় না, কিন্তু সব নষ্ট হয়ে যায় ভাস্কর্যের দিকে তাকিয়ে! এমন বিশ্বাসের দেশ নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়।