ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

ফুটপাতের এ জায়গাটি দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ফুটপাতটি থানার সামনে বলে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এখান দিয়ে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। দুই পাশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মার্কেট। একপাশে বাকুশা মার্কেট, যেটি মূলত দেশের বৃহত্তম খুচরা বইয়ের বাজার। অন্যপাশে গাউসুল আজম সুপার মার্কেট, যেখানে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করিয়ে থাকে। তাছাড়া এখানে মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে (কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল), স্কুল রয়েছে।

ফুটপথে দোকান

কিছুদিন আগে নীলক্ষেত ফুটপাত থেকে বইয়ের দোকানগুলো উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে বইয়ের দোকান থাকায় ঐখান দিয়ে চলাচলে খুব অসুবিধা হতো, তাই নিশ্চয়ই এটি যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও ফুটপাতে বইয়ের দোকান থাকার একটি তাত্ত্বিক ভালো দিক আছে, সবসময় সাধারণ মানুষের চোখে বিভিন্ন বই পড়ে। তার একটি ইতিবাচক ভূমিকা আছে। অনেকে ফুটপাত থেকে চোখে পড়ায় বা হঠাৎ দাঁড়িয়ে দু’একটি বই কিনত, তাই বইয়ের দোকান এভাবে উন্মুক্ত থাকা খুব খারাপ নয়, যদি পরিকল্পিতভাবে সেটি করা যায়, ‘বই-বই’ অভ্যেস তৈরি হয় তাতে। তারপরও ফুটপাতে দোকান সমর্থনযোগ্য নয়, যেহেতু ফুটপাত শুধু হাঁটার জন্য।

প্রশ্ন হচ্ছে, এত কড়াকড়ি করে ফুটপাতের বইয়ের দোকনগুলো উঠিয়ে দেওয়া হল, তাহলে স্বয়ং থানার সামনে এই চায়ের দোকানটি পরিচালিত হচ্ছে কীভাবে? এখানে চা সিগারেটের দোকান থাকলে থানার রেলিং-এ হেলান দিয়ে মানুষ চা খাবে, সিগারেট খাবে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ জায়গা দিয়ে হাঁটবে কী করে? সাধারণ মানুষের সমস্যা তো আছেই?

আরো ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, দোকানদার আমাকে জানাল, পুলিশই নাকি তাকে বসিয়েছে! এ ধরনের দোকান এখানে কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ, একটু সামনেই মার্কেটের পাশে গলিতে এরকম বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে।