ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

দেশের বড় সংকট কোটা কিংবা চাকরির বয়স নয়। যারা এসব আন্দোলন করছেন তারা দেশের সংকটগুলোকে কীভাবে বোঝেন বা অাদৌ বুঝতে চান কিনা এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। চাকরির বয়স বাড়ানো কোনো আন্দোলনের বিষয় হতে পারে না। এই আন্দোলনটা অন্তত ভার্চুয়ালি হলেই হত, এজন্য রাজপথে নামার দরকার ছিল না। বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নামা দরকার। চাকরির বয়স বাড়ানো না বাড়ানো বিশেষজ্ঞদের হোমওয়ার্কের বিষয়।
.
“চাকরির বয়স ত্রিশ হওয়াতে ৩০ বছর পর্যন্ত অকর্মণ্য হয়ে থাকতে হয় এখন, চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩৫ করলে তো ৩৫ পর্যন্ত গাইড বই নিয়ে দৌঁড়াবে সবাই। লাভ কী হবে তাতে?”- এটা একটা যুক্তি। এটা সত্য যে বিপরীত কিছুও হবে। অনেকেই উদ্ভাবনী কিছু করার চেষ্টা করবে। ভাববে, বয়স তো অনেক আছেই, নিজের পথে কিছুদিন চেষ্টা করে দেখি, ব্যর্থ হলে তখন চাকরিতে ঢোকা যাবে।
.
‘মেধাবীদের’ জন্য এটা ভালো হবে, কিন্তু যাদের প্রচুর পড়ে একটি চাকরি পেতে হয়, তাদের জন্য খুব সুখবর হবে না। যে ১৮ থেকে ২২ বছর, সাথে আরো দুই বছর অতিরিক্ত পড়েও চাকরি পায় না, সে আরো পাঁচ বছর বেশি পড়ে চাকরি পাবে এ বিশ্বাস আমার হয় না। তাছাড়া এত কষ্ট করে চাকরি পাওয়া চেয়ে অন্য কিছু করাই তো ভালো। প্রত্যেকের স্ব স্ব মেধা থাকে, কিন্তু পড়াশুনার মেধাটা সবার থাকে না। তাই সবাইকে এ প্রতিযোগিতার মধ্যে টেনে না অানাই ভালো।
.
এটা সত্য যে আমি চাকরির বয়স বাড়ানোর পক্ষে এবং মনে করি চাকরিতে ঢোকার কোনো বয়স থাকা উচিৎ নয়। ৫০ বছর বয়সে গিয়ে যদি কারো মনে হয় সে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হবে তাহলে রাষ্ট্র কেন বাধা হয়ে দাঁড়াবে? অবসরের বয়স থাকবে কিন্তু চাকরিতে ঢোকার কোনো বয়স থাকবে না।