ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

ঢাকা শহরের সঙ্গে গ্রামটির অধিবাসীদের জীবিকা জড়িত, অথচ তারা ঢাকা শহুরে নন। অশিক্ষা আর সরলতায় জীবন বয়ে চলেছেন নিভৃতে। ক্ষুধা-দারিদ্র্য যেন নিত্য সঙ্গী। তারা থাকেন এমন একটি গ্রামে যা ঢাকা শহরের পয়ঃপ্রণালির ভারে ভারাক্রান্ত। সুযোগ-সুবিধা সেখানে  অপ্রতুল। রাস্তাঘাট নেই বললেই চলে।

রামপুরা টেলিভিশন সেন্টার থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ত্রিমোহিনী গ্রাম। এলাকার বিচারে গ্রামের বাসিন্দারা এখনো রাজধানীর অধিবাসী নন, তবে ভূক্তভোগী। ইতোমধ্যে তারা হারিয়েছেন তাদের সকল ধানি জমি। অর্থাৎ ক্রম অগ্রসরমাণ ঢাকা শহর তাদেরকে কৃষক থেকে শ্রমিকে রূপান্তর করেছে। অনেকে উদ্বাস্তুও হয়েছে। অথচ অনেকেই তাদের এই বঞ্চনার কথা জানেন না।

ত্রিমোহিনী গ্রামনৌকায় করে শাক বিক্রি করতে যাচ্ছে গ্রামের একজন বাসিন্দা

গ্রামটিতে বাস্তবিক অর্থেই কোনও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। দুই পাড়ার মধ্যে পারাপারের ব্যবস্থায় আছে বড় বড় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সেতু। বাড়িঘর পাকা অথবা আধাপাকা। যেহেতু রাজধানী একেবারে উঠানের সঙ্গেই, তাই লোকজনের অভাব মারাত্মক নয়। অাবার বেশিরভাগ মানুষ খুব ধনীও নয়। অনেকেই গরু পালেন এবং সেই গরুর দুধ শহরে এনে বিক্রি করেন। তাদের নিজস্ব জমি খুব কমই আছে।

ভূমিদস্যুদের চাপে বিলের ফসলি জমি এবং মাছ চাষের নির্ভরতা হারিয়ে স্থানীয়রা একসময় হাউজিং কোম্পানিগুলোর কাছে অল্প দামে জমি বিক্রি করে দিতে থাকে। শহরের আবহ আসার পর রাতারাতি সেসব জমির দাম বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এখনো সেই ধারা অব্যাহত আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ত্রিশ বছরে এবং বিশেষ করে গত দশ বছরে তাদের বেশিরভাগ জমি হস্তান্তর হয়েছে হাউজিং কোম্পানিগুলোর কাছে। বনশ্রী আবাসিক এলাকা হয়েছে তাদেরই বিলে-ঝিলে। এরপর হচ্ছে ‘জহুরুল ইসলাম সিটি’। আর এতেই হয়েছে গ্রামের বেশিরভাগ লোকের সর্বনাশ।

হাউজিং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর উন্নয়ন হলেও স্থানীয়দের জীবনমানে তেমন উন্নয়ন হচ্ছে না। নৌকা চালিয়ে আর বাঁশের সাঁকো কেন্দ্রিক যাতায়াতে তাদের জীবন আবদ্ধ।


জহুরুল ইসলাম সিটি সংলগ্ন এই এলাকাটিতে   ধানি জমি ও খাল-বিলগুলো এভাবে বালু দিয়ে ভর্তি হচ্ছে নিয়মিত

ত্রিমোহিনী এখন আর গ্রাম নেই, দিন দিন ঢাকার কংক্রিটের আবহ ঢুকে যাচ্ছে সেখানে। এখন শুধু শহর হয়ে ওঠার অপেক্ষা।  নগরায়ন হবে এটা অনিবার্য। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় অধিবাসীদের রক্ষা করেও তা করা যায়। ত্রিমোহনীর নগরায়ন তো হচ্ছে, কিন্তু ভূমিদস্যুদের যাতনায় সেই সঙ্গে হারাচ্ছে বিল-ঝিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, আর স্থানীয়দের আবাস।