ক্যাটেগরিঃ জনজীবন, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

নানার কোলে নাতি

গ্রামবাংলার চিরচারিত সৌন্দর্যের আড়ালে চাপা পড়ে আছে ক্ষুধা, দারিদ্য, রোগ, শোক এবং সুপেয় পানির সংকটের এক করুণ শোকগাঁথা। তবু গ্রামের মানুষ এখনও পরিশ্রমী, সরল এবং নিয়তিবাদী। বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার টেংরাখালি গ্রামে গিয়ে সে চিত্রই চোখে পড়লো।  

আবার মানুষ নিজের মতো করে অনেক কিছু করার চেষ্টাও করছে। রাস্তাঘাট উন্নত হওয়ায় গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোটো ছোটো উদ্যোক্তা। এই যেমন কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ভাসা গ্রামের শিক্ষক জাকির হোসেন মুরগি পালনে উৎসাহি হয়েছেন। বাড়িতে মুরগি পালনের পাশাপাশি তিনি এখন মাঠে মাচা করে মুরগির ঘর করেছেন। 

ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গ্রামের ইঞ্চি জায়গাও আর অকর্ষিত থাকছে না। রাস্তার পাশে মান কচুর চাষ করেছেন গ্রামের একজন চাষি। প্রথমে তিনি কথা বলতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন এই ভেবে যে সরকারি জায়গায় চাষ করাটা তার ভুল হলো কিনা। পরে উৎসাহ দিতেই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন তিনি।

জানান, রাস্তার পাশে অন্য গাছের ফাঁকে ফাঁকেও এভাবে চাষাবাদ সম্ভব। কচু যেহেতু গবাদি পশুর খাদ্য নয়, তাই এটি রাস্তার পাশে চাষ করা যেতে পারে। 

রাস্তায় অন্য চিত্রও আছে। গ্রামের বেশিরভাগ রাস্তায় চলছে ব্যাটারি চালিত ভ্যান। এরকম অনেক ভ্যানের চালক আবার শিশুরা।

 আলোকচিত্রি: শুভ দত্ত সৌরভ 

বাগেরহাটের গ্রামগুলোতে পানির সমস্যা এখন ভয়াবহ। আবার টিউবওয়েলের পানিতে যে আয়রন থাকে সেগুলিকেই স্থানীয়রা আর্সেনিক ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছে। ফলে সব রকম গৃহস্থালির কাজ গ্রামবাসীর জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

শিশুরা ব্রাশ করে মুখ ধুচ্ছে পুকুর বা বেড়ের ময়লা পানিতে, তবু তারা টিউবওয়েলের ধারে কাছে যাচ্ছে না। কারণ তাদের বলা হয়েছে আর্সেনিক একটা মরণঘাতি রোগ এবং বাগেরহাটের টিউবওয়েলগুলোতে আর্সেনিক আছে।

প্রান্তিক মানুষের সমস্যাটা একটু বেশি হলেও গ্রামের কোনো পরিবার এখন এই পানি সমস্যার বাইরে নয়।