ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যা করার দায়ে এই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঐশীর নির্মমতায় সবাই হতবাক হয়ে যায় । হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে যে, কিভাবে কোনো মেয়ে একই সাথে বাবা-মাকে হত্যা করতে পারে ? তারপর থেকে এই মামলার ফল কোন দিকে গড়ায় সেদিকেই লক্ষ্য দেশবাসীর । ঐশীর ফাঁসির রায়ে অনেকেই খুশি । কেউবা মনে করছেন, অপরাধী উপযুক্ত শাস্তি পেলে সমাজে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না ।

ঐশী অপরাধ করেছে, তার উপযুক্ত শাস্তির রায়ও হয়েছে । কিন্তু, কিছু প্রশ্ন থেকেই যায় ! এমন অপরাধ প্রবণ হয়ে ওঠার পেছনে কি ঐশীর একার দোষ ? ঐশীর পরিবারের কোনো দোষ নেই? সমাজের দোষ নেই?

20130820082234 10_Oishi_Court_121115_0003

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সবাই ঐশীর হিংস্র রূপটাকে দেখছে । কিন্তু, একটি কিশোরী মেয়ে যে তার বাবা-মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে হয়ে গেছে এটা হয়তোবা খুব কম মানুষের মনে হয়েছে । বাস্তবতা এটাই, সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঐশীই ! বাবা-মাকে হারালো, সাথে নিজের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ থেকে অনেক দূরে ছিটকে গেলো, হয়তোবা চিরিদিনের জন্যই ।

হ্যাঁ, এই ঐশীই মাদকাসক্ত, খুনী । কিন্তু, এই খুনী ঐশীকে গড়ে তুলেছে ঐশীর পরিবার, ঐশীর সমাজ । পারিবারিক অনুশাসন ঠিক থাকলে কখনই এমনটি হত না । সন্তানের ভাল চাওয়া মানে এই নয় যে, সন্তান যখন যা চাইবে তাই দিতে হবে, যা করতে চাইবে তাই করতে দিতে হবে । সন্তানের চাওয়া-পাওয়ার মূল্য যেমন পরিবার দিবে, তেমনি সন্তানের ভাল-মন্দ বোঝার দায়িত্বও পরিবারের ।

সন্তানের স্বাধীনতার নামে বেপরোয়া জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া, কথিত আধুনিক সমাজের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে সন্তানের অশ্লীল জীবন-যাপন সমর্থন দেওয়া কোনো সচেতন পরিবারের কাজ হতে পারে না ।

ঠিক এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক জন কিশোর বা কিশোরী খুব সহজেই মাদক দ্রব্যের কাছে পোঁছে যায় । আধুনিকতার নামে মেতে উঠে যাপন করে বেপরোয়া জীবন । যখন একে বারে বেপরোয়া হয়ে যায়, তখন তাকে থামাতে গেলে হয়ে ওঠে বর্বর, নৃশংস । আর তখনই জন্ম হয় ঐশীর !

নতুন করে ঐশীর মত আর কোনো কিশোরীর কপাল পোড়ার আগেই ওদের পাশে দাঁড়ানো, পরম স্নেহের পাশাপাশি শাসন আর সঠিক দিকনির্দেশনা বড্ড জরুরী !