ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, গত ৪ ডিসেম্বর, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ থেকে শুকতারা পরিবহণের একটি বাসে ঢাকা আসছিলেন। কিছু দূর আসার পর তার পাশে থাকা যাত্রী নেমে যান। তখন পাশের আসনে বসেন চালকের সহকারী মামুন।

এ সময় বাসে মাত্র ১০-১২ জন যাত্রী ছিল। এক পর্যায়ে চালকের সহকারী মামুন তার সঙ্গে ‘অশালীন আচরণ’ শুরু করে। তিনি প্রতিবাদ করলে মামুন ‘গালিগালাজ’ করতে থাকে। তারপর ওই ছাত্রী গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নেমে যান। তখনও মামুন তাকে ‘গালিগালাজ’ করে ।

ঠিক সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর সামনে দু’টি পথ খোলা ছিল, হয় আর দশটা মেয়ের মত বিষয়টা চেপে গিয়ে হলে ফিরে যাওয়া, নয়তোবা আইনের আশ্রয় নেয়া । এখানে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়াকেই উপযুক্ত পদক্ষেপ বলে মনে করেছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর কাছে মনে হয়েছে, আজ যদি লজ্জার কাছে হার মেনে এই ঘটনার প্রতিবাদ না করা হয় তাহলে তাঁর মত আরও অনেক মেয়ে এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে । হয়তোবা শিকার হতে পারে এর থেকেও বড় কোন দুর্ঘটনার । বড় কোন প্রতিবাদ না হলে মামুনের মত অমানুষেরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠবে ।

এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির সদস্য হওয়ায় প্রথমেই যোগাযোগ করেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বর্তমানে সাহসী সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের সাথে । ইমরানও সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন । তাঁর কাছে মনে হয়েছে আজ যদি এমন ঘটনার প্রতিবাদ না করা হয়, তাহলে এই দিন এমন একদিনে নিয়ে যাবে যেদিন তাঁর কোন স্বজনও ভুক্তভোগী হতে পারে । তাই তিনি মনে করেন এই বোনটির পাশে দাঁড়ানো জরুরী ।

আব্দুল্লাহ আল ইমরান ঘটনাস্থলে নিজে ছুটে যান এবং একই সাথে খবর পৌঁছে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ।

ইমরান গাবতলী পৌঁছালে ঐ শিক্ষার্থী দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় । বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং মিডিয়ার হস্তক্ষেপে পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে নেয় এবং ঐ রাতেই অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে । পরবর্তীতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় ।

ঘটনার পরদিন এটিএন নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের ইয়াং নাইট অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং সাহসী সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরানের কণ্ঠে যেন একই সুর, নারীরা যেখানেই অপমানিত হোক বা এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাঁরা যেন তাৎক্ষণিক ভাবে পাশের মানুষের সাহায্য চাই । কেননা, খারাপ মানুষের তুলনায় ভাল মানুষের সংখ্যাই বেশি । এমন অনেকেই আছে যারা ডাক পেলেই সাহায্যের জন্য প্রস্তুত থাকে । আর স্থায়ী সমাধানের জন্য আইনের আশ্রয় অবশ্যই নিতে হবে । আইনের মাধ্যমেই অপরাধীদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে ।

এই শিক্ষার্থী যদি প্রতিবাদের পদক্ষেপ না নিত, তাহলে এমন সুবিচার সম্ভব হত না । তাই নারী নির্যাতনের প্রতিরোধে নারিকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে । দেখবেন আব্দুল্লাহ আল ইমরানের মত কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেই ।

 

slide