ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

বিজয় দিবসের আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বের হলে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সাক্ষী এ প্রতিষ্ঠানের সর্বত্রই আলোক সজ্জায় সজ্জিত পরিবেশ বিজয় দিবস উদযাপনের বার্তা দেয় । মাইকে স্বাধীন বেতার কেন্দ্রের দেশত্ববোধক সংগীতের সুরে ১৯৭১ এর স্বাধীনতার চেতনা ফিরে আসে, দেহ-মন মাঝে এক ধরণের শিহরণ বয়ে যায় ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য স্থানে শহীদদের স্মৃতি ফলক রয়েছে, রয়েছে তাঁদের নামের তালিকাও । দেশের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য স্থানেও এমন স্মৃতি ফলক পাওয়া যায় ।

যদি কোনো ছেলে হারা মা কে দেখেন শহীদদের স্মৃতি ফলক দেখতে, কোনো ভাই হারা বোনকে  দেখেন শহীদদের নামের তালিকায় নিজের প্রিয় ভাইয়ের নামটি খুঁজতে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনার হৃদয় কেঁদে উঠবে ।

যে সমস্ত মায়েরা বুকের ধনকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন, বোনেরা প্রিয় ভাইকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন, তাঁরা কি পেয়েছেন ? কোন স্বার্থে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন ? হ্যাঁ তাঁদের স্বার্থ ছিল, তবে তা ব্যাক্তিগত নয় । সেই স্বার্থ ছিল নিজ জাতির স্বার্থ, দেশের স্বার্থ ।

আর মহান শহীদেরা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও পিছুপা হননি সেই একই কারণে । দেশের জন্য তাঁরা স্বজন ছেড়ে, জীবনের মায়া ছেড়ে সমস্ত চাওয়া-পাওয়া ছেড়ে নিঃস্বার্থে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

তাঁরা নিজের জন্য কিছু না নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সব কিছু দিয়ে  গেছেন । মহান শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া প্রিয় জন্মভূমি তাঁরা আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন । আমাদের কাজ হলো প্রিয় জন্মভূমিকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে রাখা ।

আসুন আমরা যে যতটুকু পারি প্রিয় জন্মভূমির জন্য, জন্মভূমির মানুষের জন্য কাজ করি । আর প্রিয় জন্মভূমিকে ভালবাসি ।

৪৫ তম বিজয় দিবসে মহান শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করি, আল্লাহ যেন ওনাদেরকে সর্বোচ্চ প্রতিদান দান করেন। আমীন ।

slide