ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

 

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ সম্পর্কে কিছু প্রচলিত ধারণা আছে। যা ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল ‍ও মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়েছে। এগুলো কুসংস্কার আর সংর্কীনতা ছাড়া কিছুই না। জাতি ধর্ম বর্ণ লিঙ্গের বৈষম্য নিয়ে ব্যাপকভাবে আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। আস্তে আস্তে এসব কমেও এসেছে। তবে বিভিন্ন জাতের মধ্যে সেই বৈষম্যটা রয়ে গেছে এবং তা নিয়ে আমাদের দেশে বিশেষ কোন প্রতিবাদ বা আন্দোলন হয় নাই। তাই আজ এসব বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলব।

প্রথমে হিন্দুদের জাতের বৈষম্যের কথা বলি। হিন্দুদের মধ্যে প্রধান চার ধরণের জাত বা শ্রেণী আছে। ১.সবার উপরে ব্রাক্ষণ যারা ধর্মীয় গুরু হিসেবে পরিচিত। ২. এরপরে ক্ষত্রিয়দের অবস্থান যাদের কাজ যুদ্ধ করা। ৩. এরপর বৈশ্যদের অবস্থান এদের কাজ উৎপাদনমুখী, যেমন কৃষি ও ব্যবসা। আর ৪. সবার শেষে শূদ্রদের অবস্থান যাদের কাজ হল পরিত্যাক্ত ও পরিচ্ছন্নের কাজগুলো করা, যেমন. মুচি,নাপিত।

হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র হল ভারত। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সেখানেই এ ধরণের বৈষম্যগুলো বেশি দেখা গিয়েছে। কেউ যদি হিন্দ “ওয়াটার-২০০৫, বা মানজি দি মাউন্ট ম্যান-২০১৫ সালে মুভি দুটো দেখেন তাহলে ভারতের জাত প্রথা করুণ কাহিনী কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন। শুধু জাতের দোহাই দিয়ে উচ্চ শ্রেণীর মানুষগুলো দিনের পর দিন নিম্ন শ্রেণীদের ঠকাতো। বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও বৈষম্যমূলক আচারণ করত। দেখা যেতে নিন্ম শ্রেণীর মানুষের মেধা উচ্চ শ্রেণীর অনেক মানুষের চেয়ে বেশি বা অর্থের দিক দিয়েও নিম্ম শ্রেণী বলা অভিহিত মানুষটি উপরে কিন্তু শুধু জাতে দোহাই দিয়ে তাকে হেয় করা হত।

কিন্তু কি মজার ব্যাপার ভারতের সংবিধান রচিয়তা হল একজন শূদ্র শ্রেণীর মানুষ। তার নাম আম্বেদকর। ভারতরত্ন সহ বিভিন্ন সম্মানে তাকে ভূুষিত করা হয়েছে। ভারতের অন্যতম জ্ঞানী ও মেধাবী এই ব্যক্তি ভারতের জাত প্রথাকে চরমভাবে ধাক্কা দিয়েছিল। পড়াশুনা করতে গিয়ে তাকে নানাভাবে হেয় করা হত কিন্তু তিনি নিজের অবস্থানটাকে দেখিয়ে দিলেন। এক সময় উচ্চ শ্রেণীর মানুষরা বলত ভারত থেকে ছোট জাত ও মুসলমানদের বের করে দেও। কিন্তু এখন মজা করে বলা হয় আজ আম্বেদকর কিংবা এপিজে আবুল কালাম না থাকলে ভারত কমপক্ষে ২০ বছর পিছিয়ে থাকত।

যাই হোক ভারতে এখন সে প্রথা পুরোপুরি যায় নাই। এখনও অনেক জায়গা আছে তবে সার্বজনীনভাবে ও সরকারিভাবে এসবের ভিক্তি ভারতে নেই। ভারতে এসব নিয়ে প্রচুর লেখালিখি ও আন্দোলন প্রতিবাদ হয়েছে তাই এখন এসব প্রথা মৃত। তবে আমাদের দেশে এসব নিয়ে তেমন লেখালিখি হয় না আর আন্দোলন অনেক পরের বিষয়। অনেকেই হয়ত ভাবছে আমি কথাগুলো কোন বললাম?? এর সাথে আমাদের এলাকার কি সম্পর্ক কি? সম্পর্ক তো নিশ্চয়ই আছে।

আমাদের এলাকার হিন্দুরাও এসব প্রথা শিকার। হিন্দুদের মধ্যে শিক্ষিতদের মধ্যেও এসব প্রথা ধরে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে নিন্ম বর্ণের মানুষের মেধা ও শ্রমকে যথাযথভাবে মূল্যায়ণ হয় না। আর শ্রম ও মেধার মূল্যায়ণ না হলে উন্নয়ন হবে না তা হবে উন্নয়নের পথে বাধা।

ইসলামকে বলা হয় শান্তি ধর্ম। অনেকের মতে ইসলাম শুধু ধর্ম নয় এটা একটি জীবনব্যবস্থা। ইসলাম বর্ণ লিঙ্গ জাতে বিশ্বাস করে না। এখানে সবাই সমান। এটা কুরআন ও হাসিদের কথা। কিন্তু আসলে কি আমরা বর্তমানে ইসলামে সংবিধানরূপী কুরআন হাদিস মেনে চলি এসব ক্ষেত্রে? উত্তর হল না। অব্যশই না।

উদাহরণ. মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যারা সেখানে কাজ করতে যায় তাদের বলা হয় মিসকিন। এর মানে হল গরীব ও দুর্বল। এবার আমাদের দেশে আসি। এছাড়া শিয়া, সুন্নি প্রভৃতি আছে। তবে ইসলাম কখনই শ্রেণীতে বিশ্বাস করে না। সকল মুসলমানের সমান অধিকারই ইসলামের সত্য ব্যাখ্যা কিন্তু শাসকশ্রেণী সুবিধা ও নেতৃত্বের জন্য এসব শ্রেণী উদ্দেশ্যমূলকভাবে সৃষ্টি করেছে।

আমাদের দেশ মুসলমানদের অধিকাংশই সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাস করে তাই শিয়া বা অন্যান্যদের সাথে কোন সমস্যা এখানে নেই। কিন্তু এক ধরণের জাত আছে তা হল হিন্দুদের জাতের মত। এখানে পেশার ভিক্তিতে বিভিন্ন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এক শ্রেণীর মানুষ বল আমরা শ্রেষ্ঠ ও উচ্চ তোমরা নিন্ম তা আজও প্রচলিত। কিন্তু ইসলামে এসব জাতে ভিক্তি নেই। আর হাস্যকর ব্যাপার হল অনেকেই বোঝে না আসলে এসব কি আর কীভাবে এলো আর এর মানে বা ব্যাখ্যা বা অর্থ কি।

অনেকেই হয়ত বুঝতেছে না আমি মুসলমানদের কোন জাত বা শ্রেণীর কথা বলছি। গৃহস্থ ও জোলা দুটি শ্রেণীকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বললাম। আজ আমার লেখাটা পড়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে হাস্যকর এই প্রথার বাস্তবতাটা।

১.গৃহস্থ বলতে বোঝায় যারা উৎপাদন কাজে নিয়োজিত যেমন. কৃষিকাজ ও ব্যবসা। তার মানে যারা কৃষিকাজ ও ব্যবসার সাথে জড়িত তাদেরকে গৃহস্থ অনেক জায়গায় শেখ নামে পরিচিত। তবে শেখ আর গৃহস্থ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় যদিও একে অনেকে এক করতে চায় তবে এটা এক নয়। কারণ হল শেখ বলা হয় তাদের যারা আরব বশোভুত বাংলাদেশি। সেক্ষেত্রে ধারণা করা হয় চট্টগ্রাম ও সিলেটে আরব বংশোভুত পরিবার থাকতে পারে তবে বরিশাল বা অন্য অঞ্চলে তা থাকার সম্ভবনা খুব কম কারণ আরবরা বরিশাল বা অন্য অঞ্চলে আসে তো নাই বসবাসও করে নাই। তারা চট্টগ্রামে ও সিলেটে এসেছে তবে বসবাস করেছে এটাও ঠিক। বিবাহ করে কয়েকজ করেছে তবে তাদের সংখ্যা খুবই সীমিত। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই শেখ দেখা যায় যা হাস্যকর ও কৃত্রিমভাবে নিজেদের তৈরি। শেখ ও সৈয়দ বংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক আছে তা অনেকেই হয়ত জানা নেই। যাই হোক। মোট কথা আমাদের দেশে মুসলমানদের শ্রেণীর যে বিভাজন তা পেশাগত। বংশগত নয় এটা প্রমানিত। আর উচ্চশ্রেণীকে গৃহস্থ বলেই আমরা সবাই জানি।

২. নিম্ম শ্রেণী বলে বিবেচিত জাতের নাম জোলা। এরাও পেশাগতভাবে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত.। যেমন তারা তাঁত ও কাপড় তৈরি ও ব্যবসার সাথে জড়িত। এদের কারিগর শ্রেণীও বলা হয়। এটা বিভিন্ন জিনিস তৈরি ও বিক্রি করে। এদের আমরা ছোট জাত মনে করি।

ইতিহাস অনুসারে আমাদের দেশে কিংবা পুরো ভারত উপমহাদেশই হিন্দুদের আধিপত্য ছিল। মুসলমানরা আসে আগে ভারতে মুসলমান ছিল না। বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ এখানে বাস করত। আমরা যদি একটু লক্ষ করি তবে দেখব যে হিন্দুদের বৈশ্যদের সাথে আমাদের দেশে মুসলমানদের গৃহস্থ ও কারিগরদের মিল আছে। হিন্দু জাতের ভিক্তিতে তারা একই শ্রেণীর অংশ। তাদের দুপক্ষই উৎপাদনমুখী কাজ করত। তবে একথা প্রমানিত করিগর শ্রেণী কখনই শূদ্র নয় আর তারা হিন্দুদের শূদ্ররা যে কাজ করত তা কারিগররা করত। কারণ হিন্দু শূদ্যরাই তখন ও এখনও এসব কাজ করে। আর মজার ব্যাপার হল গৃহস্থরা ভাবে তারা হিন্দুদের ক্ষত্রিয় শ্রেণীর মত যোদ্ধা শ্রেণী কিন্তু এটা সত্য নয়।

কারণ ভারতের হিন্দুরাই এক সময় ব্যবসা করতে এদেশে এসেছে। যুদ্ধ করতে নয়। গৃহস্থ ও কারিগর সম্প্রদায় একই শ্রেণী কিন্তু গৃহস্থদের দাবি তারা হিন্দুদের যোদ্ধা শ্রেণী আর কারিগররা হিন্দুদের শূদ্র শ্রেণী। আর এমন ধারণা যুগের পর যুগ চলে এসেছে। অথচ আমরা প্রশ্ন করি না মাঝখানের সম্প্রদায় (বৈশ্য কারা?) আসলে গৃহস্থ ও কারিগর একই শ্রেণী ।

কিন্তু যখন মুসলমানদের মধ্যে এ ধরনের শ্রেণী করা হয় তখন তাদের শক্তি বা জ্ঞান বেশি ছিল। তাই তারা অবজ্ঞা করে নিজেদের আলাদা ভাবে আর অন্যদের ছোট ভাবতে শুরু করে এভাবেই মুসলমানেদের মধ্যে এ ধরণের শ্রেণী বিভাজন হয়। তবে পেশা দ্বারা বিভাজিত এ ধরণের শ্রেণীর সাথে হিন্দুদের শ্রেণী মিল আছে তাই ধারণা করা হয়। হিন্দুদের শ্রেণীর প্রভাবের কারনে বাংলাদেশে এ ধরণের শ্রেণী প্রথার চালু হয়।

কারণ মুসলিম অন্য কোন দেশে পেশাগত ভিক্তিতে মুসলমানেদের মধ্যে এমন বিভাজন নেই। অন্য মুসলমান দেশগুলোতে মতাদর্শ, ইমান এবং কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভাজন। আর স্বাভাবিকভাবে ভারতের মত বড় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রভাব বাংলাদেশে আছে। ভারতের হিন্দুদের সংস্কৃতির অনেক কিছুই বাংলাদেশের মুসলমানরা গ্রহণ করেছে। ঠিক তেমনি পেশাগত শ্রেণী বিভাজনও গ্রহন করেছে।

কিন্তু যে ভারত তাদের পেশাগত বিভাজন বিলিন করেছে তা কেন বাংলাদেশে থাকবে? তা কেন ইসলামের মধ্যে থাকবে? মুসলমানদের এসব পেশাগত বিভাজনের সমস্যা শুধু সামাজিক কিন্তু ভারতে এসব পেশাগত বিভাজনের সমস্যা সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। তাই সংস্কার বা তা বিলিন করা জরুরি হয়ে পড়ে। ভারতে এক শ্রেণীর মানুষ অন্য শ্রেণীর সাথে বিবাহ, অর্থ লোনদেন, এক সাথে খাবার খেত না। কিন্তু বাংলাদেশে তা হয় নাই। এক শ্রেণীর সাথে অন্য শ্রেণীর মানুষ সবই করছে।

আগে আমাদের দেশে এগুলো প্রচলন বেশি ছিল তবে ভারতের মত নয়। এক সময় গৃহস্থ ও কারিগর শ্রেণীর বিবাহ হত না। আরও কিছু কুসংস্কার ছিল তবে এখন তা নেই। তবে এখনও অনেকের মধ্যে এই প্রথা ধরে রাখা ও চর্চা করার মনসিকতা দেখা যায়। যার ফলে কারিগর শ্রেণীকে আলাদা করে দেখা হয়, তাদের কে ছোট ভাবা হয়, তাদের মেধা ও শ্রমের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। তা খুবই দুঃখজনক। এসব শ্রেণী প্রথা বিলীন সময়ের দাবি নয় শুধু উন্নয়নের দাবিও।

এসব শ্রেণীভেদ ভুলে হিন্দু-মুসলিম, নারী-পুরুষ, গৃহস্থ-কারিগর, কালো-সাদা সবার উচিত কাধে কাধ মিলিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা ও যাতে সবাই ভূমিকা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করা। কোন ধরণের শ্রেণী বা পেশা বৈষম্য করা ঠিক নয়।

কারণ আমাদের এলাকার লোক ঢাকা আসলে এক ধরণের আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়। আবার ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে গেলে আমাদের ছোট ভাবা হয়। সেখানে আমরা বৈষম্যের শিকার হই। আবার আরবরা যখন আমেরিকা ও ইউরোপে যায় তারাও বৈষম্যের শিকার হয়।

সুতারাং আমাদের উচিত নিজেরা যেখানে বৈষম্যমূলক আচারণ করি তা বন্ধ করা অথবা আমেরিকায় কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে বলতে পারি না আমাদের ছোট করে দেখবেন না। আমরা নিজের জায়গা থেকে উচ্চ শ্রেণী ভেবে অন্যদের প্রথাগত কারণে নিম্ম শ্রেণী বলে তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করব। আর যখন নিজেদের কেউ নিম্ম শ্রেণী বলে বৈষম্যমূলক আচরণ করব তখন প্রতিবাদ করব। এটা হতে পারে না।

সুতারাং পেশা, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, জাতের যত শ্রেণী আছে। এসব নিয়ে যত কুসংস্কার আছে, ভুল ধারণা আছে তা সমাজ থেকে বিলীন করে দেওয়াই প্রকৃত শিক্ষিতদের কাজ। যদি নিজেদের সভ্য বলে দাবি করি, শিক্ষিত ও জ্ঞানী ভাবি, আধুনিক ভাবি তবে পুরাতন প্রথা ও কুসংস্কারকে মন থেকে ও সমাজে থেকে বাদ দিতে হবে।

নিজেকে ভাবব আধুনিক কিন্তু পুরানো নিয়মে আচরণ করব। তারা সত্যিকারের আধুনিক নয় সত্যিকারের শিক্ষিত নয়। শিক্ষা ও আধুনিকের ব্যাখ্যা পরিবর্তন হয়। এক সময় যারা চন্দ্র সূর্য দেখে সময়, তাঁরা দেখে অবস্থান বলতে পারত তারাই জ্ঞানী ও শিক্ষিত ছিল। কিন্তু এখন জ্ঞানী ও শিক্ষিত মানে সত্যকে গ্রহন করা, কুসংস্কারকে বাদ দেওয়া। আগে অসুখ হলে মানুষ ঘরে বসে থাকত কিন্তু এখন ডাক্তারের কাছে যায়। ঘরে বসে থাকাটা ছিল কুসংস্কার আর সেটা আমরা বাদ দিতে পারলে। পেশাগত শ্রেণীর সামাজিক বৈষম্য কেন বাদ দিব না। আর বাদ না দিলে তো পুরানো কুসংস্কার ও প্রথাই মানলাম। আর এগুলো মানলে তো আধুনিক ও শিক্ষিত হতে পারলাম না।

আসুন পুরাতন এসব প্রথা ও কুসংস্কারকে বাদ দেই। তবে পুরানো যেসব প্রথা ভাল আছে, তা অনুসরণ করি। কারণ পুরানো মানেই খারাপ নয়। আর এসব শ্রেণী বৈষম্য সমাজের উন্নয়নের বাধা। এগুলো মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যকে অস্বীকার করে।

অর্থ মন্ত্রনালয়ের সাবেক এক সচিব, যিনি ছিল কারিগর শ্রেণীর মানুষ। গৃহস্থের এক সন্দুরী তরুণী বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে গৃহস্থের পরিবার প্রস্তাবকে না বলে দিয়েছিল। কারণ ছেলের পরিবার কারিগর শ্রেণীর মানুষ। পরে অন্য এক গৃহস্থ পরিবার দেখে সে বিয়ে করে। আর কুসংস্কারে আবদ্ধ ঐ মেয়েটি বিয়ে হয় গ্রামের এক গৃহস্থের ছেলের সাথে।

তবে ঘটনাক্রমে গৃহস্থ মেয়ে বাবা একবার সেই সচিবের সাহায্যপ্রার্থী হয়ে নিজের মেয়ে করুণ পরিনতি বর্ননা করে। আর দারুণভাবে লজ্জিত হয়। আর এরপর সে তার ছেলেকে এক কারিগর মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছিল।

লেখক.
উজ্জল আহমেদ,
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।