ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আমি ডাক্তারদের সব সময় প্রশংসা করি। কারন আমি ডাক্তারদের নিয়ে কাজ করি, আমার পেশায় ডাক্তার জড়িত। রোগীর পাশাপাশি ডাক্তারদের কষ্ট, দুঃখের নানা কথা জানি। আমি ডাক্তারের দোষ দেয়ার আগে রোগীকে বলি, আপনাকেও চিকিৎসা নিতে জানতে হবে। দেশে মানুষের তুলনায় ডাক্তারদের সংখ্যা কত বুঝিয়ে বলি।

আজ সকালে চাচা গ্রামের বাড়ী থেকে ঢাকা এসেছেন চিকিৎসা করাতে। তাকে রাজধানীর গ্রীন রোডে অবস্থিত সেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করালাম। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে। যাবতীয় ভর্তির কাজ কর্ম সেরে তাকে কেবিনে উঠানো হল। ফ্লোরের এমআরও (সাধারন তরুন ডাক্তার) তার যাবতীয় হিস্ট্রি নিতে এলেন – রোগীর সাথে কথোপকথোন শুরু হল। আমি পাশেই দাঁড়িয়ে আছি। রোগীর সাথে দু’ই চারটা কথার পরপরই তার মোবাইল বেজে উঠে, চরম বিদঘুটে রিং টোন! ডাক্তার সাহেব মোবাইল পকেট থেকে নিয়ে লাইন কেটে আবার পকেটে রেখে দিলেন। কেন লাইন কাটলেন বুঝলাম না!

১

আবার রোগীর সাথে কথা বলতে শুরু করলেন। মিনিট ৪/৫ পরের আবার অন্য রিং টোন! আর একটা ফোন। (ডাক্তার সাহেবের দুই ফোন) এবার আর লাইন কাটলেন না। মোবাইল বের করে ২২ দাঁত বের করে হেসে হেসে (কখনো কখনো নিচু স্বরে) কথা বলতে লাগলেন। দেখুন একজন ডাক্তারের কান্ড জ্ঞান! মনে হয় প্রেমিকার সাথে কথা বলছিলেন। লজ্জায় আমি রুম থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম।

(রুম থেকে বের হবার আগে আমার মোবাইলে একটা ছবি তুলেছিলাম। জানালায় বাইরে তাকিয়ে, এমন কথা বলছেন ডাক্তার, টের পান নাই!)

একটা লোক কত দুঃখ মনে নিয়ে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রথম একজন ডাক্তার তাকে দেখছেন। তিনি এসেই তার সামনে দাঁত কেলিয়ে ফোনে আজে বাজে কথা বলছেন। হায় ডাক্তার। এটা তো একটা নূন্যতম কমনসেন্স! এত দিন ডাক্তারী পড়েও এটা বুঝতে পারলে না! বাকী জীবন তো সামনে পড়ে আছে। মানুষের চিকিৎসা কি করবে!

বাড়ীতে মেহমান এলেও তো আমরা তাকে আগে টাইম দেই। মোবাইল এলে বলি, আপনাকে পরে ফোন করছি। মেহমানের সন্মান আগে। পড়াশুনা আমাদের আসলে কিছুই শিক্ষাতে পারছে না! আমরা সব পড়াশুনা করি টাকা রুজির জন্য!

(ডাক্তারদের নানা কাহিনী নিয়ে ভাবছি এই ব্লগে সিরিয়াল শুরু করব। ব্লগার ডাক্তার ভাই বোন যদি আমার এই লিখা পড়েন, মাইন্ড খাবেন না। আমি মিথ্যা বলব না, যা সত্য তাই বলব।)

***
২০/০৬/২০১১ইং

***
পরের পর্ব: ডাক্তার সাহেবদের কাণ্ডজ্ঞান-২