ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

ডাক্তার সাহেবদের নামের বানান ভুল কিংবা তার পড়াশুনা অথবা তার পদবী যদি আপনি লিখতে ভুল করেন তবে আপনার খবর আছে! আমি নানা পেশায় ছিলাম, দেশ বিদেশে চাকুরী করেছি। মাঝে ব্যবসায়ী হবার চেষ্টায় কিছু দিনকাল পার করেছিও। গার্মেন্টের বারশত পঞ্চাশ টাকা বেতনের শ্রমিক থেকে আট দশ লক্ষ টাকা মাইনে পাওয়া জেনারেল ম্যানেজার/ চীফ অফিসার দেখেছি। তদুপরি পারসোনাল এন্ড এডমিন/ এইচআর বিভাগে কাজ করার সুবাদে নানা কিছিমের লোকজন দেখেছি। আমার টেবিলে সব সময় প্রতিষ্ঠানের লোকবলের লিস্ট ও ধর্ণা দেখে আসছি। ডাক্তার ব্যতিত অন্য পেশার লোকজনকে তাদের পদবী বা নামের ভুল হলে এত উত্তেজিত হতে দেখি নাই (ডাক্তার ব্যতিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অবশ্য অন্য কোন পেশায় লিখা হয় না, লিখলে তাকে আবুল ভাবা হয়)। হা হা হা…

যাই হোক আমি যেহেতু ডাক্তার নিয়ে কাজ করি। আমি এই ধরনের সমস্যায় অনেক পড়েছি এবং ডাক্তার সাহেবদের কাছে সরি সরি বলে পার পাই। ক্ষমা আমরা চাইবো না তো ডাক্তার সাহেবরা চাইবে? এই সমস্যায় নানা দিন উতরে গেলেও আজ সকালে অফিসে এসে এরকম একটা সমস্যায় পড়ে মনটা এক বিষন্নতায় ভরে উঠল। কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে একজন ডাক্তার কাম এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আমাদের ফোন দিয়েছিলেন। যথারীতি বিষয়টা আমার অধীনস্ত বলে আমাকে ধরতে হল।

সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি শুরু করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন না, বুঝলাম রেগে আছেন ভীষন। আমাদের এমআরআই বিভাগ থেকে ঊনার রেফার করা রোগীদের রির্পোটে উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক লিখা হচ্ছে না। কেন এমন করছেন? আপনারা কি রোগীর হাতে থাকা প্রেসক্রিপশন দেখেন না, দেখে নাম ধাম লিখতে পারেন না? আমি শান্ত ভাবে বলি – হা, এটা আমাদের ভুল। দেখে লিখা উচিৎ ছিল বলে আমি ভুল স্বীকার করে আগামীতে শুদ্ব করে লিখে দিব বলে অংগীকার করে দেই এবং ঊনার মেইল চাই, যাতে উনার সাথে মেইল চালাচালি করে যাবতীয় শুদ্ধ সব কিছু আমাদের কম্পিউটার সিস্টেমে চিরকালের জন্য ইনপুট দিয়ে দেয়া হয়।

তিনি জানালেন, তিনি প্রচুর ব্যস্ত, মেইল দেখার সময় কই। কথা শুনে আমি ফোনেই উনার ইনফরমেশন বা কোথায় ভুল হচ্ছে তা জানাতে অনুরোধ করি। তিনি দেখি বলেই চলছেন, আপনাদের আর রোগী পাঠাব না। আপনারা ডাক্তারদের সন্মান দিতে জানেন না। আমি কোর্স শেষ করে ফেলেছি আপনারা এটা যোগ করেন নাই ইত্যাদি ইত্যাদি! এত কথা এখানে লিখে আর কি হবে?

বিষয়টা আসলে এইরকম, রোগীরা যখন আমাদের কাছে আসে তখন আমাদের ক্যাশ কাউন্টারে তার বিল করার সময় যে ডাটা ইনপুট দেয়া হয় তাই পরবর্তী যাবতীয় রিপোর্টে চলে আসে। কম্পিউটারাইজড অটোমেটিক। বিলে রেফারেন্স কলামে রোগীর ডাক্তারের নাম লিখা থাকে (রেফারেলের জন্য!) দেশের প্রায় বড় বা বড় হয়ে যাচ্ছেন এমন ডাক্তার সাহেব হলেই আমরা তার নামে কোড করে ফেলি (যদি কোনভাবেই তার একটা ইনভেস্টিগেশন আমাদের কাছে আসে)। প্রতিবারে এন্টি দেয়া হয় না। আর এই কারনেই তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল হয়েছে। কারন তিনি ইতিমধ্যেই কোর্স শেষ করেছেন কিন্তু ক্যাশ কাউন্টার তার আগের কোড মেরে তার নাম বের করেই বিল করে ফেলেছে। সময় বাঁচাতে হয়ত বাকী কিছু দেখেন নাই!

যাই হোক, এই সামান্য (উনার সামনে সামান্য বললে হয়ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরেই ফেলবেন!) বিষয়ে ডাক্তার সাহেবের কাণ্ডজ্ঞান দেখে আমি জাতি নিয়ে আশাহত। হা হা হা…

***
২২/০৬/২০১১ইং

***
আগের পর্ব: ডাক্তার সাহেবদের কাণ্ডজ্ঞান-১

(এই ধারাবাহিক ব্লগ আমি অন্য একটা বগ্লে প্রকাশ করি কিন্ত উক্ত ব্লগের ভিত্তি ভাল মনে হচ্ছে না। তাই ভাবছি এর নূতন লেখা গুলো বিডি ব্লগেই আগে প্রকাশ করব। কিন্তু মডারেশন ব্যাপারটা ভাল লাগছে না……)