ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

প্রতিদিন ডাক্তার ম্যাডাম (নারী) বেলা ৬টা থেকে আমাদের এই জায়গা ব্যবহার করে রোগী দেখেন। ৩টা বাজতেই রোগীরা ওনার কাছে (টেবিলে ডাক্তার এ্যসিষ্টান্ট থাকে) সিরিয়াল লিখাতে থাকেন এবং উনার জন্য অপেক্ষা করেন। রাত ১০টা কিংবা শেষ রোগী দেখতে যত সময় হউক তিনি থাকেন, দেখে যান। সাধারণত রাত সাড়ে দশটা তো বেজেই যায়! এখানকার সর্বোচ্চ রোগী তিনি দেখেন বলে আমার মনে হয়।

মোটামুটি ফ্লোর বিশেষনের একটা রিপোর্ট প্রতিদিন সকালে আমার টেবিলে জমা হয়। তার রোগী দেখার সংখ্যা দেখে আমি ভড়কে যাই। প্রতিদিন ৫০/৬০ এর বেশী রোগী হয়। ধরা যাক, তিনি ৫০ জন রোগী দেখেন। তিনি ৫০০ টাকা ভিজিট নেন, রিপোর্ট দেখতেও ছাড় নেই! ৫০ পুরন ৫০০ টাকা = ২৫,০০০ টাকা। প্রতিদিন পচিশ ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে তিনি বাড়ী যান এবং মাসের শেষে রেফারেল হিসাবে তিনি আরো ৬/৭ লক্ষ টাকা পান। বাৎসরিক হিসাবটা আপনারা বের করে নিতে পারেন! নিঃসন্দেহে এই টাকার তিনি একাই মালিক!

তবে এই টাকা রুজিতে তিনি আমাদের জায়গার পাশাপাশি আমাদের মেশিনারীজ, কম্পিউটার অপারেটর, টেকনিশিয়ান, হেল্পার এবং একজন সিকিউরিটি ব্যবহার করেন। এই ডাক্তার সাহেবকে পুষে আমাদেরও লাভ অনেক। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আমাদের এই চার/পাঁচ জন লোক তার কাছে থেকে কাজ করে। লোকজনের পরিবর্তন তিনি সহজে মেনে নেন না। একই লোকবল তার সাথে দিতে হয়। কখনো একজন অসুস্থ্য হলেই ওনার ধমক শুনে আমরা বিব্রর্ত হয়ে যাই, ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের কাছে আমাদের নামে কম্পলেইন করবেন বলে আমাদের শাসান।

কিন্তু এই লোকজনের বেতন ভ্রাতা কি, কে কত টাকা বেতন পান তা তিনি এত বছরেও জানেন বলে মনে হয় না এবং জানার চেষ্টাও করেছেন বলে আমি মনে করতে পারছি না। ওরা ডিউটিতে খেয়ে আসল কিনা তা অবশ্যই তার ব্যাপার নয়!

আমি প্রায় ওই ফ্লোরে ভিজিট করতে গেলে, ওরা করুন মুখে আমাকে তাদের বেতন বৃদ্বি ও কম বেতনের কথা বলে। আমার ওদের জন্য আলাদা করে কিছু করার নেই। এই ধরনের কাজে (প্রায় ২০০ লোক আছে) সবার বেতন একই রকম। বদলাতে হলে সবার জন্য বা স্কেল বদলাতে হবে। যা আমাদের ম্যানেজিং ডাইরেক্ট এই জনমে করবে কিনা কে জানে?

গত দুইদিন আগে, ডাক্তার ম্যাডামের রুম সিকিউরিটি গার্ডের সাথে দেখা। লোকটাকে অসুস্থ্য দেখাছিল। ওর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাই। কেমন হতাশ মনে হয়েচ্ছিলো। বুঝা যাচ্ছিলো টাকা পয়সার টানাটানিতে আছে। কথা প্রসঙ্গে জানতে চাই, ডাক্তার ম্যাডাম কিছু টাকা কড়ি দেন কিনা। এবার ওকে একদম হতাশ হতে দেখলাম, জানা গেল – কখনোই ডাক্তার ম্যাডাম ওদের কানা কড়িও দেন না। এমন কি চা পানির জন্যও কখনো আলাদা করে টাকা পয়সা দেন না। এমন কি ঈদে চাঁদেও না!

আমি ভাবি, হায় ডাক্তার ম্যাডাম। আপনার আর কত টাকার দরকার। আর কত টাকা হলে আপনি উদার হবেন, আপনার পাশে না খেয়ে ডিউটি করা লোকটার দিকে তাকাবেন!

(ব্যাপক বর্ননা দিলে আপনারা তাকে চিনে ফেলবেন, তাই কমই থাক।)