ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

ডাক্তার ডাক্তার একজন আর একজনকে কি রকম হিংসা করে তা না দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন না। আমরা যারা ডাক্তারদের আশে পাশে আছি, তারা বুঝি এই হিংসার বিষ কেমন? আমি মহিলা ডাক্তারদের কথা বলি, আরো স্পষ্ট দেখেছি এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি। এরা একজন আর একজনকে কি করে এমন হিংসা করতে পারেন! একটা হিংসার উদাহরন দেই, ধরা যাক এই মাসে ডাক্তার ওমুক একদিন বেশী ছুটি কাটিয়েছে। এটা মনে রেখে উদাহরন টেনে তিনি কথা বলবেনই। আপনি ওনাকে কেন কন্সিডার করেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। ধরা যাক, একই বিভাগের একজন ডাক্তার একদিন লেটে আসলেন, হয়ত আমি জানতে পারলাম না। আমাকে উক্ত বিভাগের অন্যে একজন ডাক্তারই হয়ত বলে দেবেন, অমুক ডাক্তার প্রায় লেটে আসেন। আপনি এখানে বসে বসে কি করছেন। আমি বসে ভাবি, মাঝে মাঝে বলেও ফেলি, আপনারা দেশের মেধাবী সন্তান। আপনারা সব চেয়ে বেশী পড়াশুনা করে এসেছেন, কেন এমন করেন? কেন নিজের কাজ নিজে করে নেন না, কেন একজন আর একজনের সাথে এমন করে লেগে থাকেন? এতে কার ক্ষতি হয়।

সে যাই হোক, মনের দুঃখে কথা গুলো বলছি। একজন মহিলা ডাক্তার /কনসাল্টেন্ট আজ সকালে চাকুরী হারালেন। কেন চাকুরী হারালেন সেই গল্প বলি। উনারা তিনজন কনসালটেন্ট একি বিভাগে কাজ করেন, কিন্তু একজন আর এক জনের সাথে কথা বলেন না। দুইজন পুরুষ এবং একজন মহিলা। তিন জনের বেতনই বেশ ভাল, প্রতিজন লক্ষ টাকার উপরে। কাজ ভাগাভাগী করে করতে হয়। ধরা যায় আজ পচিশটা কাজ হল। যার সময়ে যা হবে তাকে তা করে যেতে হবে, এতে দেখা যায় কেহ বেশী কাজ করেন আর কেহ কম কাজ করেন। রোগী কি সময় দিন দেখে আসে? রোগী আসে যার যখন প্রয়োজন অনুসারে!

বিকাল বা সন্ধ্যায় যিনি থাকেন তার কাছে রোগী বেশী আসে, এটা সাধারন হিসাব। তাদের তিন জনের এই সিডিউল মিলাতে আমাকে প্রায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়। বাপরে, একজনকেও খুশি করতে পারি না। এ ভাবে করলে বলে হয় নাই, এভাবে করলে বলে আমি আসতে পারব না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি পারলে এদের থেকে প্রান নিয়ে বাঁচি। সে যাই হোক আমার চেষ্টা থাকে সব সময় এদের মধ্যে একটা সুসমম্পর্ক রেখে বিভাগের কাজ চালিয়ে যাওয়া। রোগীদের যথাযত চিকিৎসা দেয়া। কিন্তু কোথায় কি? আমি এই তিনজন নিয়ে প্রায় ভাবি, এরা রোগীর সাথে কি আচরণ করেন? তিনজন নিজেরা নিজদের মধ্যে যেখানে কথা বলেন না, তারা কেমন হতে পারে ভেবে দেখুন।

যাই হোক, গত সাপ্তাহে পুরুষ দুইজন ডাক্তারকে প্রায় একি সাথে ছুটি দিতেই হল। ছুটি না দিলে চাকুরী ছেড়ে চলে যাবেন এমন দশা। বিভাগের মহিলা ডাক্তার/কনসালটেন্ট ও বাইরের থেকে একজন কনসালটেন্ট নিয়ে কোন রকমে চলছে বিভাগ। আমাদের দশা কাহিল। যাই হোক, আজ সকালে অফিসে এসে দেখি, উক্ত বিভাগের মহিলা ডাক্তার/কনসাল্টেন্ট আমার টেবিলে সাত দিনের একটা ছুটির কাগজ দিয়ে চলে গেছেন। আমার মাথায় বাজ পড়ল। কি করে এই বিভাগ চালাই (এটা একটা কঠিন বিভাগ, ইচ্ছা করেই নাম গোপন রাখছি)?

আমি আর সইতে না পেরে আমাদের এক ডিরেক্টরের সাথে বিষয়টা বলি। তিনি এই সব তদারকিতে আমাকে সাহায্য করেন, আমিও তার পরামর্শে চলি, মালিকের পর তিনিই আছেন। পুরা বিষয়টা শুনে তিনি আমার সামনেই উক্ত মহিলা ডাক্তারের সাথে মোবাইলে কথা বললেন। বললেন আপনি এভাবে ছুটি নিতে পারেন না (তিনি আগে থেকেই এদের হিংসা চরিত্র জানেন, এখানকার প্রায় সব ডাক্তার তিনিই নিয়োগ করেছেন)। বিভাগে কেহ নাই, তা ছাড়া আপনি জানেন অন্য দুইজন ছুটিতে। পর মোবাইলে কি হল জানি না, আমার সামনেই উক্ত ডাক্তারকে নিষেধ করে দিলেন, আপনার আর আসার দরকার নেই! মানে চাকুরী শেষ।

এত হিংসা এত বিদ্বেষ নিয়ে কি করে একজন ডাক্তার চলেন, আমার মাথায় ধরে না। শেষ কথা বলি, এই কনসালটেন্ট টিভিতে নানা স্বাস্থ্য অনুষ্ঠান করেন, কি ভদ্র ভদ্র কথা বলেন। আপনি দেখলে বুঝতেও পারবেন না যে, তিনি বাস্তবে কত গোয়ার এবং কত হিংসুটে।