ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

ডাক্তারদের নিয়ে আমার এই সিরিজ কিছু দিন চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকুরীর সুত্রে যখন ডাক্তারদের সাথেই থাকতে হয় তাই ভালছিলাম আবার কিছু পর্ব লেখি। গত পর্ব ৭ এ একজন ডালিম কুমার নামের ব্লগার (তার নামটা আমি আর কোথায়ও দেখি নাই, মনে হয় এটা আসল নাম নয়, নিক) আমার লেখার প্রতি উত্তরে যা লিখেছেন তাতে আমি এখন মনে হয় চাকুরী ছেড়ে নিজেই চলে যাই। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমার চাকুরী ছেড়ে চলে যাওয়াতে কি ডাক্তার সাহেবরা ভাল হয়ে যাবেন।

জনাব ডালিম ভাই, ডাক্তারদের নিয়ে আমি লিখছি এই ভেবে যে, তারা আমাদের সমাজের একটা মেধাবী অংশ এবং তারা জেনে শুনেই সেবা পেশায় এসেছেন (আমাদের মত সাধারন নন)। কিন্তু সেটা হয়ত তারা এখন ভুলে গেছেন। আমি সব ডাক্তারদের কথা বলি না। আমি নিজেও অনেক ভাল (স্বভাবে) ডাক্তার দেখেছি। এদের নিয়ে আমি গর্বও করে থাকি। আসুন আপনার পয়েন্টের উত্তর দেই। উক্ত ব্লগে দিলেও চলত, তবে বেশী পাঠকের আশায় নুতন ব্লগ লিখলাম এবং শেষে একজন ডাক্তারের আবারো একটা খারাপ উদাহরন দিব। চলুন আপনার লেখা দেখি এবং আমার ব্যাখ্যা পরে থাকবে।

আপনার এই সিরিজের কয়েকটি লেখা পড়লাম। মনে হচ্ছে আপনি কোন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পদস্থ কর্মকর্তা। ব্যাপারটি হাস্যকর হয়ে গেল না? ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অপকর্ম অবিদিত না, আপনি সেই রোগীশোষণকারী গোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি।অপকর্মে আপনিও যুক্ত।এইসব পেটে পাড়া দেয়া গোষ্ঠীর অপকর্মের ফসলের ভাগ নিতে খারাপ লাগে না? বিবেকে আটকায় না? বিবেক ব্লগের জাঝা পাওয়াতেই সীমাবদ্ধ।

হা আমি গত দুই বছর যাবত এই চাকুরীতে আছি এবং আছি বলেই ডাক্তার সাহেবদের খুব কাছ থেকে দেখছি। আমার খারাপ লাগে । আমি চাকুরী বদলে ফেলার চেষ্টায় আছি। আমার বিবেক আটকায় বলে যতটুকু পারি সততার সাথে কাজ করি। (ব্লগ না থাকলে বিবেক দেখাতে পারতাম না বটে) ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা এর ব্যবসা ধরন যদি আপনার জানা থাকে তবে এখানেও আমি মনে করি ডাক্তার সাহেবরাই প্রধান দায়ী। কারন তারাই কাজে ও অকাজে প্রচুর ইনভেষ্টিগেশন লিখেন, যা রোগীর দরকার লাগে না। ডাক্তার কেন লিখেন? বলতে পারবেন। আপনি হয়ত বলবেন, আমরা তাদের বাধ্য করি। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। আমি নিজ চোখে দেখেছি, অনেক ডাক্তার ইচ্ছা করেই লিখেন তার খাতা ভারী করতে।

নিজেই কয়েকবার বলেছেন আপনি ‘ভগবান’ ডাক্তারদের কাছে গদগদ ভক্তি প্রকাশ করেন।তাদের ছাড়া আপনাদের চলে না।অবশ্য মাঝে মাঝে তারা আপনাকে পুছে না। এতো খারাপ তারা কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস আপনার হয় না। তাই যেখানে নিরাপদে দাঁড়িয়ে সস্তায় কিছু বাহবা যোগাড় করা যাবে সেখানেই লিখতে বসেছেন।বিবেকবোধের যে ঝাণ্ডা তুলে আপনি লিখে চলেছেন তা আপনার থাকলে হাততালি মার্কা লেখা নয় প্রতিবাদ করে শোষকদলের চাকরি ছেড়ে দিতেন। আর হিংসার কথা বলছেন।

আমার লেখাকে আপনি হাত তালী মার্কা লেখা কেন ভাবছেন? আমি তা ভাবি না। আমি মনে করি আমার সীমাবদ্বতার মাঝেই কিছু সত্য কথা বলে যাওয়া চেষ্টা মাত্র। আমি নানা পেশার মানুষের সাথে কাজ করেছি – দেশে ও বিদেশে। এখনো বলব, ডাক্তারদের একে অপরের প্রতি হিংসা চোখে পড়ার মত। এটা আমার অভিজ্ঞতা। আপনার পেশা কি জানতে পারলে ভাল লাগত। তবে মনে হচ্ছে আপনিও ডাক্তার। তাই আপনারো হিংসা দেখছি! বাহ… (একটা চাকুরী আমায় দিতে পারবেন…… শোষকদল ও হিংসুটের দল ছেড়ে যেতে চাই!)

আপনি প্রায় প্রতিটি লেখাতেই ডাক্তারদের আয় নিয়ে ঈর্ষায় জ্বলেপুড়ে মরা হিসেব দিয়েছেন।কিন্তু ডাক্তাররা সারা পৃথিবীতেই এর চেয়ে বেশি হারে কামাই করে।কী আফসোস তাই না? কিছু করার নেই সব আপনার মাথার মাপে হবে এমন কোন কথা নেই। আচ্ছা আপনি যে কাজ করে যে অংকের বেতন তুলেন তা কি যৌক্তিক? এই কাজ গ্রামের বোর্ড অফিসের কেরানি অনেক অল্প বেতনে সারে।

ভাল বলেছেন বটে। আমার আগের ব্লগ গুলোতে আমি ডাক্তারদের আয় নিয়ে বলেছিলাম বটে। তারা টাকা বেশী রুজি করবে না তো কে করবে? আমার ইর্ষা কেন থাকবে? গু’কামড়ে যদি টাকা রুজি করতে চাইতাম তা হলে কি আর এই সাধারন চাকুরী করতাম! আপনি বুঝতে ভুল করছেন, আমার বলতে চেয়েছি, এত টাকা রুজি করেও কেন ডাক্তার সাহেবরা উদার হয় না। কেন তার একজন পাশে কাজ করা কম্পিউটার অপারেটর কিংবা একজন সামান্য বেতনের টেকনিশিয়নকে ঈদে চান্দেও সামান্য টাকা দেন না! (গ্রামের বোর্ড অফিসের কেরানীর চাকুরী মন্দ নয়! তবে অনেক ডাক্তার আছে কেরানী থেকেও নীচে, আমি নিজেই দেখেছি! হিসাবে দেখা যায় আপনিও সেই দলে পড়বেন।)

আপনি যাদের সাথে কাজ করছেন, আপনার ভাষাতেই আপনাদের কাছে যারা ‘ভগবান’, তাদের পারস্পরিক ঈর্ষা, গীবত নিয়ে লিখেছেন অথচ আপনিও ঠিক একই কাজ করলেন। হয়তো আপনার সম্পর্কেও আপনার সহকর্মীরা একই কাজ করে ব্লগ ভাসাচ্ছে।

আপনার মাথা মোটা। পারস্পরিক ঈর্ষা বা গীবত বলছেন কেন? আমি যেহেতু এদের সাথে কাজ করি, আমি আমার অভিজ্ঞতাই লিখছি। এটা অনেকটা তথ্য/ইনফরমেশনের মত। আমি খারাপ কাজ করলে আমাকেও নিয়ে লিখবে, এটাই স্বাভাবিক।

যাই হোক, আপনার চিন্তা আপনার কাছে আমার চিন্তা আমার কাছে। আমি সাধারন ভাবেই যে কোন বিষয়ের চিন্তা করি। আমি যদি এখন ঘুষ নেয়া কোন ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কোন পেশার সাথে কাজ করতাম তা হলে তাদের খারাপ বিষয় নিয়েও লিখতাম। আমার বিবেক জাগ্রত আছে এবং থাকবে।

যাক এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। একজন ডাক্তার কার থেকে তার ভিজিট ফী নিবে আর কার কাছে থেকে নিবে না, এটা তার ইচ্ছার ব্যাপার। তবে তিনি চাইলেই সবার কাছে থেকে এমন কি তার নিজের মা/বাবার কাছে থেকেও ভিজিট নিতে পারেন। এটা তার স্বাধীনতা বটে!

সে রকমই একটা ঘটনা গত সপ্তাহে জানলাম। আমাদের মহল্লায় ঘটেছে। সত্য। ডাক্তার সাহেব (শিশু বিশেষজ্ঞ) আমার এক সময় আমার পাশের বাসায় থাকতেন। আমাদের বাড়ীওয়ালার (তিনি নিজেও ধনী নন) একজন পালিত মেয়ে (পড়াশুনা করান নাই, কাজেই কাজের মেয়েই বলা ভাল) আছে। ডাক্তার সাহেব যখন এই বাসায় ছিলেন তখন এই পালিত মেয়েটা তার ছোট ছেলেকে কোলে পিঠে করে বড় করেছে, যা অনেকে দেখেছে। কালের আবর্তে এই মেয়েটার বিবাহ হয়েছে (গরীব স্বামী পেয়েছে দিনে আনে দিনে খায় অবস্থা) এবং এই মেয়ের এখন একটা মেয়ে শিশু আছে। স্বাস্থ্য সমস্যায় কয়েকদিন আগে এই পালিত মেয়ের ছোট শিশুটাকে নিয়ে উক্ত ডাক্তার সাহেবের কাছে গিয়েছিল। ডাক্তার সাহেব পালিত মেয়েটার সব কিছুই জানেন, কিন্তু শুনেছি তার ভিজিট নাকি মাফ করেন নাই। পাঁচশত টাকা ভিজিট নিয়ে ব্যবস্থা পত্র লিখেছেন! ঘটনা শুনে আমি বলেছিলাম, বাহ!

জনাব ডালিম কুমার ভাই, আপনিও কি ‘বাহ’ বলছেন নাকি অন্য কোন ব্যাখা নিয়ে আসছেন। দূরে গিয়া মরেন এবং চিন্তায় সরল রেখা আনেন।