ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

আমি যখন লেখাটি লিখছি তখন হলো মহরম আশুরা। এই দিন আমার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তাই ভাবলাম একটু দেরিতে খুব থেকে উঠবো। কিন্তু তারও উপায় নাই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আমাকে সকাল সকাল জাগতেই হলো। যা হোক সকাল বেলা আবার আমার গরম ওভালটিন চা না হলে চলে না। তাই চায়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তায় বেরুতেই মোবাইল ফোন বাজতে শুরু করল। দেখি বাবা ফোন দিয়েছে। ওপাশ থেকে বলল …, বাবা কেমন আছ তুমি? সব ঠিকঠাক তো। শুনলাম তোমাদের চট্টগ্রাম এ নাকি কি যেন গোলমাল হচ্ছে আবার টিভিতে দেখাচ্ছি ফ্লাইওভার ভেঙ্গে মানুষ মারা গেছে। তুমি তো আর ঐদিকে যাওনি বাবা তাই না? দেখে শুনে পথে চলাফেরা করিও, রাস্তায় কোন আজেবাজে ছেলের সাথে মিশবে না। কেউ কোনো খারাপ কথা বললে তুমি কিছু না বলে বাসায় চলে যেয়ো। কাউকে কোন ধরনের বাজে উক্তি করবে না, রাস্তার কোন পরিচিত বা অপরিচিত লোকের সাথে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করিও না। এই বলে বাবা ফোন রেখে দেয়। যা হোক আমি ছোটবেলা থেকে বাবার ঐসব উপদেশ মেনে আসছি। চায়ের দোকানে যেতেই দেখি স্কুল ব্যাগ হাতে মনে হয় প্রাইভেট এ যাচ্চে,এক ছাত্র এসে বলল ..মামা আমাকে একটা বেনসন দাও তো! আমি অবাক,, যে বয়সে আমরা ছুটতাম শুধু স্কুল আর প্রাইভেট বই খাতা নিয়ে আজ তারা ছুটছে স্কুল ব্যাগ ও সিগারেট হাতে নিয়ে। কি অদ্ভুত ব্যাপার। কিছু বলার আগেই বাবার কথাগুলো মনে পড়ল। কিছুই বলতে পারি না, কারণ যদি কিছু বলতে যাই তাহলে হয়ত আমাকে বলে বসবে ….আমার বাবার টাকায় আমি সিগারেট খাচ্ছি। তোমার কি? ঐ দিনই একটু জরুরী কাজ সারতে কাজীর দেউরীস্থ ভিআইপি টাওয়ারে যাই। সেখানে দেখি একটা ছেলে ওপেন রাস্তায় সিগারেটে আগুন দিচ্ছে। বয়স তেমন একটু হবে না? এই ধরুন ৮-৯ বৎসর। আমি আরো অবাক হই। আশেপাশে কত লোক তার সাথে সঙ্গ দিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। যার বেশির ভাগই বয়স্ক ভদ্রলোক। তারা কি শুধুই কাঠের নির্বাক পুতুলের মত দাড়িয়ে তামাশা দেখবে? আমি সইতে না পেরে ঐ ছেলেটিকে ঢেকে ধমক দিতেই পাশ থেকে এক ভদ্রলোক বলে উঠল: আহা..ওর যা ইচ্ছা তাই করুক আপনি বলার কে? আপনিই বা কেন ওর নিজস্ব স্বাধীনতা খর্ব করছেন? এই ক্ষেত্রে আমার কিছুই বলার ছিল না। নির্বাক ঘুড়ি হয়ে আকাশের পানে চেয়ে নাটায়ের অপেক্ষা করে যাচ্ছি। এখন আপনারা যারা পাঠক তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ …। কেন আমরা এই ধরনের সমাজ ব্যবস্থায় সাথে পরিচয় হবো। আমাদের স্বাধীনতা মানে তো এই ছিল না!! আমরা কি নিয়ে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকে সামনে এগিয়ে নিবো। আমাদের পরবর্তী জেনারেশন কে আমরা কোন ধরনের সমাজ ব্যবস্থা উপহার দিয়ে যাবো। এই ভেবে ভেবে শুধু নিজের মধ্যেই আক্ষেপ জাগে..কিছুই করার নাই।