ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

সমকামিতা মহামারি রূপ ধারণ করেছে। পৃথিবীর আদিমতম একটি ব্যাধি হচ্ছে এই সমকামিতা। মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে সমকামিতার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। কিন্তু সভ্য জগতে মানুষ কেন এরকম পশুবৃত্তিক কাজে লিপ্ত তা আমার বোধগম্য নয়। অনেকবার ভেবে দেখেছি এই ভয়াবহ বিষয়টিকে নিয়ে। বিয়ামে একটা ওয়ার্কশপে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে কিশোর-কিশোরীদের যৌন হয়রানিমূলক একটি সেশন ছিল। ভীষণ অবাক হলাম এটা ভেবে যে, কিশোরীরা বাড়িতে যৌন হয়রানির স্বীকার হয় কিন্তু কিশোররা কিভাবে হয়! আলোচনার গভীরে প্রবেশ করে জানলাম ভয়াবহ সব তথ্য। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে অনেক অজানা তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একশত জন পুরুষের ওপর জরিপ চালানো হয় টাঙ্গাইল জেলায়। জরিপে অংশ নেয়া লোকগুলোর বয়স ২০ থেকে ৪০ এর ভেতরে। তারা জানিয়েছে তাঁদের ছেলেবেলার ভয়াবহতম যৌন হয়রানিমূলক ঘটনা। তারা যাদের দ্বারা যৌন হয়রানির স্বীকার হয় তারা তাঁদের ঘরের মানুষ। এরা হচ্ছেন-মামা, চাচা, খালু, পিতামহ, খালা, চাচি বাড়ির কাজের লোক/মহিলা, বাড়ির গাড়ি চালক প্রমূখ ব্যাক্তি। এতে দেখা যাচ্ছে তারা শুধুমাত্র নারীদের দ্বারা নয় সমকামিতার শিকার হয়েছেন ঘরের মানুষ দ্বারা।

নিচে কয়েকটি সত্য ঘটনা কেস স্টাডির মাধ্যমে প্রকাশ করা হল। সঙ্গত কারণে দু’জনের প্রকৃত নামের বদলে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হল।

কেস স্টাডি ১
বছর খানিক আগে আমার সমবয়সী এক বন্ধুর (তার নাম সাইফ, হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়াকালীন সময়ের একটি ঘটনা ) মুখ থেকে শোনা –
আমাদের ইন্সটিটিউট থেকে আমাদেরকে একবার হোটেল রেডিসনের একটি প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমরা নানান বিষয়ে অনুশীলনে ব্যাস্ত ছিলাম। আগত অতিথিদের মধ্যে অনেকের সাথেই পরিচয় হয়। কানাডায় বাস করা এক বাংলাদেশী ভদ্রলোকের সাথে পরিচিত হয়ে বেশ ভাল লাগল। এ কথা সে কথা বলতে বলতে হঠাৎ ভদ্রলোকের অদ্ভুত এক প্রস্তাবে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম! লোকটি আমাকে রীতিমত একটা লোভনীয় প্রস্তাব দিল কানাডাতে খুব সহজেই কিভাবে আমি যেতে পারি সে ব্যাপারে। বেশ আগ্রহ নিয়ে শুনতে লাগলাম। কিন্তু লোকটি এমন এক কুৎসিত প্রস্তাব দিল যে তাতে করে মেজাজ পুরো চটে গেল। লোকটির প্রস্তাবটা ছিল এরকম- ‘আপনি একটা বিশেষ গ্রুপ/সংগঠনের সাথে কাজের সুযোগ পাবেন। আপনাকে আমরা বিভিন্ন হোটেল বা বাড়িতে পাঠাব। আপনি সেখানে পুরুষদের সাথে শারীরিকভাবে মিলিত হবার সুযোগ পাবেন। আমাদের সংগঠনে এরকম অনেক নারী/পুরুষ আছে যারা সমকামিতাকে উপভোগ করে এবং এটা তাঁদের কাছে চমৎকার একটি পেশা মূলক কাজ। এটা খুবই নিরাপদ। কোন প্রকার ঝুঁকি নেই। আপনি যদি মেয়েদের সাথে মিলিত হোন তবে কত প্রকার ঝামেলা পোহাতে হয় তার হিসেব নেই। সমকামি হলে অনেক সুবিধা। আপনি প্রতিটি আউটগোয়িং এ মোটা অঙ্কের টাকা পাবেন।’

মাথাটা এমন গরম হল কথাগুলো শুনে। আমি বেশ শান্ত কণ্ঠে বললাম- আমি স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাব আর আমার পুরুষদের সাথে নয় বরং মেয়েদের সাথে শারীরিকভাবে মিলিত হতেই বেশি ভাল লাগবে বলে আশা করি।

কেস স্টাডি ২
একদিন এক বন্ধু (বন্ধুর নাম মুন্না, ব্যবসায়ী) ফোন করে জানাল তার এক মহা ঝামেলায় কথা। সে যা বলল-
কয়েকদিন হল একটা ছেলে আমাকে ফোন করে খুব ডিস্টার্ব করে। তার কথা বার্তা শুনলে মনে হয় যেন সে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে। ছেলে হয়ে আর একজন ছেলেকে কিভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে তা আমার বোধগম্য হল না। খুবই অবাক হলাম। সে আসলে কি চায় এটা বোঝার জন্য তাকে আমার অফিসে আসার আমন্ত্রণ জানালাম। আর ভুলটা করলাম তখনই। সে আমার অফিসে এলো এবং আমাকে ইনিয়ে বিনিয়ে সমকামিতার প্রস্তাব দিতে লাগল। তাকে এক প্রকার বাধ্য হয়ে অফিস থেকে বের করে দিলাম। এর পরেও বেশ কয়েকবার অফিসে আসে সে। সেই সাথে ফোনতো করেই যাচ্ছে। অবশেষে তার ফোন নাম্বার ব্লক করে দিয়ে অফিস অন্যত্র নেবার চিন্তা-ভাবনা করলাম। বলাতো যায় না সে আবার আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্য কি না কি করে বসে।

কেস স্টাডি ৩
সমকামীরা শুধুমাত্র কম বয়সীদের টার্গেট করে না বয়স্কদেরও তারা কুপ্রস্তাব দেয়। মুস্তাফিযুর রহমান (ছদ্মনাম), পেশায় সাংবাদিক, লেখক এবং কলামিস্ট। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ছেলের পড়া কালীন সময়ে তার কম্পিউটারে বসে কয়েক ঘন্টার অবসর কাটান। ফেসবুক, ইয়াহু আর স্কাইপের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থাকা সহকর্মী-বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেন। বেশ ভাল লাগে তার। একদিন ফেসবুকে অপ্লবয়সী একটা ছেলে তার ফ্রেন্ড লিস্টে এড হল। ভাল ছেলে মনে করে ছেলেটির অনুরোধে প্রথম দিনই মুস্তাফিজ সাহেব তাকে তার ইয়াহুতে এড করে নিলো। ঘটনার শুরু এবং শেষ এখানেই। ছেলেটি তার নিজের ওযেব ক্যাম থেকে তাকে দেখার অনুরোধ করায় ভদ্রলোক ক্যাম ইনভাইট একসেপ্ট করে ভয়াবহ দৃশ্যের স্বীকার হলেন। ছেলেটি তার মুখ না দেখিয়ে তার বিশেষ অঙ্গের দিকে ক্যাম ধরে রেখে নানান কৌশল দেখাতে লাগল। মুস্তাফিজ সাহেব ভরকে গিয়ে ক্যাম বন্ধ করে দিলেন এবং আশে-পাশে দেখলেন তার স্ত্রী কিংবা ছেলে-মেয়েরা কেউ দেখে ফেলল কিনা। ছেলেটি আবারো ক্যাম ইনভাইট করল। মুস্তাফিয সাহেব একসেপ্ট করলেন এবং আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। ছেলেটি তাকে বিভিন্ন কথাও লিখল অনলাইনে সমকামি সেক্সে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে। অবশেষে বাধ্য হয়ে ছেলেটিকে ব্লক করে দিয়ে সে যাত্রায় তিনি রক্ষা পেলেন।

কেস স্টাডি ৪
সাইফুল ইসলাম (ছদ্মনাম), পেশায় আইনজীবী এবং একজন নাম করা রাজনীতিবিদ। স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে অনেকদিন আগেই। বর্তমানে তিনি একা থাকেন। অবসর সময় কাটান বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে এবং অনলাইনে। খুবই স্পষ্টবাদী মানুষ। তার নিজের সম্পর্কে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে নির্বিকারভাবে নিজের ব্যাপারে সত্য কথা বলতেই তিনি পছন্দ করেন। আর এতে করে তার দিকে ছোখ পড়েছে বেশ কিছু সমকামীদের। প্রায়শই তিনি ফেসবুকে সমকামিতার প্রস্তাব পান। এমনকি তার প্রোফাইলে সেল নাম্বার থাকায় অনেকেই তাকে ফোন করে সমকামি হবার আহ্বান জানায়। তাঁদের প্রস্তাবনার ভাষাগুলো এরকম-
‘আমি আপনার সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাতে চাই। আপনাকে চুমু দিতে দিতে অনেক আদর করব। সারা রাত ধরে আমরা দু’জন দুজনকে জড়িয়ে ধরে রাখব। আমরা বেড়াতে যাব; একসাথে বসে বাদাম খাব। আই লাভ ইউ…’

ভদ্রলোক রীতিমত অতিষ্ট। তিনি ফোন নাম্বার বদলানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন।

নারী সমকামীদের সংখ্যাও অনেক বেশি। সমকামী নারীদেরকে ইংরেজিতে বলা হয় লেইসবিয়ান এবং পুরুষদেরকে বলা হয় গে। কিছুদিন আগে শুনলাম একটা নাম করা মেডিকেল কলেজের ২ সমকামী ছাত্রীর কথা। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে হল বা হোস্টেলে এবং ব্যাচেলর বাসাগুলোতে এ ধরণের কার্যকলাপ হয় বলেই ধারণা। তবে উন্নত দেশে এসব কোন ব্যপার নয়। প্রয়োজনে তারা আইন পাশ করে নিচ্ছে সমকামী বিবাহের জন্য।

সমকামিতা মানুষকে বিকৃত আনন্দ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে সম্পর্ক স্থাপন মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ যদি না হয় তবে সমকামিতা কেন?