ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

অর্থনীতি একটি দেশের মূল ভিত্তি । যে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি যতটা মজবুত সে দেশ ততটা উন্নত । একটি দেশের মূল কাঠামো উন্নত অর্থনীতি ব্যাতিত চিন্তা করা যায় না । আর তাই প্রতিটি দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে সুষ্ঠু অর্থনীতির মাধ্যমে । অর্থনৈতিক অবস্থার বিচারে বিভিন্ন দেশকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-

১. উন্নত দেশ

২. অনুন্নত দেশ

৩. উন্নয়নশীল দেশ

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ । এদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে কৃষির উপর । চাল, ডাল, গম, আলু, ভূট্টা ইত্যাদি কৃষিজ ফসল উৎপাদিত হয় বাংলাদেশের মাটিতে । তবে বর্তমানে শিল্প ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ কিছুটা উন্নয়নের পথে যাত্রা করেছে । বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশে । এসব বিচারেই বোধয় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ । বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ আর অতীতে ছিল অনুন্নত দেশ । অতীতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল শুধুমাত্র কৃষি নির্ভর । তখন দেশে উৎপাদিত হত দেশীয় ফসল । যেগুলোর বেশিরভাগ নাম আমরা বর্তমান প্রজন্ম জানি-ই না । আমাদের দেশে উৎপাদিত হত সোনালী আঁশ পাট । পাট এবং পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানী করে আয় হত হাজার হাজার কোটি টাকা । অতীতের কৃষির কথা চিন্তা করলে বর্তমানে কৃষির অবস্থা আরো উন্নত হওয়া উচিত বলে মনে হয় । বর্তমানে উৎপাদিত উন্নত জাতের ফসলের পাশাপাশি আমাদের দেশী ফসলের অব্যাহত উৎপাদন বজায় থাকলে দেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতি আরো উন্নত থাকত । কিন্তু বিদেশী হাইব্রিড বীজের ভীড়ে আমাদের দেশী ফসল (বীজ) বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে । ব্যাবহৃত হচ্ছে সার, কিটনাশক । যার ফলে নদী-নালায় উৎপাদিত হচ্ছে না পর্যাপ্ত মাছ । কমে যাচ্ছে উর্বরতা । হারিয়ে যাচ্ছে নদীর নাব্যতা । সবকিছু মিলিয়ে আমাদের দেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির উন্নয়ন মৃতপ্রায় । বাইরের দেশ থেকে বিপুল পরিমান ভর্তুকী দিয়ে খাদ্য আমদানী করতে হচ্ছে ।

প্রায় প্রতিবছর ঘাটতি বাজেট নিয়ে ধুকে ধুকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ । আর সকল সমস্যার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ । বেড়েই চলেছে বেকারত্ব । পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন নেই । দেশের সামগ্রিক সমস্যা নিয়ে বড় বড় গোল টেবিল বৈঠক হয় কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন হয় না তেমন কিছুরই । রাস্তা, ব্রিজ, কালর্ভাট , বিদ্যালয় অবকাঠামোর সংস্করণ মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে বছরের পর বছর । এসব গোল টেবিল বৈঠকে যে অর্থসমূহ ব্যয় হয় সে অর্থ হিসেব করলে নেহায়েত কম হবে না । চাল, আলু , তেলসহ বিভিন্ন পণ্য গুদামজাত করে ব্যবসায়ীরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ কর ফাঁকি দিচ্ছে, এসব দিকে নজর না দিলে অভাবের কালো মেঘ কাটানো যাবে না ।

স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পার হয়েও এদেশের দৃশ্যপট বদলায়নি । রাস্তায় জীর্ণ মানুষের বাড়ানো ভিক্ষের হাত তো এদেশের-ই প্রতিকী চিত্র । দেশের মানুষ ভাত পায় না , রাস্তায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভিক্ষুক , ছিনতাই-ডাকাতি । দেশের মানুষ চিকিৎসা পায় না । হাসপাতালের বারান্দায় কারো কারো জায়গা হয় কি হয় না । অথচ কর্তাব্যক্তিদের অসুস্থতায় প্রাথমিকভাবে বড় কোন হাসপাতাল কিংবা বিদেশ বিভূই…

প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্য কোন বিশেষ ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাবেন । এক্ষেত্রেও সাধারণ জনগণকে বলির শিকার হতে হয়। ওই রাস্তা দিয়ে শ্রদ্ধেয়রা গমন না করা অবধি কারো চলাচলের অনুমতি নেই । এর জন্য হয়ত কতজনেরই অফিসে দেরিতে পৌঁছাতে হচ্ছে কিংবা অন্য কোন সমস্যায় অবতির্ণ হতে হচ্ছে । কে রাখে এসব খোঁজ ! যখন যে দল বিরোধী দলে থাকে তারাই তখন হরতাল ডেকে অর্থনীতির অবকাঠামোকে করছে ভয়াবহ । কেউ জনগণের কথা ভাবে না , সবাই ক্ষমতালোভী ।

অবান্তর খরচ করে যে টাকা নষ্ট করা হয় সে টাকা গঠনমূলক কাজে ব্যয় করতে সমস্যাটা কোথায় ? বিশেষ কোন তোরণ , সদর দরজা বানাতে লাখ টাকা ব্যয় করা আমাদের মানায় না । গরীব গরীব-ই থাকবে ।সারা দেশে অসংখ্য ভাঙা…আধমরা রাস্তা-ঘাট । ধুকে ধুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ । প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহততের করুন ছবি । এভাবে আর কতদিন চলবে কেউ জানে না !

ইচ্ছে করলেই একটুখানি স্বদিচ্ছায় এদেশের সুফল সম্ভব । বিশ্বযুদ্ধের পর যদি জাপান মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে , বাংলাদেশ পারবে না কেন ? যারাই দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকে তারাই অভিনব পদ্ধতি তে লুটপাট করে । আর সর্বদিক থেকে ভুক্তভোগী হয় হতভাগা মানুষগুলো ।

গ্যাস , বিদ্যুৎ , পানির অভাবতো নিত্যনৈমিত্তক ব্যপার । কিন্তু যারা দেশের হর্তা-কর্তা তারা এ সকল সমস্যার আঁচ কখনো অনুভব করে না । কারণ তাদের আবাস কিংবা কর্মস্থলে কখনোই বিদ্যুতের ঘাটতি হয় না । একবার এক সরকারী অফিসে গিয়ে দেখলাম কর্মকর্তা অফিসে তখনও এসে পৌঁছাননি কিন্তু তার কক্ষের প্রতিটি বৈদ্যুতিক পাখা আর লাইট নির্বিঘ্নে চলছে/জ্বলছে । অথচ বাড়ি থেকে বেরুনোর সময় দেখেছি আমার এলাকায় লোডশেডিং । তখন মনে হলো, এই আমরাই পাখার হাওয়া আর লাইটের আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে ওই সব কর্তাব্যক্তিদের জন্য আলো-হাওয়ার যোগান দিচ্ছি । এই সমস্যা নিরসনের জন্য সরিষা থেকে ভুত তাড়াতে হবে অর্থাৎ সরকারী অফিসসমূহে ব্যবহৃত বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে হবে ।

আমাদের অর্থনীতি কে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে হলে বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি । সমু্দ্রে ঝড়ের সংকেত দিলেই শুধু হবে না ,মানুষ কে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে । বাংলাদেশ গড়ার জন্য গোল টেবিল বৈঠক আমাদের কাম্য নয় । আমরা হরতাল চাই না । আমরা চাই চলমান উন্নয়নশীল অর্থনীতি, চাই গুদামে যেন চাল, আলু পঁচে না যায় । নদীতে সময় মত পানি এবং মাছ আমাদের কাম্য । এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোর প্রতি যদি রাষ্ট্র পরিচালকেরা নজর দেন তাহলে বছরে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হবে না খাদ্য, জ্বালানী এবং অন্যান্য খাতে । আর এভাবেই হয়ত আমাদের দেশ নিজস্ব সম্পত্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে উন্নত হতে পারবে । বহুজাতিক কোম্পানীগুলোও বিনিয়োগের নাম করে আমাদের কে স্বস্তা শ্রমিকে রূপান্তর করতে পারবে না ।