ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নব্বইয়ের দশকে একজন আন্দোলনকারী ক্রমেই মাথা তুলতে শরু করেন। তাঁর নাম শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ (জন্মঃ ২৩ মার্চ, ১৯৬৫। জন্মস্থানঃ পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি।) । সিরাজ সিকদারের আদর্শকে অনুসরণ করে তিনি আন্দোলন পরিচালনা করতে থাকেন। তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক সর্বহারা পার্টির সভাপতি। তিনি সে সময় সিরাজ সিকদার পরিষদেরও সভাপতি ছিলেন (১৯৯২ সালের ৪ জুন শেখ মহিউদ্দিন আহমদ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে সাবেক পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক এমপি(মরহুম), তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাবেক আইজিপি ই এ চৌধুরী, সাবেক রক্ষীবাহিনীর মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ নাসিম এমপি প্রমূখের বিরুদ্ধে ৩০২ ও ১০৯ নম্বর ধারায় অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার আর্জিতে বলা হয় আসামিরা মরহুম শেখ মুজিবের সহচর ও অধীনস্থ কর্মী হিসেবে শেখ মুজিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং গোপন শলা-পরামর্শে অংশগ্রহণ করতেন। আসামিরা তৎকালীন সময়ে সরকারের উচ্চপদে থেকে অন্য ঘনিষ্ঠ সহচরদের সঙ্গে শেখ মুজিবের সাথে সিরাজ সিকদার হত্যার নীলনকশা করেন। তারা এ লক্ষ্যে সর্বহারা পার্টির বিভিন্ন কর্মীকে হত্যা, গুম, গ্রেফতার, নির্যাতন ও হয়রানি করতে থাকেন)।

পরবর্তীতে শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ সর্বহারা পার্টির বিলুপ্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমমনা কয়েকটি দল নিয়ে ‘লিবারেল পার্টি বাংলাদেশ’ গঠন করেন ১৯৯৮ সালের আগস্টে। দেশের গতানুগতিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পরির্বতন, ভারতের শাসন-শোষণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারা অব্যাহত রাখেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লিবারেল পার্টিকে গতানুগতিক রাজনীতির ধারার বাইরে রেখে সুস্থ ধারার রাজনীতি পরিচালনা করেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বহুবার জেলে গিয়েছেন। ক্রমেই তিনি দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের আতঙ্কে পরিণত হন। এবারও ইহিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়। তাকে বিনা পরোয়ানায় আটক করে একটি সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সাত দিন অমানবিক নির্যাতন করা হয় রিমান্ডে রেখে। তাকে ক্রসফায়ারের আওতাভূক্ত করা হয়। কিন্তু সেনাবাহিনীর কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি জামিন লাভ করেন এবং আয়ারল্যান্ড লিবারেল পার্টির নেত্রীবৃন্দের সাথে তাৎক্ষনিক যোগাযোগের মাধ্যমে সে দেশে চলে গিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন (সময়টি ২০০৫)। তা না হলে সিরাজ সিকদারের মতো শেখ মহিউদ্দিনকেও একই পরিণতির স্বীকার হতে হত।

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল বার কাউন্সিল ও ইন্টারন্যাশনাল ল’ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি আয়াল্যান্ড সরকারের বৃত্তি নিয়ে আইনশাস্ত্রে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন এবং ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজমে ডাবলিন সিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ শেষ করেছেন। এছাড়া নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের সংগঠন ‘আইরিশ মাইনরিটি কাউন্সিল’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বারএ্যাট ল’ ডিগ্রি অর্জনের জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন । এর পাশাপাশি সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড স্ট্র্যাটেজি পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি রাজনীতিতে একটি নতুন কনসেপ্ট বা ধারনা আনার জন্য তিনি গবেষণা শুরু করেছেন। আর এই নতুন কনসেপ্টটি হবে ’ন্যাচারাল ডেমোক্রেসি’ বা ’মুক্ত গণতন্ত্র’। অতি শীঘ্রই তার পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। তার কনসেপ্টটি আনার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন,‘‘ এই সময়ে আমাদের এমন এক পদ্ধতির রাজনৈতিক কনসেপ্টকে বেছে নিতে হবে যেখানে পুঁজির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবেনা, যেখানে সমাজতান্ত্রিক যান্ত্রিকতা থাকবেনা, যেখানে ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। পুঁজির বিকাশ হবে মানুষের জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণে, সমাজতান্ত্রিক সামাজিক ব্যবস্থাও থাকবে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে এবং সর্বোপরি মানুষের আধ্যাত্বিক বিকাশকে বাঁধাগ্রস্থ না করে মানবিক উন্নয়নে সংযুক্ত করা হবে এই নতুন কনসেপ্ট এর লক্ষ্য। কেবল আধ্যাত্মিকতার অনুশীলনই মানুষের মধ্যে মরাল বা মূল্যবোধ সৃষ্টি করে।’’

তিনি দেশের বাইরে থেকেও লিবারেল পার্টি বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন করছেন। অনলাইনের মাধ্যমেও তার আন্দোলন পরিচালনা করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওবেব সাইটগুলোতে।রাজনীতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর জন্য তাঁর অবিচল পথ চলা। তিনি মনে করেন একমাত্র নতুন প্রজন্মই পারে দেশের অরাজকতা, নৈরাজ্য দূর করতে যদি তাদের কে সঠিকভাবে দিক নিদর্দেশনা দেয়া যায়। হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে আজ সমজের প্রতিটি স্তরের মানুষ দিন দিন কলুষিত হয়ে পড়ছে শুধুমাত্র সৎ নেতৃত্ব বা নেতার অভাবে।

সাম্প্রতিক ঘটনাঃ
সম্প্রতি (ফেসবুকে) সাগর-রুনী হত্যাকান্ড সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারনা চালানোর জন্য এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ কে সরাসরি দোষারোপ করে বলেছেন, বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ডিজিএফআই সরাসরি দেখছে, শেখ মহিউদ্দিন আহমেদের এতে সমস্যা হবে, আইরিশ সরকারও তাকে এ বিষয়ে জবাবদিহি নেবে। তিনি খুব বেশী বাড়াবাড়ি করছেন, যদিও তিনি তাকে প্রচারনার উদ্যোক্তা না বললেও ২নং উদ্যোক্তা উল্লেখ করে তাকে সরাসরি দোষ দেন।

এখন আর সাংবাদিক সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের খবর নিয়ে সংবাদের দাপট কমে গেছে। বেড়ে গেছে হত্যাকান্ডে জনগণের দ্বারা সন্দেহভাজন জড়িতদের রক্ষার মিশন ও মিথ্যাচারের অভিযাত্রা। এরই অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ”বাংলাদেশ প্রতিদিন” যার মালিক একটি চিহ্নিত ভূমি ব্যবসায়ী গ্রুপ। তারা তাকে ফ্রিডম পার্টি ও যুব কমান্ড এর সদস্য বানিয়েছে।

এটিএন ‘র এই মিথ্যা প্রচারণায় এটাই প্রতিয়মান হয় যে এই হত্যাকাণ্ডকে তারা অন্যদিকে মোড় ঘুরাচ্ছে। এখন হত্যাকারীকে ধরার চেয়ে প্রচারণাকারীর প্রতিই তারা মনযোগী।

সাংবাদিক সাগর-রুনী হত্যা রহস্য উন্মোচনের ও প্রকৃত খুনী এবং নেপথ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কমিশনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে INTERNATIONAL COMMISSION FOR FACT FINDING OF SAGAR RUNI MURDER IN BANGLADESH.বাংলাদেশ ব্যাতীত (নিরাপত্তা জনিত কারনে) পৃথিবীর অন্য সকল দেশ থেকে কমিশনের সদস্যদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ একটি অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছে। এভাবে আর কতদিন দাসত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে হবে আমরা জানি না! আমরা সাধারণ মানুষেরা যেন ওদের কাছে জিম্মী হয়ে আছি! কারণ প্রতিবাদী হতে গেলেই সিরাজ সিকদারের মত মরতে হবে কিংবা শেখ মহিউদ্দিনের মত দেশ থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিতে হবে জীবন বাঁচানোর জন্য। বর্তমান সময়ে গুপ্তহত্যা, অপহরণ, র‌্যাব সংগঠিত ক্রসফায়ার নিত্যনৈমিত্তিক সংস্কৃতি বা কালচারে পরিণত হয়েছে। অভিনব পদ্ধতিতে দেশের মানুষের প্রাণ নেয়া হচ্ছে। মানুষ হয়ে মানুষকে কেমন করে নির্বিঘ্নে হত্যা করে যার কোন বিচার নেই! খাদ্যের অভাবে ডাইনোসর নিজ জাতির মাংস ভক্ষণ করে শেষ মুহূর্তে বিলুপ্ত হয়েছিল মানুষেরও কি তবে বিলুপ্তীর সময় এসে গেল!

সর্বপরি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবীসহ শেখ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সূত্রঃ ফেসবুক
লিঙ্কসঃ

https://www.facebook.com/sheikh65
www.liberalbd.org

http://www.bd-pratidin.com