ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মহান মে দিবসে সকল শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই যাঁরা দেশ গড়ার জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন রক্ত-ঘাম-শ্রম। যাঁরা শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদেরকে জানাই লাল সালাম।
পৃথিবীর সকল শ্রমিকের অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে যত আইন লিখিত হয়েছে তার সঠিক বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।

প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়জিত ব্যক্তিদেরকে শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় যারা মজুরির অন্তর্ভূক্ত।

বাংলাদেশের শ্রম আইনের পটভূমি-
*১৯০০ সালে বৃটিশ সরকার ভারত বর্ষে প্রথম শ্রম আইন প্রবর্তন করে।
*১৯৭১ ‘র পরে ওই আইনগুলোই চলতে থাকে।
*সংস্কার শুরু হয় ১৯৯৯ সালে; তখন আইন কমিশন বাংলাদেশে প্রচলিত শ্রম আইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রদান করে এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ শম আইন ২০০৩ পাশ হয়।
*পরে আবার সংশোধিত হয় ২০০৬ সালে যা এখন পর্যন্ত বলবত রয়েছে। এই আইনে শ্রমিক-মালিক সকলের জন্য নির্দিষ্ট বিধান আছে। এই আইনে সুস্থ কর্মক্ষেত্র এবং অনুকুল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনে অনেক কিছুই লেখা থাকে কিন্তু তার বাস্তবায়ন কতটা হয় সেটাই হচ্ছে দেখার বিষয়। মানবাধিকার সনদের ২৩ নাম্বার ধারায় রয়েছে- ”কাঙ্খিত কাজ পাওয়া ও ট্রেড ইউনিয়ন করার করার অধিকার।”
২৪ নাম্বার ধারায় রয়েছে- ”অবসর ও বিশ্রাম পাওয়ার অধিকার”।

*আসুন জেনে নেই বাংলাদেশে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকারগুলো কি কি রয়েছে—

সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অনুচ্ছেদ-২৯ -এ বলা আছে- ”কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে।” বাংলাদেশে ঘুষের বিনিময়ে পদ লাভ হয় হয়; যোগ্যতা দেখা হয় না।
অনুচ্ছেদ ৩৪ -এ বলা আছে- ”জোরপূর্বক কাউকে শ্রমদানে বাধ্য করা যাবে না।” বিশেষ করে নিম্ন শ্রেণির শ্রমিকদের সাথে এরূপ আচরণ বেশি করা হয়।
অনুচ্ছেদ ৩৫ -এ বলা আছে- ”কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দন্ড দেওয়া যাবে না।” নিম্নশ্রেণীর শ্রমিকরা কাজ চলে যাওয়ার ভয়ে অনেক ক্ষেতের প্রতিবাদ করতে পারে না; বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা।
অনুচ্ছেদ ৪০ -এ বলা আছে- ”যে কোন আইন সঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকার প্রত্যক নাগরিকের থাকবে।” বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যক্তি-ই এটা করতে পারে না। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় না।

যে শ্রমিক আমাদের জন্য মৌকিক চাহিদার যোগান দিচ্ছে তাঁদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রণিত সকল আইনের সঠিক বাস্তবায়ন চাই।