ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

তৎকালীন জামাতে ইসলামীর নেত্রীবৃন্দ অখন্ড পাকিস্তান চেয়েছিলেন এটা শতভাগ সত্য। এই সেন্সে তারা রাজাকার। ঐ সময়ে আমরা (বাংলাদেশিরা) পূর্ব পাকিস্তানী ছিলাম। পাকিস্তানী হিসেবে অখন্ড পাকিস্তান চাওয়া দোষের কিছু না। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়াতে তারা বাংলাদেশে এখন রাজাকার, দেশদ্রোহী, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক আগেই জাতির কাছে জামাতী ইসলামের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিলো।তারা সেটা করেনি এই জায়গায় আমি তাদের বিরোধীতা করি। অবশ্য তারা বুজতে পেরেছিলো আমরা পাকিদের বোয়ালের পেট থেকে বেড়িয়ে ইন্ডিয়ান তিমির পেটে ঢুকে যাচ্ছি। সে জন্যই মূলত তারা দেশ বিভাজনের বিরোধী ছিলেন।

তৎকালিন ঐ সময়ে ২০ ভাগ রাজাকার অগ্নিসংযোগ,লুটপাট এবং মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের পশ্চিম পাকিস্তানের মিলিটারীদের হাতে তুলে দিয়েছে যেমন সত্য ঠিক তেমনি ৮০ ভাগ রাজাকার তাদের হাত থেকে মা বোনদের ইজ্জত আব্রু ও মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা করেছে। পৃথিবীর সব জাতি ধর্ম-বর্ণে ভাল এবং খারাপ উভয় প্রকারের মানুষ থাকে। ঠিক তেমনি নিজের জান বাঁচানোর জন্য রাজাকার হলেও তাদের মধ্যে ভালো রাজাকারের সংখ্যাই বেশি ছিলো। পাকিস্তানী জানোয়ারদের অত্যাচারে অনেক রাজাকারই ব্যথিত হয়েছে এবং মনের পরিবর্তনে তারা শেষের দিকে স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো স্বাধীন হওয়া পৃথিবীর প্রায় সবদেশ যাদের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছে তাদের সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে যেমনঃ ইন্ডিয়ার,যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা, এখনো তাদের অন্যতম বন্ধু ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম কারন পাকিস্তান মুসলিম দেশ। ১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের নাম যারা সহ্য করতে পারে না তারা মূলত আওয়ামী হিন্দুত্ববাদী এবং ইসলাম বিদ্বেষী। ঘাতক দালাল কমিটি হোক আর অতি প্রগতিশীল সুলতানা চক্রবর্তীর হিন্দু-বৈদ্ধ্য-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ হোক এরা ইসলাম বিদ্বেষীতার কারণে পাকিস্তান বিরোধী মনোভাব তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরাই শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের মৌলবাদী ফতোয়ার উদ্বোধক।