ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

ভূমিকম্প হলে কি করণীয় তা নিয়ে টিভিতে বিশেষজ্ঞ গণ আলোচনা করছেন-

বিল্ডিং কোড মেনে স্থাপনা নির্মাণ করা উচিত– একজন এই কথার সাথে সহমত পোষণ করে ফাল দিয়ে উঠে জানালেন –ইয়েস্‌ এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক নির্দেশনা ।

‘ভূমিকম্প মোকাবিলা এখন ওয়ান টু’ এই রকম হাজার দশেক পোস্ট টাইমলাইনে সেভ করে রাখতে বলা হয়েছিল -সেগুনো দেখে নিন- খাটের তলা, ঘরের কোনায়, বিম এবং কলাম জয়েন্ট-এর তলদেশ বরাবর ফেসবুকে সমেত শুয়ে পড়ুন -গোটা দশ সেলফী আপ্লোডাইয়া মার্ক করে দিন আপনি সেফ আছেন।

একজন স্বল্পভাষী বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর বললেন- ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট সর্বোচ্চ সময়ের মধ্যে আমাদের দেশে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো একরূপ অসম্ভব -তাই ঘর থেকে বেড়িয়ে দৌড় ঝাঁপে ভালো হাত পা কোমড় গুনোয় ফ্র্যাকচার করতে চাইলে -সেক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই -সেটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত অভিরুচির ব্যাপার।

প্লাম্বিং মিস্ত্রী জালাল কয়- স্যার জি আই পাইপ আর ফিটিং গুনো আলুবাজারে আজকাল সব তিন নম্বর মাল! যতোই প্যাচাই না কেন খালি প্যাচ ছাইড়া দেয়। তাহলে জালাল, মাঝে মাঝে গ্যাস পাইপ বেয়ে, ধেড়ে ইঁদুর যে উঠে পড়ে আমার বারো তলায় -জয়েন্ট-ময়েন্ট আবার না খুলে যায়। গেলে যাইতেও পারে স্যার। তাহলে জালাল, কাল বোশেখী ঝড়ো বাতাসে জয়েন্ট কি পাইপ ছেড়ে দেবে, কি মনে হয় তোমার? জালাল উত্তর দিলে -আবার জিগায়?

একজন শুটকি ব্যবসায়ী, সোনা কারবারী কিংবা বাংলার প্রফেসর– ফ্ল্যাট কেনা বেচা তো অনেক পরে, তার আগেই জানতে চান– “ভাই সত্যি করে বলেন দেখি- আপনার বিল্ডিং কত রিখটার ধইরা করা, দশ এগারো হইলে থাকবো তো?” ভাব খানা এমন যেন না থাকলে উনি রিখটার মামুরে রে ফোন কয়রা কয়া দিবেন, আর তাতে বেজায় নাখোশ হয়ে রিকটার মামু আত্মহত্যা করি ফালাবে এনিটাইম।

ফ্ল্যাট ব্যবসায় লাল বাত্তি জ্বলিতেছিল- তেল গেলে ফুরাইয়া বাত্তি যায় নিভিয়া- বর্তমানে কূপি এবং তাহার মালিক অনেকেই নিরুদ্দেশ। ক্রেতা গন ভুলেও জিগান না -কি ডেভালাপার মশায় ‘শইলডা ভালা?’ তাই ফ্ল্যাট সম্পর্কিত কিছুটা জানিতে চাহিবার ব্যাপার -কেমনে নিরাশ করি! বিনীত উত্তরে জানাই- “মুরুব্বী ১৫ পর্যন্ত টিকব” চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে কাকার -“কন কি রিখটার পনরও আছে নাকি?” আলবৎ আছে, তবে কিনা কাকা , বলতে বাধ্য হই “পাশের বিল্ডিংটা কিন্তু আমার শ্বশুরের না, না আমার ভাইপো’র– তাই ভূমিকম্পে আমারটা দাঁড়ায় থাকবো গ্যারান্টেড, কিন্তু পাশের টা ভালোবেসে আমার বিল্ডিং রে জড়ায়া ধরে -যদি ভালোবাসায় আমারটাও সহমরণে যেতে চায় – আমি তো আর না করতে পারবো না, তাই কি কখনো হয় কাকা!

তাহলে এখন কি হবে ? কিচ্ছু হবে না কাকা। কমন সেন্স বলছে – ভূমিকম্পে এই দেশে আপনার আমার মৃত্যু সম্ভবনা এক প্রকার নাই বললেই চলে। চিচিং ফাক বলার আগেই -বিদ্যুৎ লাইন ঝুলে পড়বে রাস্তায় – গ্যাস পাইপ গুলো ফটাফট খুলে গিয়ে তাতে দেশালাই ছাড়াই আগুন ছড়িয়ে যাবে ভবন ময় – সক্কলেই আগে নামিবেন পরে কেউ নয় – আবাল বৃদ্ধ মানব শিশু কিংবা কিশোর কতজন জানি পড়িবেন পদতলে! হাই প্রেসার লো সুগার – সদ্য লাগানো পেসমেকার- বুকের ভেতর দুখানা রিঙ লাগিয়েছেন, এই তো সেদিন। কম্প দিয়া ভূমি ঝাঁকুনি দিব ঠিকই -তার পরে ঐ সকল তামাশা হইবার পর পর – আস্তে কইরা পোতাইয়া বিল্ডিং কাত হয়া যাবি । মাগার ততক্ষন পর্যন্ত পৃথিবীর প্রতি মায়া থাকিবো তো আপনার?

কাকা, ও কাকা শুনতে কি পাচ্ছেন কিছু? কাকা অনেকক্ষণ ভেবে নিলেন, দাতেঁ আংগুলের নখ কাটতে কাটতে বললেন – তাহলে আপনি যা বলছেন – সেটা’র সারমর্ম হচ্ছে – শুধুমাত্র পাবনা মেন্টালে কারো কিছু হবে না তাই তো? জি কাকা ।