ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক


এই গ্রামে এখন সন্ধ্যার পর নেমেছে রাত । আষাঢ়স্য মাস। মেঘ ডাকছে গুরুম গুরুম। চারদিক অন্ধকার , গুড়ি গুড়ি পড়ছে বৃষ্টি । বাড়ির পাশে স্কুলঘর তার সামনে পুকুর , পেছনে বাঁশ ঝাড় । চাই মেঘের আরও একটু বেশী বেশী গর্জন , আজ রাত যেন উৎসবের রাত হয় , গ্রামবাসী প্রতীক্ষারত । এ তো জানা কথা , এমন রাতে স্বপ্নের ‘কৈ’ মাছেরা  আর পুকুর এবং ডোবায়  থাকতে চাইবে না -এরই মধ্যে জল ছেড়ে কিছু উঠে এসেছে পাড়ে, একটু বাদেই এসে উঠবে তারা উঠোনে , মেঠো পথ ধরে নেমে পড়বে ক্ষেত আর আশপাশের ঝোপ কিংবা বাঁশ ঝাড়ে ।

কোমড়ে গামছা বেঁধে ঝুড়ি নিয়ে আমরা রেডি , এভারেডি টর্চ লাইটটি ঠিক ঠাক আছে কিনা চেকিং করা সাড়া,  বেড়িয়ে পড়তে হবে এখুনি , আঁধার রাতে গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে এক অনন্য আয়োজন। মামার বাড়ি মঙ্গলসিদ গ্রামে একদা উদযাপন করেছি সেই দুরন্ত শৈশব দিন –আমার সন্তানদের আজ অবধি আমি বলি নি সেই গল্প –তার অল্প একটু শুনলেও ওরা জানবে –এ আসলে রূপকথার’ই এক গল্প!


কিন্তু যে গল্প রূপকথা’র চেয়েও এতটুকু কম নয়, সেই গল্প একটু বলতে চাই।

‘কৈ’ মাছ ‘The Climbing Perch’ বাংলাদেশ ও ভারতে পাওয়া যায় , খুব সুস্বাদু মাছগুলোর অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম  ‘Anabas Cobojius’ । মাছটিকে ইংরেজিতে ‘Gangetic Koi’ বলা হয় । এটি ‘Anabantidae’ পরিবারের অন্তর্গত। মতান্তরে তা ‘Anabas Testudineus’  এই বৈজ্ঞানিক নামেও অভিহিত।

a

‘কৈ’  মাছ  নিয়ে নিদারুণ সংকটে অস্ট্রেলিয়া !

 

দ্য গার্ডিয়ান বলছে “Crawling, breathing, invasive fish a ‘major disaster’ if it reaches Australia” ‘বুকে হেঁটে চলে , শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় এই খুনী  মাছটির অস্ট্রেলিয়ায় এসে পড়াটা এক মারাত্মক বিপর্যয়’। ভিডিও দেখুন

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে “Aggressive ‘walking’ fish is heading south towards Australia, scientists warn” মারমুখি হাঁটতে জানা মাছটি দক্ষিণে, অস্ট্রেলিয়ার দিকে ধাবমান , বিজ্ঞানীরা শতর্কাবস্থায় !

ডিসকভারী বলছে “This Invasive Fish Can Live Out of Water and Walk on Land -And Experts are Concerned” আততায়ি এই মাছ পানি ছাড়াও বাঁচতে পারে , ভূমিতে হাঁটতে পারে , বিশেষজ্ঞগণ চিন্তিত !


bb

‘জেমস কুক ইউনিভার্সিটি’ কুইন্সল্যান্ডের একটি প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় । ২০১৫ সালের জুন মাস । সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য বিজ্ঞানী ডঃ ন্যাথান ওয়েলহাম , আমাদের বাংলার ‘কৈ’ মাছ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে নিম্নোক্ত তথ্যাদি আবিষ্কার করলেনঃ রিপোর্ট ও ভিডিও দেখুন

১। এটি সায়েন্স ফিকশন মুভির ন্যায় শব্দ উচ্চারন করতে পারে।

২।  খুবই আক্রমণাত্মক একটি মাছ।

৩। এই মাছ কানকো এবং বুকে ভর দিয়ে রাস্তা পেরুতে পারে।

৪। মানুষের মতো পানি ছাড়া ডাঙ্গাতেও শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে।

৫। পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে প্রায় ৬দিন।

৬। কর্দমাক্ত মাটিতে বেঁচে থাকতে পারে প্রায় ৬ মাস।


e

মহামান্য বিজ্ঞানী ‘ডঃ ন্যাথান ওয়েলহাম’ পরামর্শ দিয়েছেন-

এখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোন  ব্যাপার নেই। ভয়ানক এই মাছটি (যদিও তার আদিবাস বাংলাদেশ ভারত ইন্দোনেশিয়া) পাপুয়ানিউগিনি থেকে অস্ট্রেলিয়া অভিমুখে চলে আসতে পারে যে কোন সময় , কোন নৌকায় লুকিয়ে কিংবা অন্য কোন উপায়ে , এমনকি হেঁটেও চলে আসতে পারে যদি মন চায়। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কিছু ছোট দ্বীপে অনেকেই তাকে দেখে ফেলেছে । তাই গোটা অস্ট্রেলিয়া এখন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি ! কিছু পাখি , কিছু প্রাণী -হতে পারে তা অনেক আদরের পোষা সারমেয়, এই মাছ গিলে খেয়ে ফেললে , গলায় আঁটকে অকালে প্রাণ হারাবে হায় ! আর কিছু ছোট ছোট প্রাণী এই মাছের আঘাতে বেঘোরে মারা পড়বে নির্ঘাত । ওহে অস্ট্রেলিয়ানবাসী , সচেতন হোন এখুনি – নাহলে কিন্তু সাড়ে সব্বোনাশ হয়ে যাবে , আর তখন বারোটা বেজে গেলে –জানবেন  ‘বামুনের কথা বাসী হলে ফলে’  , তখন  ‘ন্যাথান’ ‘ন্যাথান’ বলে চিক্কুর পাড়লেও  চাহিবে না ফিরিয়া এই ন্যাথান , বলে দিলুম  কিন্তু !

ডঃ ন্যাথান-এর কথায় সাড়া  দিয়ে এরই মধ্যে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার কিছু দ্বীপে – বিজ্ঞানীদের পাঠানো হয়েছে, তেনারা সেখানে মাইকিং, মিটিং এবং লীফলেট বিলি করেছেন ,জানিয়েছেন ‘ওহে দ্বীপবাসী এই মাছ দেখা মাত্রই কিন্তু  মিসড কল মেরে দেবে – তার পর কামান দাগায়ে কাম সাইড়ে দিয়ে যাবো – নো টেন্সন!


d

সুপ্রিয় দর্শক , আমরা এসেছি ফ্রম ‘টোয়েন্টি ডটকম ফোর ডটবেশি’ চ্যানেল থেকে । করছি সরাসরি সম্প্রচার , আটপাড়া থানার তেলিগাতী ইউনিয়ন , গ্রামের নাম মঙ্গলসিদ। এখানে আমরা এসে দেখতে পাচ্ছি ,  গ্রামবাসী এই খবরে খুবই উত্তেজিত। যদিও এইসব তত্ত্ব ও তথ্য অধিকাংশই তাদের জানা তবুও তারা আমাকে বলেছেন ‘কৈ মাছ’ বিষয়ে এই রকম  অনবদ্য আবিষ্কারের জন্য ‘ডঃ ন্যাথান’ এবং আগাম প্রোটেকশন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া’ নামক দেশটিকে যৌথ ভাবে ‘নোবেল’ প্রাইজ দিয়ে দেয়া উচিত। আমাদের সরকার এই ব্যাপারে ‘নোবেল কমিটি’ কে সুপারিশ করলে , গ্রামবাসী তাতে মাইন্ড খাবেন না , সেটাও জানিয়েছেন।  সামান্য ‘কৈ’ মাছ মারতে অস্ট্রেলিয়া যদি কামান দাগায় বসতে পারে , তাহলে ‘খরচ ফায়ার’-এ আমাদের পারমানবিক বোম ফাটায় দেয়াটা অবশ্য কর্তব্য , গ্রামবাসী এমনটাই মনে করেন । কেননা দিস ইজ ম্যাটার অব আওয়ার প্রেস্টিজ । সামনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়া কে মোকাবিলায় একাদশ ও দ্বাদশ  প্লেয়ার হিসেবে গোটা দুই ‘কৈ’ মাছ লাগলে , সামহাউ এই গ্রামবাসী , বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে তা সরবরাহ করতে বদ্ধ পরিকর , গ্রামবাসী সক্কলে দৃঢ় কন্ঠে এই প্রতিবেদকের কাছে এই  প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


সূত্রঃ ওইকি , ছবিঃ গুগল ।