ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

 

FULL MOON  পূর্ণিমা

হচ্ছে চন্দ্রের একটি  দশা , যখন চাঁদ, পৃথিবীর যে পাশে সূর্য অবস্থিত তার ঠিক উল্টো পাশে অবস্থান করে। পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান চাঁদ এসময় সূর্য দ্বারা পূর্ণভাবে আলোকিত হয় , যার ফলে একে একটি পূর্ণ গোলাকার চাকতি রূপে দেখা যায়। তবে  প্রকৃতপক্ষে এই সময়  চাঁদের অর্ধেক অংশই আলোকিত হয় কারণ উল্টো দিকটি অনালোকিতই থেকে যায়। পৃথিবী নামক গ্রহের জ্যোতির্বিদ, বিজ্ঞানী, সরকার সমর্থক, জ্যোতিষকুল, আমজনতা , পুরোহিত ,সাংবাদিক ইত্যাদি গ্রহবাসীগন ফুল মুন/ পূর্ণ চন্দ্রকে আদর করে বিভিন্ন নামে ডাকেন। যেমন  জানুয়ারি মাসের পূর্ণ চাঁদকে কে ব্রিটিশরা ‘পুরানা চাঁদ’ , আমেরিকানরা  ‘নেকড়ে চাঁদ’ আর বাঙ্গালীরা ডাকেন ‘পৌষি পূর্ণিমা’ , আবার ফেব্রুয়ারি মাস এলে বরং  উল্টো ব্রিটিশরা ডেকেই বসেন তাকে ‘নেকড়ে চাঁদ’ নামে , অবশ্য আমেরিকানদের কাছে তখন তা হয়ে যায় ‘বরফ চাঁদ’ । এই রকম ডিম চাঁদ , ফুল চাঁদ, ফল চাঁদ , শস্য চাঁদ , শিকারি চাঁদ, দুধ চাঁদ, ঠাণ্ডা চাঁদ, স্ট্রবেরী চাঁদ ,  রক্ত চাঁদ, গোলাপি চাঁদ, নীল চাঁদ, ইত্যাদি নামে ডাকেন ইংল্যান্ড ও মার্কিনীরা । বাঙ্গালি হিন্দু এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও পিছিয়ে নেই তারা  ডাকেন – দোল পূর্ণিমা ,কোজাগরী পূর্ণিমা, ভাদ্রপদ পূর্ণিমা, কার্ত্তিকী পূর্ণিমা, অগ্রাহয়ণী পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, জ্যৈষ্ঠীপূর্ণিমা, রাস পূর্ণিমা, রাখী পূর্ণিমা,  নারালি পূর্ণিমা ইত্যাদি ইত্যাদি।

%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8-3
পূর্ণিমাতে ভাইসা গেছে নীল দরিয়া সোনার পিনিস বানাই ছিলাম যতন করিয়া- সৈয়দ শামসুল হক।

সুপারমুন কী ?

চাঁদের এমন একটি দশা বা অবস্থা অর্থাৎ যে পূর্ণিমায় চাঁদ  পৃথিবীর খুব কাছে অবস্থান করে । চাঁদকে তখন পৃথিবী থেকে তুলনামূলক ভাবে অনেক বড় আর উজ্জ্বল দেখায়। কেউ আবার শখ করে একে বাংলায় ‘অতিকায় চাঁদ’ও বলেছেন। আমাদের শৈশব কালে  একটি অতি জনপ্রিয়  বিস্কুটের নাম ছিল – ‘সুপার বিস্কুট’ , দাম ছিল এক টাকায় বিশটি । আজ অবধি এর চাইতে মাইক্রো টাইপ অতি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বিস্কুট বিশ্বের কোন দেশে আবিষ্কৃত হয়েছে কিনা , জানা নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস , সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলে দামে এবং আয়তনে এটিকে  গিনিজ রেকর্ড -এ ভুক্ত করা সম্ভব । সুপার বিস্কুট খেয়ে ছিলাম বলেই বোধ করি, আজ সুপার মুন কী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

“ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে।

কারো নজর লাগতে পারে ,

মেঘেদের উড়ো চিঠি উড়েও তো আসতে পারে।

ও চাঁদ. সামলে রাখো জোছনাকে…”

-মান্না দে

সাম্প্রতিক নিকটে ২০১৩ সালের ২৩ জুন রোববার , দেখা মিলেছিল সুপার মুন। চাঁদ সওদাগর নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন অন্যদিনের তুলনায় চাঁদকে দেখা গেছিল ১৪ শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল। উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের এ নিকটতম অবস্থানকে বলা হয় অনুভূ /পেরিজি। সেদিন পৃথিবীর খুব কাছাকাছি এসেছিল চাঁদ, আপনি দেখেছিলেন কি?

২০১৫ , ২৭ সেপ্টেম্বরের  সুপার মুন’টি ছিল আরও ব্যতিক্রমী। সেদিন পূর্ণিমার সাথে  চন্দ্রগ্রহণও হয়েছিল যা ছিল খুবই বিরল একটি ঘটনা । মিস্টার নাসা সেদিনও বলেছিলেন এমনটা আবার ঘটবে ২০৩৩ সালে। অবশ্য বাংলাদেশ থেকে সেটা দৃশ্যমান ছিল না , তাই আপনি দেখতে পারেননি হায়!

২০১৬ ১৪ই নভেম্বর সোমবার। অনেকে বলছেন এটিকে সুপার মুন কেন বলছো হে! বরং বলো ‘সুপার সুপার মুন’। প্রায় ৬৯ বছর আগে  সর্বশেষ ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারিতে এমনটি হয়েছিল। ১৪ই নভেম্বর পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে চলে আসবে চাঁদ, অন্যদিনের থেকে এই  চাঁদটি হবে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল। মিস্টার নাসা এবারও বলেছেন, আজ  যদি মিস করেছো তাহলে জেনে রাখো হেলায় হারিয়ে ফেললে তুমি ১৮টি বছর পর, এবার ২০৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতীক্ষায় থাকো, নাদের আলী তুমি।

%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8-2

ফ্রাঙ্ক ফ্লোরিয়ান নামীয় কানাডিয়ান  জ্যোতির্বিদ সিবিসি নিউজে লিখেছেন “Monday’s moon, like Sunday’s will be brighter and slightly larger than usual, but the difference may be undetectable to the naked eye. If you look at the moon and try and compare it to the full moons of past, you might not notice any difference, because you don’t have any way to do a side-by-side comparison of one to the other”  এই চাঁদটি কিছুটা বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে কিন্তু রবিবারের চাঁদের সাথে সোমবারের চাঁদের তেমন কোন পরিবর্তন সাধারণ চোখে ধরা পড়বে না , কেননা অন্য প্রান্ত থেকে এর পার্শ্ব সমূহের তফাত বোঝার কোন উপায় নেই।

%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8-4

তবে নাদের আলী আপনাকে বলছি , চাঁদ সওদাগর মিস্টার নাসা মূলত একজন মারতমক আশাবাদী লোক , তাই বলছি একেবারে আশাহীণ হবেন না যেন । কথায় কথায়  মিস্টার নাসা এটাও বলেছেন  -ওহে গ্রহবাসী ২০১৬ ইংরেজি সালের ১৬ অক্টোবর-একটি সুপারমুন তুমি একটি মিস করেছো , গতকাল  ১৪ নভেম্বরে মিস করলে আরও একটি। যাক, তোমার জন্য লাস্ট চাঞ্চ , বছর শেষে ১৪ই ডিসেম্বর -আরও একটি আছে , তা কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং সেদিন  তুমি পাবে সুপারমুন সাথে  উল্কা পাত, হা হা মিস করো না কিন্তু ভায়া! The supermoon of December 14 is remarkable for a different reason: it’s going to wipe out the view of the Geminid meteor shower. Bright moonlight will reduce the visibility of faint meteors five to ten fold, transforming the usually fantastic Geminids into an astronomical footnote. Sky watchers will be lucky to see a dozen Geminids per hour when the shower peaks. নাসা লিংক

আমার বর্তমান স্ত্রী যিনি একদা আমার প্রেমিকাও ছিলেন বটে, গতকাল সন্ধ্যার পর  যথেষ্ট আবেগায়িত হইয়া, তাহাকে যখন ছাদে আরোহণ পূর্বক চাঁদ দেখার আমন্ত্রণ জানাইলাম । তাহাতে তিনি উৎসাহিত হইলেন না- বরং বলিলেন- ওহে  প্রাণনাথ প্রিয়! একদা’র চাঁদ-সুন্দরী  নিজেই এখন বুড়ি, চাঁদে বসিয়া বসিয়া  তিনি চরকা কাটেন, তাহার  মুখপানে তাকাইয়া দুদণ্ড কথা বলিতে যিনি ব্যাকুল নহেন , তাহাকে  সংগে করিয়া  চাঁদ অবলোকন, অর্ধচন্দ্র গ্রহণের  সমার্থক, তাই এই অফার সানন্দে ঘৃণাসহ প্রত্যাখ্যান করিলাম।

“একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
তোমার জন্য গলির কোণে
ভাবি আমার মুখ দেখাব
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে”-

শঙ্খ ঘোষ

সুউচ্চ দালান কোঠার কার্নিশ আর বিজ্ঞাপন বিলবোর্ডে  আটকে গেছে , তবুও চাঁদ উঠেছিল পূবে , সে চাঁদ সুপার ডুপার ফুল মুন কিনা , তা জানতে চায় কোন বেকুবে ! আপনি মাদুর বিছিয়েছেন ছাদে , দুখানা চেয়ার , অফিস থেকে আগেই ফিরেছেন আজ , অফিসে তেমন ছিল না কাজ ।  কফি ওইথ মুন হবে , সাথে বাদাম চানাচুর, চিকেন চাপ । মান্ধাতা বাইনোকুলার হাতে , ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার মাপ । ছাদে বসে শুয়ে কিংবা দাঁড়ায়ে সুপার মুন জোছনা গায়ে মাখতে চান , ওহে  নাগরিক কাক ! পদ্মা নদীর মাঝি  কুবেরের সাথে আপনি হেরে গেছেন , তবে সেটিও জেনে যান।

%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8-5

আপনি অনায়াসেই  আমাকে মানে এই মহামান্য চোথাবিদ কে প্রশ্ন করতে পারেন -তুমি এতদিন কুন্ডে ছিলা বাই ? আগে কেন বলো নাই –চন্দ্র বিষয়ে এতো জ্ঞেয়ান রাখো তুমি?

এই প্রশ্নের উত্তর দিলে ‘হাফ-মুন’ খেয়ে যাই কিনা ,তাই সেই লাইনে গেলাম না , বরং গভীর কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমার গ্রহাতো ভাই জুকার দাদা’র নাম স্মরণ করতে চাই। পৃথিবীতে চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলমান , সেই নিয়মে  তারা চলেছেন , চলবেন কোন সন্দেহ নাই , এরই মধ্যে নবতর উদযাপন আর নতুন উৎসবে মেতে থাকুন ,উপভোগ করুণ জীবন । বিয়ের পর বাসর রাতে নববধূর সাথে আর্টিফিশিয়াল , কমার্শিয়াল , একচুয়েল , সেক্সুয়েল কোন প্রেমলীলা’টা আপনি করতে ইচ্ছুক  -সেটা ফেসবুক নির্দেশ মোতাবেক পালন করে  জীবন রঙ্গিন করুণ ।

সূত্রঃ উইকি , ছবি ইন্টারনেট থেকে।