ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

“পিতা তুমি জেনে যাও- আমরা শুধিয়া দিছি তোমার ঋন
দেখেছি রেখেছি , বহাল তবিয়তেই-কেটেছে ওদের দিন ”

২৫ মার্চ ১৯৭১ কালো রাত থেকেই শুরু হয় বুদ্ধিজীবীদের নিধনযজ্ঞ কার্যক্রম যা ১৬ ডিসেম্বর পরেও সাধিত হয়েছে নিপুণ নৃশংসতায় । পরিকল্পিতভাবে ১৪ ডিসেম্বরেই সবচেয়ে বেশী-সংখ্যক বুদ্ধিজীবী নিধন করা হয়েছিল। তাই তাজউদ্দিন আহমেদ  এই দিনটিকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘নিউজ উইক’-এর সাংবাদিক নিকোলাস টমালিনের লেখা থেকে জানা যায় , শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৭০ জন।

 

১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট ভোরবেলা,

আর্মিরা পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর কয়েকজন ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, আলতাফ মাহমুদ কৌন হ্যায়?’  আলতাফ মাহমুদ জবাব দিলেন, ‘আমি’। এরপর আর্মিরা তাঁকে দিয়ে মাটি খুঁড়ে কাঁঠাল গাছের নিচে লুকিয়ে রাখা গোলাবারুদের ট্রাঙ্ক দুটি বের করে নেওয়ার পর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেল।

15391029_10211392752245119_7241529886716944882_n

‘বাবার একাত্তরের আংটি’- শাওন মাহমুদ

সবার দায় দায়িত্ব তাঁর কাঁধে নিজের বুঝেই নিয়েছিলেন তিনি। দুদিনের নির্মম অত্যাচারে প্রচণ্ড জ্বর এসেছিল সেদিন। বাথরুমের কলের জল তাঁর মুখে তুলে দিলেও শুকিয়ে যাচ্ছিল। তিনি জানতেন পরের দিন তাঁকে ছাড়া তাঁর সাথে ধরা পরা অন্য সবাই মুক্তি পেয়ে যাবেন। তাঁর আর প্রিয়জনের মুখ দেখা হবে না। তাই সে রাতেই নিজের হাতের এই আংটিটা খুলে সেজো মামার কাছে দিয়ে বলেছিলেন, আর কিছু তো দিতে পারলাম না। আমাদের এনগেজমেন্টের আংটিটা ঝিনু ( মা , সারা আরা মাহমুদ) কে দিও । শাওনকে দেখে রেখো । আমি জানি আমি না থাকলেও দেশ দেখে রাখবে ওদের”

 

 

 

শাওন মাহমুদের অনুমতি সাপেক্ষে লেখা ও ছবি সংযোজিত।