ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

কক্সবাজার সমুদ্র তীর। বালুতটে বসে অন্ন গ্রহণ, স্নান ও ত্যাগ বিনে নির্ঘুম আজ প্রায় সাত দিন। সুকঠিন তপস্যায় নিমগ্ন, এক যুবক। এক তালে সে ভগবানকে ডেকেই চলছে। সমুদ্রের প্রচণ্ড গর্জন, সুউচ্চ ঢেউ, ১২নম্বর বিপদ সংকেত কোন কিছুতেই- টলানো যাচ্ছে না তাকে। অবশেষে যুবকের প্রগাঢ় প্রার্থনায় ভগবানের একাংশ সদয় হতে বাধ্য হলেন। ব্রহ্মা- যিনি সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু- যিনি লালন করেন আর মহেশ্বর- যিনি অশুভকে ধ্বংস করেন- এই তিনে মিলে হচ্ছে ভগবানের পূর্ণ রূপ। তা ব্রহ্মা এবং বিষ্ণু যুবককে নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামালেন না কিন্তু মহেশ্বরের হৃদয় আপ্লুত হল।

মহেশ্বর বললেন- আমি তোমার এইরূপ অকৃত্রিম ও একনিষ্ঠ তপস্যায় মুগ্ধ হয়েছি যুবক, বলো হে বৎস, কি চাই তোমার?

যুবক কহিলো- হে মহেশ্বর! কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার এই সমুদ্র পথ খুবই বিপদসংকুল, আমি কক্সবাজার টু টেকনাফ একটি ব্রিজ চাই।

মহেশ্বর কহিলেন– আই ওয়ান্না ফিল ইয়োর ফিলিংস, বাট বি রিয়েলেস্টিক ম্যান, এতো বড় একটি ব্রিজ, তাতে পাইলিং লাগবে অনেক, কোথায় কোথায় সাপোর্ট কলামগুলো বসবে, এর গার্ডার গুলো প্রি-স্ট্রেস হবে নাকি কাস্ট ইন সিটু হবে- এসবের তো অনেক হিসেব-নিকেশ, সহস্র তার ঝক্কি-ঝামেলা, আছে ডিজাইন এস্টিমেট কনসালটেন্ট ঠিক করা, তাছাড়া পরিবেশ, ডিসি, পুলিশ, বদি, গদি এদেরও ম্যানেজ করা লাগবে। এসব তো চাইলেই হয়ে যায় না, মাই ডিয়ার! তোমাকে এক্সট্রিম রিকুয়েস্ট করছি, তোমার আরও গভীর ভাবনা আবশ্যক- যা ফাংশনালও বটে! ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দ্বিতীয় বিকল্প কিছু আমার কাছে চাও- যা দিতে পারলে আমি ধন্য হই, আমি বরং আগামী কাল আসি।

যুবক সারাদিন সারারাত ভেবে ভেবে একটি সহজ ‘উইশ’ ঠিক করলো।

পরদিন মহেশ্বর এসে জানতে চাইলেন- বলো হে বৎস, এমন অন্য কি ‘উইশ’ তুমি ঠিক করলে?
যুবক কহিলো- হে মহেশ্বর, ‘রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ এই বিষয়ে, রাষ্ট্রের যেন সুমতি লাভ হয়, আমি এতটুকুই চাই।

শুনেই মহেশ্বরের মাথা ঘুরান্টি দিয়ে উঠল, ভাবলেন- বালকের কী মাথা ডিস্টেপ নাকি! মহেশ্বর দ্বিতীয় বার না ভেবেই বললেন- ওহে আবালস্য বালক! কক্সবাজার টেকনাফ ব্রিজটির ঢালাইতে ‘পাথর’ না ‘খোয়া’ তুই কোনটা চাস বরং সেটা বল, তোর প্রথম মনোবাঞ্ছাই পূর্ন হোক। আমি বরং ব্রিজ খানাই নির্মাণ করে দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।

অতঃপর ২৬ জানুয়ারি রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে একটি মানববন্ধন উদযাপন করে রামপালবাসী। দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রামপাল উপজেলার খুলনা-মংলা মহাসড়কের বাবুরবাড়ি এলাকায় এক ঘণ্টার এ কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। বাগেরহাট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বিডি নিউজ২৪.কম

c

“দুর্গ বা সংকট থেকে রক্ষা করেন” তাই তিনি দুর্গা। দেবী দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছিলেন, অনেকে বলেন সেজন্য তিনি ‘দুর্গা’। কিন্তু বর্তমান ট্রাম্প জামানায় খোদ আম্রিকাতেই ‘অসুর’ এর কাছে ‘দুর্গা’র কোন খাওয়া নাই। তাই এই রামপাল বাসীর মানববন্ধনের পর, অসহায় দেবী দুর্গা দিশেহারা হয়ে, নিজেই শরীরে ধারণ করলেন বৃক্ষ-রাজির পাতা। রয়েল বেঙ্গল তাঁর কোলে উঠে বসল, তাঁর বিভিন্ন হাতে আশ্রয়ের জন্য করুণা-প্রার্থী হল হরিণ, বানর, কুমির, শুকর, গিরগিটি, সাপ, কচ্ছপ, ব্যাঙ ও শকুন সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীকুল। অনতিদূরে পোঁ পোঁ শব্দে গগণ বিদারী হুইসেল মেরে দিয়েই- সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেল এবং টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের ব্রিজটির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলল দ্রুত।

দুর্গাঃ শিল্পী গোপাল নস্কর।