ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

অতীতে যারা মহৎ মনের অধিকারী হতেন তারা শিক্ষা বিস্তারে নিজ খরচে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে সেখানে ছাত্রছাত্র্রীদের শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা করতেন। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তারা নিজেদের বংশের কারো নামে করতেন,অথবা নিজের নামে করতেন। তবে শিক্ষা বিস্তারের বিষয়টাই ছিল সেখানে মুখ্য। কালের পরিক্রমায় এসব প্রতিষ্ঠান গুলো মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠে এবং আস্তে আস্তে সেগুলো সরকারের আওতাধীন হয়ে যায়। বেঁচে থাকে প্রতিষ্ঠান।আর প্রতিষ্ঠাতারা বেঁচে থাকেন তাঁদের এই মহৎ কর্মের মধ্যে।
অথচ এখনকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম দেখেন …!!
সবগুলো নামের মধ্যেই একটা বাণিজ্যিক বাণিজ্যিক ভাব আছে।
যদিও প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয় আইন ১৯৯২ অনুসারে এ সকল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথাছিল অলাভজনক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান, কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়েই তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। সেখানে শিক্ষা বিস্তারের মত মহৎ উদ্যোগ খুবই নগন্য। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতার দুর্বলতাকে হাতিয়ার করে অভিভাবকদের পকেট কাটার ধান্দাটাই ছিল মুখ্য।
আর বিভিন্ন সরকার তাদের নিজ নিজ আমলে নিজ নিজ দলের লোকদের এসব বিশ্ব বিদ্যালয় খোলার অনুমতি দিয়ে ব্যবসার রাস্তা খুলে দিয়েছেন।
২০১০ সালে মালিকদের স্বার্থে বেসরকারি অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারার শব্দ ও ভাষার কৌশলগত পরিবর্তন এনে এর খরচ এবং মালিকদের মুনাফা শিক্ষার্থীর ফি’র উপর নির্ভরশীল করা হয়। নতুন করে শুরু হয় ছাত্রছাত্রীদের উপর জুলুম। যদিও সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র সংকটের কারনে তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ ভালো অবদান রাখছে।( প্রায় ৩৩%)
সরকার যে বর্তমানে সাড়ে ৭% ভ্যাট আরোপ করেছে তা হওয়ার কথা ছিল মুলত বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের উপর। আর প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত এই করের বোঝা চাপিয়ে দেয় ছাত্রছাত্রীদের উপর।এটাই সাভাবিক। কারন সকল লাভজনক প্রতিষ্ঠানই ছলে বলে তার গ্রাহকের উপর ভ্যাটের বোঝাটা চাপিয়ে দেয়। যেহেতু এসব লাভজনক বিশ্ব বিদ্যালয়ের গ্রাহক হচ্ছে তাদের স্টুডেন্টস তাই ভ্যাটের বোঝা তাদেরকেই বইতে হবে।নিরীহ ছাত্রছাত্রীরা সেটা না মানতে পেরে ঝাপাইয়া পড়ছে আন্দোলনে …
তো বোঝা গ্যাছেতো আসল সমস্যাটা কোথায় ???
অর্থাৎ এসব ছাত্রছাত্রীদেরকে ভুল বুঝিয়ে নামানো হয়েছে মাঠে। ভ্যাটের বিষয়টা নিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয় কতৃপক্ষ সরকারের সাথে আলোচনায় বসে একটা সমাধানে আসতে পারত। তা না করে তারা নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের (যারা আন্দোলন কি জিনিস, তা কিভাবে করতে হয় তাই জানেনা! কারন অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ই রাজনীতি মুক্ত) মাঠে নামিয়ে দিয়েছে।ফলশ্রুতিতে আহত হয়ে হাসপাতালে আছে অনেকে। এখন এসব ছেলেমেয়েদের দায়ভার কে নিবে? না নিবে বিশ্ব বিদ্যালয়। না নিবে সরকার। তাদের বাবা মাকেই বেতনের পাশাপাশি মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে এসব ছেলেমেয়েদের চিকিৎসার ভারও বইতে হবে।
সুতরাং এরপরও যদি ছাত্রছাত্রীদের বর্তমান টিউশন ফির উপর আগে বা পরে কোন বাড়তি টাকা দিতে হয় সেটা নিশ্চিতভাবে অন্যায়,অবিচার।এর বিরুদ্ধে অবশ্যই সবার সচেতন হওয়া উচিত।