ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মাহে রমজান।অতি পবিত্র একটি মাস।আল্লাহর অশেষ রহমতের মাস।সংযমের মাস।
যদিও বাঙালিদের রোযা পালন দেখে সংযম নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন জাগে।

আমি আমার উপলব্ধির,অনুভবের একটা বিষয় নিয়ে আজকে লিখব।যে বিষয়টি আমাকে চরমভাবে নাড়া দেয়।একজন মুসলমান হিসেবে সবসময় হীনমন্যতায় ভুগি।ধ র্ম আমাদের কি শিক্ষা দেয় আর আমরা কি করি।আমাদের বাংগালী মুসলমানদের ধর্ম পালন নিয়ে সবসময় মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়।আসলে-ই আমরা ধর্মপালন করতে জানিতো,নাকি ধর্ম পালনের নামে ভণ্ডামী করি।
আজকে আমি রমজান মাসের ছোট একটি দিক নিয়ে আলোচনা করব।যেটি আমি আমার ছোটবেলা থেকে এখনও দেখে আসছি এবং বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে-ই এই ঘটনাগুলো ঘটে বলে আমার মনে হয়।
ব্যাপারটি হচ্ছে সেহরির সময় লোক জাগানো নিয়ে।

ছোটবেলায় দেখেছি রাত ২টা থেকে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাইকে এলাকার লোকদের জাগানোর জন্য মাইকিং শুরু করে। ২টার সময় বলে,

“এখন সেহরী তৈরির সময় হয়েছে আপনারা উঠে যান”
এরপর শুরু হত হামদ,নাত এবং কোরান তেলাওয়াতের পালা।
ফাঁকে ফাঁকে বলে উঠত,
“এখন সেহরী তৈরির সময় হয়েছে আপনারা উঠে যান”
৩টা থেকে শুরু করত,
” এখন খাওয়ার সময় হয়েছে,আপনারা খাওয়া শুরু করেন”

আবার হামদ,নাত এবং কোরান তেলাওয়াত শুরু করত।
এভাবে সেহরির সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকত।

আমার অপরাধবোধ কাজ করত এই জন্য যে,আমাদের পাশেই একটি হিন্দু পাড়া ছিল।
ঐ পাড়ায় প্রচুর হিন্দু পরিবারের বাস ছিল। এভাবে ডাকাডাকিতে তাদের কি ঘুমের সমস্যা হয়না?২টা থেকে ক্রমাগত ৪ টা পর্যন্ত মাইক বাজতে থাকলে কার না ঘুমের সমস্যা হয়?
মুয়াজ্জিন সাহেব মুসলমানদের জাগাতে গিয়ে অন্য ধর্মালম্বীদের কি সমস্যা সৃষ্টি করতেন না? আদৌ কি কোন প্রয়োজন আছে এভাবে লোক জাগানোর?
নিজের ধর্মকে অন্য ধর্মালম্বীদের কাছে বিরক্তির কারন বানানোর কোন প্রয়োজন আছে কি?
গ্রামে তো পাশাপাশি অনেক মসজিদ থাকে।

এভাবে প্রতি মসজিদে ডাকাডাকি করলে কার না বিরক্তির উদ্রেক হবে বলুন?
এটাতো গেল আমার গ্রামের ছোটবেলার কথা।

গ্রাম থেকে শহরে এসেছি ১০ বছর হলো।
শহরেও দেখি কম যায়না।যদিও গ্রামের মত অত প্রকট নয়।
শহরে আমি যে এলাকায় থাকি সেখানকার মসজিদে ২টা ৩০ মিনিটে একটা সাইরেন বাজানো হয়। সাইরেনটা ৩টা ৩০ মিনিটে আরেকবার বাজানো হয়। অবশ্যই এতে অন্য ধর্মালম্বীদের ঘুমের কোন সমস্যা হয় কিনা ঠিক বুঝিনা।

কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় কিছু ধার্মিক? তরুন একত্রিত হয়ে শ্লোগান দিয়ে মুসলমানদের জাগানোর চেষ্টা করে।আমরা এসব কেন করি যা অন্য মানুষকে কষ্ট দেয়? আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে প্রত্যেক এলাকায় অন্য ধর্মালম্বী মানুষ বাস করে। প্রতিবেশি হিসেবে তাদের প্রতি আমাদের তো দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কেন তাদের ঘুমের বা বিশ্রামের বিঘ্ন ঘটাবো? প্রতিবেশির অধিকার সম্পর্কে পবিত্র কোরানে কি আমাদের সাবধান করে দেয়া হয়নি?তবে কেন আমি আমার ধর্ম পালন করতে গিয়ে আমার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেব? হোক না সে হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান। প্রতিবেশি তো প্রতিবেশি-ই,নয় কি?

আর আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবেনা যে,অনেকের ঘরে বৃদ্ধ,অসুস্থ লোক থাকে।
আমাদের এই সব ডাকাডাকি তাদেরকেও চরম কষ্ট দেয়।
আসুন আমরা ধর্ম পালন করতে গিয়ে, সওয়াব কামাতে গিয়ে বেশি যেন বাড়াবাড়ি না করি সে দিকটির দিকে সবাই নজর রাখি।ইসলাম শান্তির ধর্ম।আসুন আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখি।