ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের বৃহত্তর একটি গণতান্ত্রিক দল।বাংলাদেশের যত অর্জন তার সবটুকুর সাথে এই দলটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার ভারও এই দলটির হাতে।নানারকম সফলতা,ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে এই দলটি।দলটিতে আছে বেশ কিছু দক্ষ, এক্সপেরিয়েন্সড ও পরীক্ষিত নেতা যারা ক্ষমতার বাইরে থেকেও বর্তমান মন্ত্রিসভাকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।সাহায্য করছে নানারকম দিক নির্দেশনা দিয়ে।কোন মন্ত্রি যখন কোন ভুল করছে তখন চরম সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে দলের ভেতরে এইসব প্রভাবশালি নেতাদের কাছে।

যখন বানিজ্য মন্ত্রি ফারুক খান জনগনকে কম খাওয়ার পরামর্শ দেয় তখন সুরন্জিত সেন গুপ্তের মত নেতারা ছাড় দিয়ে কথা বলেনা। কঠোর সমালোচনা মুখোমখি হতে হয় এই সব সিনিয়র নেতাদের সামনে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রি যখন বলেন গরু-ছাগল চিনলে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া যাবে তখন তারানা হালিম এর মত সাংসদরা আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষনা দেন।

ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের সামান্যতম অনিয়মকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। এটাই তো গণতান্ত্রিক চর্চা। এটাই তো গনতন্ত্র। অভিনন্দন তারানা হালিম কে ।
অভিনন্দন সে সকল নেতাকে যারা দলের উপর গিয়ে ,সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করতে পারেন।
যখন আওয়ামীলীগের এই সব নেতারা দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে উদারতার পরিচয় দেন ঠিক তখন বিএনপি ‘র নেতারা কুপমন্ডুকতার পরিচয় দেন। যখন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত,তোফায়েল আহমদ বা ওবায়দুল কাদেররা দলীয় মন্ত্রিদের সমালোচনা করেন তখন বিএনপি নেতারা সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি করেন। তাদের যুক্তি আওয়ামীলীগের নেতারা যেখানে সরকারের সমলোচনা করছেন তাহলে এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নাই।

হায়রে কুপমন্ডুক দলের সংকীর্ণমনা নেতারা।ওদের কাছ থেকে শিক্ষা না নিয়ে এইসব কি যা তা বলে চলেছেন একবার ভেবেছেন কী? পারবেন এইভাবে দলীয় নেতাদের সমালোচনা করতে?
আপনাদের মন্ত্রীরাও তো নানারকম অনিয়ম,দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন,কই কখনো তো এইভাবে সমালোচনা করতে দেখিনি। আপনাদের নেত্রী যখন দেশের সংবিধান ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলের কথা বলে তখন পারতেন তো কিছু একটা বলতে তা না করে উল্ঠো ওনার কথায় হাততালি দিচ্ছেন। বলি-ই বা কি। আপনাদের দলে কি আর এইসব চলে।কিছু একটা বললে তো দল থেকে বহিস্কার হওয়ার ভয় থাকে।
পদ টিকিয়ে রাখতে আপনাদের তো মুখ বন্দ রাখতে-ই হবে।

তারপরও বলি দেখুন না দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন কিনা।আপনাদের দলে অনেক বলিষ্ট ,দক্ষ ণেতা আছে।আপনারাও এগিয়ে আসুন না সুরঞ্জিত,তোফায়েল ওবায়দুল কাদের কিংবা তারানা হালিম দের মত দলীয় নেতা-কর্মীদের সমালোচনায়। বিরোধী দল হিসেবে সরকারী দলের সমালোচনা করবেন সাথে আত্মসমালোচনাও করুন।
আমাদের এই দেশটাতে অনেক সমস্যা।পালাক্রমে আপনারাই(আওয়ামীলীগ-বিএনপি) ক্ষমতাই যাবেন। দেশ পরিচালনা করবেন। সমস্যা জিইয়ে রাখলে সমস্যা বাড়তেই থাকবে।তাই আপনাদের সকলের প্রতি অনুরোধ দলমতের উর্ধ্বে উঠে সবাই দেশের কথা ভাবুন। জাতীয় নেতা হয়ে উঠার চেষ্টা করুন।

একজন তারানা হালিমের মত নিজ দলের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আমরণ অনশনের মত প্রতিবাদ জানান। এই দেশটা নিয়ে আর কত ছেলে খেলা হবে। আপনারা সবাই জনগনের কথা বলেন।জনগন তথা সাধারন মানুষ কিছু বুঝে না।তারা বাজারে গিয়ে যদি দেখে কোন একটা জিনিসের দাম ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা হয়েছে তখন ক্ষমতাসীন দলকে হোক সে আওয়ামীলীগ বা বিএনপি গালাগালি করতে পারে। এর বেশি কিছু নয়।

এই দেশের যদি সত্যিকার অর্থে কোন পরিবর্তন হয় তা হবে কেবল মাত্র আপনাদের মাধ্যমে। এই কাজটি তখনই সম্ভব হবে যখন আপনারা দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে চিন্তা করতে পারবেন।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ।এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কোন রাজনৈতিক দলের প্রশংসা বা সমালোচনা করার অধিকার নিশ্চই আমার আছে। এই অধিকার বলে-ই সামান্য কিছু বলা।আশা করি সবাই এটাকে পজিটিভলি নিবেন।