ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

সবাই এখন এক আবুলের পেছনে লাগছে।আমি যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের কথা বলছি।কেন ভাই,দেশে কি আর কোন সমস্যা নাই নাকি? সড়ক সমস্যার সমাধান হলে কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?
ড্রাইভারের গাফলতির কারনে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটলে যদি যোগাযোগ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়,তাহলে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য যে সরকারী/বেসরকারী হাসপাতালে রোগী মারা যায় তার জন্য কি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া উচিত নয়?

নাকি আমাদের উপর তলার মানুষরা এদেশের চিকিতসা সেবা নেন না বলে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা এইসব নিয়ে মাথা ঘামান না? নাকি কোন মিশুক মুনির বা তারেক মাসুদকে ভুল চিকিতসায় মরে ওনাদের ঘুম ভাংগাতে হবে? খাদ্য অধিদপ্তর, দূর্নীতির আর এক আখড়ার নাম।যেখানে একজন দারোয়ানের মাসিক আয় ৫০০০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একজন খাদ্য উপ-পরিদর্শকের মাসিক আয় ১০০০০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। যে সব গরীব মানুষের জন্য চাল বরাদ্দ করা হয় সেই চাল তাদেরকে নগদ টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয়।

এই সব দুর্নীতির বিরুদ্বে কখন আমাদের বুদ্ধিজীবীরা শহীদ মিনারে অবস্থান ধর্মঘট করবেন? মন্ত্রীর পদত্যাগ কখন চাইবেন? নাকি এখানেও কোন মিশুক মুনির কিংবা তারেক মাসুদকে মরে তাদের ঘুম ভাংগাতে হবে? বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে একটা কথা প্রবাদ বাক্যের মত শোনা যায়,কোন নেতা যদি একবার মন্ত্রী হতে পারে তবে তার চৌদ্দ গুষ্টি নাকি কোটিপতি হয়ে যায়।
কথাটার সত্য-মিথ্যা জানিনা কিনতু দুর্নীতি যে করে সে ব্যাপারে তো কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

এই কথা দিবালোকের মত সত্য যে, বাংলাদেশের সরকারী সব সেক্টরে অনিয়ম-দুর্নীতি আছে।তবে আমরা কেন সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্বে প্রতিবাদ না করে শুধু এক আবুলের পিছে লেগে আছি।
আমরা যদি শুধু কোন একটা সেক্টরকে ফোকাস করে রাখি তাহলে কি অন্যান্য সেক্টরগুলো অনিয়ম-দুর্নীতি করার মহা সুযোগ পেয়ে বসবে না?