ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

আপডেট ২১শে জুন ২০১১ঃ
রুমানার দুটো চোখই চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। একজন ডাক্তার হিসেবে আগেও বুঝেছিলাম, তবু মনে হচ্ছিলো, আমার ধারণা ভুল হোক। হয়নি। আল্লাহর দান এই চোখের দৃষ্টি কোন লৌকিক ক্ষমতায় ফেরত পাওয়া যাবে না। রুমানা তার “মেয়েটাকে আর একবার দেখতে চান।” আর কোনদিনই দেখতে পাবেন না। যারা বুঝতে পারছেন না এর মানে কি, তারা নিজেদের চোখ দুটো সম্পূর্ণ বেধে মাত্র ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরেই ঘুরাফেরা করুন। কিংবা বাড়ির বাইরে ১০ মিনিট হেটে আসুন। তারপর বলুন, “হাসান সাইদের” কি শাস্তি হওয়া উচিৎ।

বিভিন্ন পত্রিকা মারফত জানা গেছে ( যেইটা আমরা অনেকে আগেই বুঝতে পারছিলাম যে সাইদ এর কথা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি), সাইদ স্বীকার করেছে যে স্ত্রীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে আঘাত করেছে। শুধু ৫ই জুনই নয়, এর আগেও প্রচন্ড মার ধোর করেছে। হত্যার জন্য গলা টিপে ধরেছে। মানব জমিনে প্রকাশ ঃ

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদে নিপীড়ক স্বামী হাসান সাঈদ স্ত্রী নির্যাতনের কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছু তথ্য গোপন করে রুমানাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে ওইসব গোপন তথ্যই তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরায়। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার কথা বললেও পরে তা মিথ্যা বলে ধরা পড়ে। এ নিয়ে হাসান সাঈদ ও রুমানার মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একই সঙ্গে নিজের অন্ধত্বের দুর্বলতা থেকেও রুমানার ওপর ক্ষোভ জমা হয়। তার চোখ নিয়ে ঈর্ষা শুরু করেন। এক পর্যায়ে মিথ্যা সন্দেহের ভিত্তিতে রুমানার চোখ চিরতরে নষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কানাডা থেকে ফিরে আসার পরই তা বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পরপরই হাসান সাঈদ নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তার সবই মিথ্যা।

আপনার কি চোখে সমস্যা? তাহলে আবার,

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদে নিপীড়ক স্বামী হাসান সাঈদ স্ত্রী নির্যাতনের কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছু তথ্য গোপন করে রুমানাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে ওইসব গোপন তথ্যই তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরায়।

হাসান সাইদ বহু আগে থেকেই মিথ্যাচার করে অভ্যস্ত। নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মিথ্যা বলা তার অভ্যাস। নইলে মানুষের সম্পর্ক , যা কি না টিকেই থাকে বিশ্বাসের উপর, সেই সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে নামক চুক্তিটা করেইছে মিথ্যা দিয়ে। রুমানা বিয়ে করেছে ভালোবেসে আর সাইদ করেছে প্রতারণা করে। তারপরেও সাইদের ফ্যান ফলোয়ার এর আধিক্য প্রমাণ করে আমাদের আশে পাশে অনেক সাইদ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এক পর্যায়ে মিথ্যা সন্দেহের ভিত্তিতে রুমানার চোখ চিরতরে নষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কানাডা থেকে ফিরে আসার পরই তা বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পরপরই হাসান সাঈদ নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তার সবই মিথ্যা।

আপনি এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইনটা খুঁজে পাননি?

গ্রেপ্তারের পরপরই হাসান সাঈদ নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তার সবই মিথ্যা।

পোস্টের শিরোণাম – কার মিথ্যা বলার সম্ভাবনা বেশি?

সাইদ এখন নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছে কি কি মিথ্যা সে বলেছিলো। পোস্টের আলোচনার মাধ্যমে দেখিয়েছিলাম, কেমন করে তথ্য, যুক্তি এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে বুঝতে পারা যায়- কার মিথ্যা বলার সম্ভাবনা বেশি। এইটা যারা মনে রাখবেন, ভবিষ্যতে যখন নিজের বোন বা কন্যার উপরে হামলা হবে (হতেই হবে, প্রচুর সাইদের ফ্যান আশে পাশে) তখন কাজে লাগবে। আমি আমার নিজের বোন বা কন্যাকে কি করে বাঁচাবো, এখন সেইটাই ভাবছি।

——————————————————————————————————————
বাংলাদেশে সব সময় যেই ঘটনাটা ঘটে , কোন নারী নির্যাতনের কেস হলেই তাতে আগে নারীর চরিত্রে কলংক লেপনের জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগে। তাতে অধুনা অগ্নিকুন্ডে গব্য ঘৃত ঢালার কাজটা করেছে দুই মায়ের পরকীয়া এবং শিশু হত্যার সাথে জড়িত থাকার ঘটনা। বাংলাদেশের সমাজ যেখানে পুরুষ সর্বান্তকরণে সুবিধাভোগী , শাসক ও শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ, সেখানে পুরুষ দ্বারা নারী হত্যা, শিশু হত্যা, পুরুষের পরকীয়ার ঘটনা এত বেশি চর্বিত চর্বণ যে ব্যাপারটা অনেক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মানুষ , থুক্কু, মেয়ে মানুষ এটুকু মেনেই নিয়েছে যে পুরুষ যেহেতু “মানুষ” তাই তারা দুই চারটা প্রেম, সেক্স, পরকীয়া, ব্যাভিচার, নির্যাতন, খুন করতেই পারে। আগের দিনে পুরুষের বেশ্যা গমন ছিলো কালচার। পরকীয়া কালচার । কেউ কেউ সেইটাতে ধর্ম টেনে “আল্লাহ পুরুষকে দিয়েছেন ভ্রমরের স্বভাব” – অতএব পুরুষের কি দোষ টাইপের মিথ্যা, অসৎ , নোংরা গা বাঁচানো ফতোয়া দিয়ে থাকেন। সুতরাং, ঘটনা যাই ঘটুক, সব সময় মেয়েটারই দোষ।

মেয়েরা শুধু সয়ে যাবে, নিজে কোন অপরাধ করবে না, প্রতিবাদও করবে না- করার মধ্যে করবে শুধু আত্মহত্যা। এই টাইপের দুর্বল, কেঁচো স্বভাবের মেয়েরাই বাংলা সাহিত্যে মহান। ত্যাগী, মুখচোরা, অসীম ধৈর্য্যের অধিকারী – শুধু মাত্র স্বামী/প্রেমিক/সন্তান বিপদে পড়লেই এমন মেয়েদের লড়াই করা সাজে। মানে, মেয়েরা নিজেদের জন্য রক্তপাত করে না- করে অন্য কোন পুরুষের জন্য। তার উপরে প্রেমের খাতিরে সকল বিলাইয়া নিজে বিলাই হইয়া থাকো- শিক্ষা দীক্ষার তো কোন কথাই নাই। ফলত, যারাই এই ডমিনেন্ট ডিস্কোর্সের বাইরে বিন্দুমাত্র মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে- তাদের সবাইকে মর্দ নামক গন্ডারের বেশ্যা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে যায়।

এর পিছনে আর কিছুই না – ২০০০ বছর ধরে ভোগ করে আসা আধিপত্য, যা-ইচ্ছে-তাই করে বেড়ানো – কীট পতঙ্গ চরিত্রের পুরুষের নিজের সামান্য আধিপত্যটুকু হারানোর ভয়। রুমানা মঞ্জুর তার চোখ হারিয়েছেন, সারা শরীরে জখম নিয়ে হাসপাতালের বেডে অসহায় কাঁদছেন- কিন্তু নরকের পতিত কীটরা কিন্তু লেগে গেছে তার চরিত্র হরণে।

দু-দুটো শিশু পরকীয়া সম্পর্কের শিকার হয়ে খুন হয়েছিল। হত্যা করেছিলো পরকীয়া সম্পর্কের সাথে জড়িত পুরুষটি। কেউ তাদের নাম মনে করতে পারেন? তাদের ছবি আছে? ছেপেছিল কোন পত্রিকা? নাহ। সারা পাতা জুড়ে ছিলো শিশু এবং মায়ের ছবি। পর্ণ নামক যৌন সঙ্গমের ছবি গুলোতে শুনেছি মেয়েদের, শিশুদের মুখ ও শরীর প্রদর্শিত হয়। কিন্তু, পুরুষের মুখ থাকে ক্যামেরার বাইরে বা মুখোশ পরিহিত। আমাদের বাংলাদেশের পত্র পত্রিকার খবরের বেলাতেও আমি পাই সেই আশ্চর্য মিল। যেখানে নারী নির্যাতক, সেখানে নারী ও শিশুর ছবি। যেখানে পুরুষ নির্যাতক , সেখানেও বড় বড় করে, পাতা ভরে নারীর ছবি।

ধর্ষনের শিকার পূর্ণিমার ছবি দেখেছেন নিশ্চয়? তার ধর্ষকের ছবি দেখেছেন?

রাহেলার ছবি মনে আছে নিশ্চয়ই? তার ধর্ষকদের ছবি মনে পড়ে? লিটনের ছবি কি বার বার রাহেলা সংক্রান্ত কোন খবরে প্রকাশ পায়?

না পায় না। কারণ পুরুষতান্ত্রিক বাংলাদেশের সমাজে যে সব সাংবাদিক বড় হয়, তাদের মন মানসিকতাও পুরুষতান্ত্রিক। নারীর চোখে বিশ্ব দেখতে চাওয়া তাদের কাছে একটি বিশেষ দিবসের স্লোগান মাত্র। মিডিয়াও তাই নির্যাতিত নারীর পরিচয় বা ছবি গোপন করে না— গোপন করে রাখে নির্যাতক পুরুষের ছবি। এত গেলো মিডিয়া। পাঠকের কি অবস্থা?

একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছি না। যারা বিভিন্ন ব্লগে মন্তব্য করছেন, তারা কি বিন্দুমাত্র পড়ালেখা করে ব্লগে এসেছেন নাকি সার্টিফিকেটধারী কুশিক্ষিত?

বেশ কিছু মন্তব্যকারীর মন্তব্য পড়ে বুঝা যাচ্ছে , বাংলাদেশে শিক্ষিত মূর্খের এবং পশুর সংখ্যা প্রচুর। নিজেরা সামান্য পড়ালেখা করে তারপর কি ঘটেছে সেইটা বুঝার চেষ্টা কারো ভিতরে নেই।

ব্লগের কিছু মন্তব্যকারী যা করছে তা হলো:

১। রুমানাকে তারা চিনেন না । রুমানার বক্তব্য অবশ্যই মিথ্যা।

২। সাইদকে তারা চিনেন না। সাইদের বক্তব্য অবশ্যই সত্য।

এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন কি করে? এর পেছনে যুক্তিটা কি?

ব্লগে বসে মেয়েদের উপর গায়ের জোর দেখানো?

১। সাইদ উচ্চ শিক্ষিত ( অন্তত বুয়েটে ভর্তি হয়েছিল, পাশ করতে পারে নাই) — এইটা প্রমাণ করে সাইদ মেধাবী। কিন্তু এইটা কি ভাবে প্রমাণ করে যে সে সত্যবাদী কিংবা নিরপরাধ?

২। সাইদের ফ্যামিলি শিক্ষিত, ভাল ফ্যামিলি — এইটা তার পরিবারের লোক জন সম্পর্কে সামান্য তথ্য দেয়। কিন্তু তাতে কি করে প্রমাণ হয় যে সাইদ নিজে ভালো মানুষ?

সাইদের ছোট ভাই নাকি ড্রাগ এডিক্ট।

৩। সাইদ এর জীবনে ব্যর্থতার পরিমাণ অনেক- এইটা প্রমাণ করে সে কোন কিছুতেই বেশিদিন লেগে থাকতে পারে না। চোখের সমস্যাটা সত্যি হলেও এই বাংলাদেশেই হাত নেই, পা নেই, চোখ নেই কিংবা টাকা পয়সা নেই — এই ধরনের শারীরিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠে সত্যিকারের ভালো কিছু অর্জন করা মানুষের সংখ্যা কত?

নিশ্চয় একাধিক।

বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে ধরা খেয়ে পথে বসা বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কত?

প্রায় ৩ লাখ পরিবার।

এদের ভিতরে কয়জন মানুষ খুন করার চেষ্টা করেছে? এই সব মানুষ যারা কোন অপরাধ করে নাই – এরা স্বাভাবিক না— সাইদ এর মত পশু, যার সংখ্যা আপাতত একজন , সেই হলো স্বাভাবিক মানুষের মডেল?

মাত্র ১ বছরের সন্দেহ আর মানসিক যন্ত্রনার ফল যদি হয় সাইদ, বউকে অন্ধ করে দেওয়া, মেরে ফেলার চেষ্টা এবং সেইটা কারো কারো কাছে গ্রহনযোগ্য হয় — তাহলে ১০ বছরের , আচ্ছা কমিয়ে ধরি, ৫ বছরের শারীরিক মানসিক নির্যাতন, অকর্মণ্য, বেকার, নির্যাতক স্বামীর সাথে থাকার ফলে রুমানা কেন হিংস্র হয়ে উঠলো না? মানসিক চাপের যাঁতাকলে পড়ে রুমানা কেন কামড়ে, খুবলে নিল না সাইদকে? এই দাবী কেন কতিপয় সাইদ ফ্যান ব্লগার তুলছে না?

৪। আমরা যারা রুমানাকে কলেজ থেকে চিনি, তাদের কথা বিশ্বাস করবেন, নাকি যারা আন্দাজে অনুমানের উপর নির্ভর করে আবোল তাবোল অপবাদ দিয়ে বেড়াচ্ছেন- তাদের কথা বিশ্বাস করবেন?

৫। যারা সাইদকে ছোটবেলা থেকে চিনেন- এমন সহপাঠী বলেছেন সাইদ ছোটবেলা থেকে বিড়াল জাতীয় প্রানী হত্যা করে স্বর্গীয় সুখ পেত।

সাইদ নিজের বাবা মায়ের যৌন সঙ্গম লুকিয়ে লুকিয়ে দেখত , তারপর এসে বন্ধুদের কাছে ডিটেইল বর্ননা দিত।

ক্যাডেট কলেজ এ সাইদ থাকতে পারেনি। এইচ এস সি এর আগেই তাকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়।ভারতের আই আই টি তে ১ বছর থেকে ওখান থেকেও বিতাড়িত হয়। বুয়েটে ভর্তি হলেও শেষ করতে পারেনি। সবই কি চোখের দোষ? এখন হয়ত চোখে ভালো দেখে না, কিন্তু ৫-১০-১৫ বছর আগে যখন চোখ এখনকার মত খারাপ ছিলো না , তখন কেন পড়ালেখা করতে পারেনি?

সহপাঠিরা বলছে তার আচরণে “ইবলিশের” সাথে মিল ছিল (স্কুলের সহপাঠী) । মূলত আচরণের অস্বাভাবিকতার কারণে বিতাড়িত হয়েছে।

মানুষের জীবনে ক্যাডেট কলেজের বন্ধুরা হয় সবচেয়ে ক্লোজ। কখনো কখনো বাপ মা এর চেয়েও বেশি আপন হয়ে যায় ক্যাডেটের বন্ধু। ব্লগের ক্যাডেটরা এই কথার সত্যতা প্রমাণ করতে পারবেন। অথচ সাইদের ক্যাডেটের সহপাঠীদের কারো সাথেই গত ১৭-১৮ বছর ধরে কোন যোগাযোগ নেই।

৬। সাইদ কোন কাজেই বেশিদিন লেগে থাকতে পারে নাই। না পড়ালেখা, না ব্যবসা, না শেয়ার বাজার। — এইটা প্রমাণ করে তার কোন বিষয়েই খুব বেশি ধৈর্য্য থাকে না। এর পাশাপাশি , সাইদ পরিশ্রমী নয়। অধ্যাবসয়ী নয়। অন্য কারো উপরে বসে বসে খেতে তার কোন আপত্তি নাই।

তার এক আত্নীয়ের বর্ননায় পাওয়া যাচ্ছে – ব্যবসা সফল হতে হলে যেই স্কিল গুলো লাগে- অফিস ম্যানেজমেন্ট, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা — কোনটাই তার ভিতরে দেখা যায় নি।

৭। রুমানার নিজের বর্ণনায় পাওয়া যায় বিয়ের পর থেকেই সাইদ তাকে নির্যাতন করেছে। দিন কে দিন সেইটা বেড়েছে কেবল।

৮। আজ পর্যন্ত মানুষের ৬-৭ হাজার বছরের ইতিহাসে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি বার দেখা গেছে ধরা পড়ার পর অপরাধী সব সময় নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। তারপর ভিকটিমের উপরে দোষ চাপায়। এবং অবশ্যই অবশ্যই মিথ্যা কথা বলে । ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলে।

সাইদ কেন এর ব্যাতিক্রম হবে?

৯। অপরাধী যত রকম গল্পই সাজাক না কেন – যুক্তিবাদী মানুষ ফিজিকাল প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, অপরাধের পেছনে মোটিভ এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি দিয়ে বুঝার চেষ্টা করে কোন গল্পটা সত্যের কাছাকাছি। গল্পের সব কয়টা ভার্সনের মধ্যে কোনটা সবচেয়ে যুক্তিগ্রাহ্য এবং কোনটার পক্ষে প্রমাণ সবচেয়ে বেশি।

সাইদকে যারা ছোটবেলা (স্কুল) থেকে বড় বেলা পর্যন্ত চিনে, তাদের সকলেই বলছে তার আচরণে বরাবরই সমস্যা ছিলো। তার আচরণগত সমস্যা এবং চোখের সমস্যা- এই দুই মিলিয়ে সে অনেক আগে থেকেই ব্যর্থ, এবং ডিস্টার্বড মানুষ।

এর বিপরীতে রুমানাকে যারা ছোট বেলা (স্কুল) থেকে বড় বেলা পর্যন্ত চিনে, তাদের সকলেই ( আত্মীয়, বন্ধু, সহপাঠী, ছাত্র ছাত্রী, কলিগ সবাই) এক বাক্যে স্বীকার করেছে , মানুষ হিসেবে রুমানা প্রচন্ড মমতাময়ী, বন্ধুসুলভ, ভালো মানুষ। মেধাবী এবং সফল তো বটেই।

এর পর আসুন দেখি, কার বক্তব্য কি?

১। রুমানা যে বর্ননা দিয়েছে ৫ই জুনের এবং সাইদের আচরনের – সেইটা স্কুল লাইফ থেকে আজকে পর্যন্ত একটা ধারাবাহিকতা আছে। অনেক কিছুই খাপে খাপে মিলে যায়।

২। সাইদ যে বর্ননা দিয়েছে ৫ই জুনের তার সাথে রুমানার শারীরিক জখমের কোন কিছুই মিলে না। রুমানার চারিত্রিক বর্ননাও মিলে না। বরং, ১০ বছরের অশান্তি, সাংসারিক নির্যাতনের পরে কেউ যদি আলাদা হতে চায়- তাহলে নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু , এর সপক্ষে কোন প্রমাণ সাইদ দিতে পারেনি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে রুমানার মত এট্রাক্টিভ, সফল, জনপ্রিয়, সুন্দরী মেয়ের পরকীয়া করার ইচ্ছা থাকলে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে কি?

বাংলাদেশে এখন নাকি হরদম লোক জন পরকীয়া করে বেড়ায়। একলা রুমানারই কানাডা যাওয়ার দরকার পড়লো? তাও আবার ইরানী যুবক যাকে ফেসবুকে খুজে পাওয়া যায় না?

লক্ষ্য করে দেখেন, সাইদ গল্পটা সাজিয়েছে এমন ভাবে যাতে আমরা কেউই সহজে সেইটার সত্যমিথ্যা যাচাই করতে না পারি- দেশটা কানাডা, পাত্রও ইরানী। বেশ রুপকথা টাইপ ভাব আছে।

তারপরেও ধরে নেই, ইজ ইট পসিবল?

ইয়েস।

ইজ ইট প্রবাবল?

নো।

রুমানা এবং সাইদের ভিতরে মিথ্যা বলার সম্ভাবনা কার বেশি?

সাইদের।

নিজেকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা বলার প্রয়োজন কার বেশি?

সাইদের।

কার গল্পে অসঙ্গতি বেশি?

সাইদের।

এখন আসুন দেখি একজন সাইকোপ্যাথ বা সোসিওপ্যাথ ধরণের অপরাধীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ

Profile of the Sociopath

common features of descriptions of the behavior of sociopaths.

১। Glibness and Superficial Charm– মেকি ভদ্রতা বা মিষ্টতা যেইটা বেশিদিন ধরে রাখতে পারে না।

২। Manipulative and Conning – অন্যকে প্রভাবিত করার মত চালাক চতুর এবং প্রতারক

They never recognize the rights of others and see their self-serving behaviors as permissible. They appear to be charming, yet are covertly hostile and domineering, seeing their victim as merely an instrument to be used. They may dominate and humiliate their victims. — অন্য কারো অধিকার স্বীকার করে না। নিজের স্বার্থপরতাকেই সঠিক বলে মানে। তারা আপাত দৃষ্টিতে মিষ্ট বা নরম স্বভাবের কিন্তু ভিতরে ভিতরে হিংস্র, প্রভুত্ব দেখায় এবং তার ভিকটিমকে ব্যবহারের বস্তু ভাবে। ভিকটিমকে প্রায়ই ডমিনেট করে, এবং অপমান করে।

৩। Grandiose Sense of Self

Feels entitled to certain things as “their right.”— নিজের সম্পর্কে অতি উচ্চ ধারণা করে এবং কিছু সুবিধা, সুযোগ বা ভোগ বিলাসকে নিজের “প্রাপ্য অধিকার” বলে মানে।

৪। Pathological Lying

Has no problem lying coolly and easily and it is almost impossible for them to be truthful on a consistent basis. Can create, and get caught up in, a complex belief about their own powers and abilities. Extremely convincing and even able to pass lie detector tests.

এরা এতটাই নিখুঁত মিথ্যাবাদী যে ঠান্ডা মাথায়, সহজেই যে কোন মিথ্যা বলতে পারে। ধারাবাহিকভাবে সত্য বলা এদের পক্ষে অসম্ভব। নিজের শক্তি ওঁ ক্ষমতা সম্পর্কে মিথ্যা গল্প বানাতে বানাতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, এবং নিজেই তার ভিতর ডুবে যায়। মিথ্যা নিরুপণকারী যন্ত্রকে ফাঁকি দিতে পারে।

৫। Lack of Remorse, Shame or Guilt-– এদের কোন লজ্জা, অনুতাপ বা অপরাধবোধ নেই।

A deep seated rage, which is split off and repressed, is at their core. Does not see others around them as people, but only as targets and opportunities. Instead of friends, they have victims and accomplices who end up as victims. The end always justifies the means and they let nothing stand in their way.—- অত্যন্ত গভীর হিংস্র ক্রোধ, যা দ্বিধাবিভক্ত এবং চাপা থাকে এদের ভিতরে। তার চারপাশের কাউকে সে মানুষ মনে করে না। সব সময় মনে করে শিকার এবং সুযোগ হিসেবে। বন্ধুর বদলে তারা ভিকটিম তৈরী করে এবং যারা তাকে সাহায্য করে তারাও এক সময় ভিকটিম হয়। নিজে যা চায় সেইটা আদায়ের পথে কোন বাধাকেই তারা মানে না । ( নিজের মেয়ের কান্না সাইদকে থামাতে পারেনি)

৬। Shallow Emotions – অগভীর অনুভূতি

When they show what seems to be warmth, joy, love and compassion it is more feigned than experienced and serves an ulterior motive. Outraged by insignificant matters, yet remaining unmoved and cold by what would upset a normal person. Since they are not genuine, neither are their promises. যখন তারা দেখায় যে তারা (সাইকোপ্যাথরা) ভালোবাসে, তখন আসলে সেইটা স্বার্থ উদ্ধারের উপায় হিসেবে একটা অস্ত্র মাত্র। সাইকোপ্যাথরা ভালোবাসা, মায়া, মমতা অনুভব করে না- স্রেফ ভান করে, ব্যবহার করে। যেহেতু তারা সত্যিকারের কোন অনুভব করে না, তাই দেখা যায় অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হিংস্র আক্রমণ করছে, আবার স্বাভাবিক মানুষ সহ্য করতে পারে না – এমন সব ঘটনায় তারা নির্বিকার ( পাঠক কি মিল ধরতে পারছেন?)

৭। Incapacity for Love – ভালো বাসতে পারে না

৮। Need for Stimulation- সারাক্ষণ উত্তেজনা দরকার হয়
Living on the edge. Verbal outbursts and physical punishments are normal. Promiscuity and gambling are common. ঝুকি পছন্দ। মৌখিক চ্যাচামেচি এবং শারীরিক আঘাত কমন। ব্যাভিচার , জুয়া ইত্যাদিওঁ।

(সাইদ নিজে ব্যাভিচারী বলেই কি রুমানাকে সন্দেহ?)

৯। Callousness/Lack of Empathy- সহমর্মিতা বিহীন

Unable to empathize with the pain of their victims, having only contempt for others’ feelings of distress and readily taking advantage of them.

অন্যের ব্যথা বা কষ্টের সাথে সহমর্মি হয় না। অন্যের দুর্বলতার প্রতি স্রেফ ক্ষোভ থাকে এবং সেইটার সুযোগ নিতে রেডি থাকে।

১০। Poor Behavioral Controls/Impulsive Nature — আচরণগত সমস্যা

Rage and abuse, alternating with small expressions of love and approval produce an addictive cycle for abuser and abused, as well as creating hopelessness in the victim. Believe they are all-powerful, all-knowing, entitled to every wish, no sense of personal boundaries, no concern for their impact on others.

রাগ এবং নির্যাতন, তার পর পরই ছোট খাট প্রেমময় বা সুন্দর আচরণ- এই সাইকেল সাইকো প্যাথ এবং তার ভিকটিমের মধ্যে এক অদ্ভুত সংযোগ গড়ে তুলে। ভিকটিম প্রতিবারই ভাবে – মাফ করে দেই। আর হবে না। ওঁ ভালো হয়ে গেছে। ভুল বুঝতে পেরেছে । কিন্তু অবধারিত ভাবেই আবার আউট বার্স্ট হয়।

রুমানা কেন ১০ বছর তালাক দেয়নি, এই হলো তার কারণ।

১১। Early Behavior Problems/Juvenile Delinquency
Usually has a history of behavioral and academic difficulties, yet “gets by” by conning others. Problems in making and keeping friends; aberrant behaviors such as cruelty to people or animals, stealing, etc.

ছোট বেলা থেকেই আচরণে সমস্যা এবং পড়ালেখায় সমস্যার ইতিহাস থাকে। কিন্তু অন্যদেরকে প্রতারণা করে চালিয়ে নেয়। বন্ধু বানাতে বা টিকিয়ে রাখতে পারে না। অন্য মানুষ, ছোট খাট প্রাণিদের প্রতি নৃশংস আচরণ , চুরির ঘটনা থাকে।

১২। Irresponsibility/Unreliability
Not concerned about wrecking others’ lives and dreams. Oblivious or indifferent to the devastation they cause. Does not accept blame themselves, but blames others, even for acts they obviously committed.

দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। অন্যের জীবন ও স্বপ্ন ভাঙতে দ্বিধা করে না। কি ক্ষতি করছে অন্যের তার প্রতি উদাসীন থাকে। নিজের দোষ দেখে না, সব সময় “অন্যের” দোষ খুঁজে বেড়ায়, এমনকি যেইখানে তার নিজের দোষ প্রমাণিত – সেখানেও।

১৩। Promiscuous Sexual Behavior/Infidelity
Promiscuity, child sexual abuse, rape and sexual acting out of all sorts.

পরকীয়া, ব্যাভিচার, শিশু ও নারীদের যৌন নির্যাতন করতে পারে।

১৪। Lack of Realistic Life Plan/Parasitic Lifestyle
Tends to move around a lot or makes all encompassing promises for the future, poor work ethic but exploits others effectively.

বাস্তবধর্মী কোন জীবনের লক্ষ্য থাকে না বা পরজীবী জীবন যাপন করে ।

( সাইদ এর সাথে পুরাপুরি মিল)

একটানা কোন কিছু করে না। প্রচুর পরিবর্তন করে , অনেক প্রমিস দেখায়, কিন্তু কাজে কর্মে লবডঙ্কা কিন্তু অন্যদের ব্যবহার করতে সিদ্ধহস্ত।

১৫। Criminal or Entrepreneurial Versatility
Changes their image as needed to avoid prosecution. Changes life story readily.

নিজেকে বাঁচাতে বা অপরাধ ঢাকতে নিজের চেহারা , জীবনের গল্প পালটে ফেলে অহরহ।

—————————————-
এরপরেও যারা ভাবছেন, সাইদের মত ছেলে কি করে এই কাজ করে কোন কারণ ছাড়া ( রুমানার উপযুক্ত দোষ ছাড়া) , তারা অনুগ্রহ করে গুগুলে সাইকোপ্যাথ বা সোসিও প্যাথ লিখে সার্চ দেন। যে সব অপরাধীর ইতিহাস জানবেন তাদের প্রতিবেশীরা কোনদিন বিশ্বাস করতে পারে নাই যে তারা কত বড় অপরাধী বা খুনির প্রতিবেশী ছিলো।

সাইকো/সোসিওপ্যাথরা পাগল না । এরা হলো ঠান্ডা মাথার, মেধাবী, সেয়ানা অপরাধী এবং খুনি।

অপরাধ জগতে এই সাইকোপ্যাথ ও সোসিওপ্যাথদের ভিতরে টেড বান্ডি হলো সবচেয়ে পরিচিত, কুখ্যাত। সবাই টেড বান্ডির মত হয় না। তারা আশে পাশের পরিচিত , সাধারণত স্বামী/স্ত্রী/বাপ-মা/ ভাই বোনের উপর অত্যাচার করে করে টিকে থাকে।

দুঃখিত, এর কোন চিকিৎসা নেই।

—————————–
তথ্যসূত্রঃ ব্যক্তিগত পরিচয়, সামহোয়ার ইন ব্লগ, সচলায়তন ব্লগ, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা, ইন্টারনেট ওয়েব সাইট, ব্যক্তিগত পড়ালেখা, পরিচিত সাইকোলজিস্ট এবং সাইক্রিয়াটিস্ট কলিগ