ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আমি যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি পাশের বাড়ির আন্টি, আংকেল অথবা নিজেদের অনেক আত্মীয়স্বজনদের তাদের ছেলেমেয়েদের ভুরিভুরি প্রশংসা করে নানান সময় নানান কিছু বলতে। আমার ছেলে এই, আমার মেয়ে সেই… এই প্রাইজ পেয়েছে, ওখানে গান গেয়েছে, স্পোর্টস কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক সময় ব্যাপারগুলো হতো, “যত গর্জে তত বর্ষে না” ধরণের। আমরা দুই ভাই-বোন মোটামুটি মেধাবীই ছিলাম, বাবা-মা গর্ব করতে পারেন এই টাইপ। কিন্তু তাদের কখনও দেখতাম না আন্টি, আংকেলদের সাথে আমাদের নিয়ে তেমন কোন কথাবার্তা বলতে। হয়তো বলত, কিন্তু সে কথা এক লাইনেই শেষ। অথচ চাইলেই আরও ২-৩ লাইন অনায়াসে যোগ করা যায়। মেজাজটাই খারাপ লাগত। একদিন আম্মুকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম। আম্মু বলল, “আমার সন্তানরা যদি আসলেই ভাল হয়, মেধাবী হয়, সেটা আর দশজন বলবে, আমাকে বলে বেড়াতে হবেনা।” আমার মনে পড়ে না আর কখনও আমি আম্মুকে এই ব্যপারে কোন প্রশ্ন করেছি। এখন এমন অবস্থা যে কেউ প্রশংসা করলে আমি লুকানোর জায়গা খুঁজি, কান লাল হয়ে যায়, অস্বস্তিতে যে কথা বলছে তার দিকে ঠিকমত তাকাতেও পারি না।

যাই হোক, এখন যখন দেখি কাউকে নিজের ঢোল বাজানোর চেষ্টা করছে অথবা নিজের সন্তানের কৃতিত্বের ঢোল বাজাচ্ছে, তখন মনে মনে হাসি। অনেক মানুষ এই কাজটা করে এক ধরণের শান্তি অনুভব করেন। আমিও একই দোষে দোষী কারণ আমিও মাঝে মাঝে করে ফেলি, কিন্তু সেটা করি কারও কারও কর্মকান্ড আর কথাবার্তাতে চরম বিরক্ত হয়ে। এটি আমার বিরক্তি প্রকাশের একটি উপায়। নিজেকে অন্য আর দশজনের চাইতে আলাদা অথবা উৎকৃষ্ট দেখাবার জন্য নয়।

“আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়/ লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়। বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার/ সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার। গুণেতে হইলে বড়, বড় বলে সবে/ বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।”