ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

একটা সময় ছিল যখন ছোট ছেলেমেয়েদের দাবা খেলা শেখানো হত। মনে আছে আমাদের খুব অল্প বয়সে – হয়ত ছয় কি সাত বছর হবে – আমাদের বাবা আমাদের জন্য দাবার সেট কিনে এনেছিলেন বাসায়। বোর্ডটা ছিল নীল রঙের। আমি আর ভাই মহা উৎসাহে দাবা খেলা শিখলাম। খুব মজা পেয়ে গেলাম। বাবা বলেছিলেন, দাবা নাকি মস্তিষ্কের জন্য ভাল – দাবা খেললে বুদ্ধি বাড়ে। যাই হোক, আমি আর ভাই প্র‍্যতিদিন কয়েক দান দাবা খেলতাম। বন্ধের দিনগুলোতে বাবার সাথে বাজি ধরে দাবা খেলতাম – আমি জিতলে বাবা ১০ টাকা দিবেন। বাবা জিতলে আমার কিছু দিতে হবে না। জানিনা আমার বাবা ইচ্ছে করেই আমার কাছে হারতেন কিনা কারণ আমি বেশ কয়েকবার ১০ টাকা জিতেছিলাম।

এখনকার ছেলেমেয়েদের দাবা খেলতে চোখে পড়ে না। তারা ব্যস্ত টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন আর ট্যাবলেট নিয়ে। তাদের বেশিরভাগ খেলাগুলো স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ। এত লম্বা সময় টিভি, ট্যাবলেট নিয়ে কাটানোর কুফল আমরা ভবিষ্যতে টের পাব – বাচ্চাদের মন আর চোখের উপর চাপ পড়ছে। আমেরিকান একাডেমি অফ পিডিয়াট্রিক্স বলে, বাচ্চাদের ১-২ ঘন্টার বেশি টিভি, কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা!

বাচ্চাগুলোর জন্য খারাপ লাগে। নিজের শৈশবের কথা ভাবি – তখন মনে হয় আমাদের শৈশবটাই ভাল ছিল, পৃথিবীটা আজকের মত বস্তুবাদী ছিল না, সবার জন্য সবার সময় ছিল, মানুষ সময় কাটাত মানুষের সাথে – যন্ত্রের সাথে নয়। সেদিন কি যেন একটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে দাবার কথা মনে হল। আমার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে, ইচ্ছে আছে ওকেও দাবা খেলাটা শেখাব একদিন। দাবার সাদা-কাল ঘুঁটি আর তার নিয়ম-কানুনের ভিতর যে লুকিয়ে আছে মস্তিষ্ক প্রখর করার জাদুর কাঁঠি!

slide