ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

দেশে থাকতে কখনও এই ঝামেলা কাঁধে নিতে হয়নি, বাবা-মার ঘাড়ের উপর দিয়ে সুন্দর পার পেয়ে গেছি। অবশ্য বয়সও কম ছিল। তার চেয়ে বড় ব্যপার, বাবা-মা তাদের সন্তানদের ওপর বাসা খোঁজার দায়ীত্ব দিয়ে তাদের রাতের ঘুম হারাম করতে চাননি। যাই হোক, প্রথম বাসা খুঁজলাম দেশে থাকতেই কিন্তু সেটি দেশের কোন ঠিকানায় নয়, আমেরিকাতে। গুগল করে করে ১২টা কোম্পানীর ঠিকানা বের করে ফোন করা শুরু করলাম। সেই সময় একটি মোবাইল ফোন কোম্পানীতে কাজ করবার সুবাদে মাসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফোনে ৩,০০০ টাকার ক্রেডিট পেতাম – শেষ মাসের টাকা এসব ফোন করে করেই শেষ করেছিলাম!

যেখানেই ফোন দেই বলে দেয় যে এক বেডরুমের কোন বাসা খালি নেই। মাথায় পাহাড় ভেঙ্গে পরার মত অবস্থা হলো। নতুন দেশে যাচ্ছি, মাথা গোঁজার জায়গা না পেলে তো মহাসমস্যা। এটা তো বাংলাদেশ না যে বাসা থেকে রাগ করে বের হয়ে গেলেও থাকবার জায়গার কোন অভাব হবে না – আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব দিয়ে শহর ভর্তি।

বারোখানে ফোন দিয়েও যখন কোন ব্যবস্থা হলো না তখন ফেসবুকের উপর ভরসা করলাম। খুঁজে পেতে চেষ্টা করলাম সেই শহরে কোন বাংলাদেশী মেয়ে আছে কিনা – পেলামও একজন। মেয়েটি আমাকে একটি এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ঠিকানা দিল। সেখানে ফোন দিতেই জানলাম তাদের একটি এক বেডরুমের এ্যাপর্টমেন্ট খালি আছে। মাথা পাতলা হলো। গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। আর সেই মেয়ের কাছে আমি এখনও কৃতজ্ঞ।

পাশ করবার পর বরের চাকরির সুবাদে বাসা বদল করতে হবে আর তখনই বুঝলাম বাসা বদল কি জিনিষ। মালপত্র টানাটানির চাইতেও বড় সমস্যা একটি মনের মত বাসা খুঁজে পাওয়া। কিন্তু এখানে সুবিধাও আছে। rent.com, forrent.com, apartmentfinder.com, craigslist.org এর হাজার হাজার এ্যপার্টমেন্ট লিস্টিং থেকে খুঁজে নেয়া যায় নতুন ঠিকানা। বাসার ছবি, ফ্লোর প্লান থেকে শুরু করে মালিকের ফোন নাম্বার, ইমেইল এ্যাড্রেস ইত্যাদি সবই থাকে ওখানে। গুগল ম্যাপের লিংক থাকে ভবিষ্যত ভাড়াটিয়ার সুবিধার্থে।

খুব সম্ভবত নতুন শহরে চলে যাচ্ছি। আবারও শুরু হয়েছে নতুন ঠিকানা খোঁজা। তাই দিনের বেশিরভাগ সময় আজকাল চলে যাচ্ছে উল্লিখিত সাইটগুলোতে ঘুরে ঘুরে।