ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

61_cristmass_251213

শুভ্র সাদার বদলে মিনেসোটাতে ২০১১ সালে খয়েরি বড়দিন উদযাপিত হয়েছিল। তুষারে ঢাকা বড়দিন হলো না বলে অনেকের মন খারাপ ছিল যদিও। কোনো বিচিত্র কারণে শীতের অনেকটা সময় ধরে তুষারের উঁকিঝুঁকি ছিল না। আমি নিজে খুশি ছিলাম কারণ দিনের পর দিন তুষারপাত ভাল লাগেনা। যাই হোক, এখানে বড়দিনে ধর্মীয় আচারের চাইতে ফানটাই বেশি মনে হয়। বেশিরভাগ মানুষ ব্যস্ত থাকে ক্রিসমাস গাছ, কেনাকাটা, উপহার, খাওয়া-দাওয়া আর স্যান্টা ক্লজকে নিয়ে।

আমার এক নাইজেরিয়ান বন্ধু আছে, সে পেশায় একজন ক্যাথলিক ধর্মযাজক। সে একবার আমাকে বলছিল, আমেরিকাতে বড়দিনটা অনেকের কাছে একটি মজা করবার উপলক্ষ্য মাত্র। অনেক মানুষ আছে যারা গির্জামুখো পর্যন্ত হন না এই বিশেষ দিনে অথচ বাসাবাড়ি সাজিয়ে, রান্না-বান্না করে তুলকালাম কাণ্ড করেন এই দিনকে ঘিরে। নাইজেরিয়াতে বা অন্যান্য দেশে অনেক ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি।

বড়দিনের সপ্তাহ খানেক আগে মলে গেলেই দেখতাম ছোট বাচ্চদের বড় লাইন কিছু একটা ঘিরে। কী ব্যপার? তারা মলের স্যান্টা ক্লজের সাথে ছবি তুলতে চায়। স্যান্টা এই দেশের শিশুদের জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে।

বড়দিনটা কোনভাবে কাটিয়ে আবারও সবাই কেনাকাটায় নেমে পড়ে। ২৬শে ডিসেম্বরে দোকানপাটে বড় ধরণের সেল থাকে। আমরা মলে গিয়ে দেখলাম পার্কিং এর কোন জায়গা নেই। বাংলাদেশে ঈদের পরদিন এই দৃশ্য কখনও দেখা যাবে কিনা জানিনা।

এখানে ভিন্ন ধর্মালম্বীরাও ঘটা করে বড়দিন পালন করেন। ক্রিসমাস গাছ, উপহার, টার্কি অথবা স্টেক থাকে রাতের খাবার হিসেবে। অনেক বাঙালি আবার দেখি এটিকে বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখেন – তাদের কাছে বড়দিন আর দশটা দিনের মতই। বড়দিন পালন করুক কি না করুক, পরদিন কেনাকাটা করতে বের হয় না এমন মানুষ কমই দেখেছি। বিশেষ করে খুব কম মেয়েই সেদিন শপিং মল থেকে দূরে থাকতে পারে।

২০১১তে খয়েরি বড়দিন হয়েছিল, তার মানে ঠাণ্ডা ছিল কম। মানুষের ঢল তাই বোধহয় একটু বেশিই চোখে পড়েছিল শপিং মলে ২৬শে ডিসেম্বর।